জিহাদের ঘটনা | আমার কথা
×

 

 

জিহাদের ঘটনা

coSam ২৬১


এক জিহাদের জন্য হযরত সুলাইমান (আঃ) প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। এমন সময় এক বিকালের কর্মচারীদের নির্দেশ দিলেন, জিহাদের জন্য যে সকল ঘোড়া আলাদা করে রাখা হয়েছে এ সব ঘোড়া যেন তার সামনে হাযির করা হয়। তিনি ঘোড়ার জাত ও প্রকার সম্পর্কে এবং কোন অশ্ব জিহাদের জন্য উত্তম হবে সে সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। ঘোড়াসমূহ তার সামনে আনার পর তিনি দেখলেন পেশ কৃত ঘোড়াসমূহের মধ্যে প্রত্যেকটি তেজস্বী ও জিহাদের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। এতে তিনি খুব খুশী হলেন এবং বললেন, এ ঘোড়াসমূহের প্রতি আমার ভালবাসা আল্লাহ তাআলার যিকিকের অন্তর্ভুক্ত। হযরত সুলাইমান (আঃ) ঘোড়াগুলো সম্পর্কে ভাবছিলেন-এমতাবস্থায় তার অলক্ষ্যে অশ্বসমূহ আস্তাবলের দিকে ফিরে গেল। অনন্তর যখন দেখলেন যে, ঘোড়াসমূহ তার সামনে নেই তখন তিনি হুকুম দিলেন ঘোড়াগুলো যেন পুনরায় তার সামনে আনা হয়। পুনরায় ঘোড়াসমূহ তার সামনে আনা হল। এদের প্রতি তার অত্যাধিক মহব্বত থাকায় তিনি এদের পীঠে, গর্দানে ও পায়ে হাত বুলালেন। এ অবস্থায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসল এমন কি সূর্য ডুবে গেল। হযরত সুলাইমান (আঃ) সর্বদা আসরের নামায আদায় করতেন। কিন্তু আজ ঘোড়া দেখা শুনায় লিপ্ত থাকার কারণে তার আসরের নামাজ ছুটিয়া গিয়েছে। তাই তিনি সবগুলো অশ্বই আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী করে দিলেন। তার শরীয়তে ঘোড়া কোরবানীও দুরুস্ত ছিল। এগুলো তার নিজস্ব সম্পদ ছিল। সরকারি সম্পদ ছিল না। এক বর্ণনায় এসেছে যে, আসরের নামায কাযা হয়ে যাওয়ায় তিনি খুব দুঃখিত হলেন এবং তখন তিনি আল্লাহর কাছে আবেদন করলেন সূর্যকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যাতে তিনি আসরের নামাজ পড়তে পারেন। আল্লাহ তার দোয়া কবূল করে সূর্য ফিরিয়ে দিলেন। তিনি নামায আদায় করলেন। অতঃপর সূর্য আবার অস্ত গেল। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন- অর্থঃ যখন সন্ধ্যায় সময় ধাবমান উত্তম ঘোড়াসমূহ তার সামনে পেশ করা হল তখন তিনি বললেন যে, আমি এ সম্পদের মহব্বেতে পড়ে রবের স্মরণ হতে গাফেল হয়ে গিয়েছি। এমনকি সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে পড়েছে। অতঃপর তিনি বলেন, এ ঘোড়াগুলো পুনরায় আমার সামনে নিয়ে আস। তার সামনে আনয়ন করার পর তিনি ঘোড়াসমূহের পা এবং গর্দানসমূহ হাতের দ্বারা সাফ করা শুরু করলেন।

পরবর্তী গল্প
বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণ

পূর্ববর্তী গল্প
নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী