জান্নাতের অবস্থা দর্শন | আমার কথা
×

 

 

জান্নাতের অবস্থা দর্শন

coSam ১৩৭


হযরত আবূ আহমদ হাল্লাছ (রহঃ) বলেন, আমার মা বড় নেককার ছিলেন। একবার আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ অনাহারে বেশ কষ্ট পাচ্ছিলাম। আমার বৃদ্ধ মা ক্ষুধায় কাতর হয়ে একদিন আমাকে ডেকে বলল, বেটা! এভাবে আর কত দিন কষ্ট করব। আমি তার কথায় কোন উত্তর দিতে পারলাম না। শেষ রাতে আমি আল্লাহ পাকের দরবারে আরজ করলাম, হে পরওয়ারদিগার আলম! আমাদের জন্য যদি আখেরাতে কিছু রেখে থাক, তবে তা হতে কিছু অংশ দুনিয়াতে দান কর।

আমি মোনাজাত শেষ করার সাথে সাথে দেখলাম, ঘরের এক কোনে একটি নূর জ্বল জ্বল করছে। আমি নিকটে গিয়ে দেখলাম, উহা একটি স্বর্ণের পালংকের পায়া এবং তা বহু মূল্যবান মনি মুক্তা দ্বারা কারুকার্য করা। আমি ঐ পায়টি মার নিকট রেখে তা থেকে কয়েকটি মুক্তা নিয়ে বাজারে বিক্রয় করতে গেলাম। আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখলাম, আমার মা আমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দেখা  মাত্র নিকটে এসে তিনি বললেন, আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও। আমি আর তোমার নিকট দুনিয়ার কোন বস্তু চাইব না।

তুমি ঘর থেকে বের হওয়ার পরই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুমের ভিতরে স্বপ্নে দেখলাম, আমি বেহেস্তে প্রবেশ করেছি। সেখানে একটু সুরৌম্য মহলের দরজায় লেখা ছিল, এই মহলটি আবু আহমদ হাল্লাছের। আমি তথায় এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম, এ মহলটি কি আমার ছেলের? সে বলল, হ্যাঁ! অতঃপর আমি সেই মহলে প্রবেশ করে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন কক্ষ দেখতে লাগলাম। একটি কক্ষে বেশ কয়েকটি মূল্যবান পালংক সাজানো ছিল। কিন্তু এই পালংক গুলোর মধ্যে ভাগের কাঠগুলো ছিল ভাঙ্গা। আমি এক ব্যক্তি কে বললাম, এমন সুন্দর পালংকের মধ্য ভাগের ভাঙ্গা কাঠ বড় বেমানান দেখা যাচ্ছে। লোকটি বলল, ঐ কাঠ ভেঙ্গে তোমাকে দেওয়া হয়েছে। আমি বললাম, তুমি তা যথাস্থানে এনে রেখে দাও। একথা বলার সাথে সাথে লোকটি অদৃশ্য হয়ে গেল। এবং আমিও ঘুম থেকে জেগে উঠলাম।

আল্লাহ পাকের অসংখ্য শুকুর যে, তিনি আমাদের কে যথা সময় সর্তক করেছেন। অপর এক বুজুর্গ বলেন, একবার আমি রোম দেশে ছফর করছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, আমার সাথের সহযাত্রীটি ক্রমাগত এগারো দিন যাবৎ আহার পানি কিছুই গ্রহণ করছে না। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, তোমার নিকট থেকে যখন পৃথক হব তখন এর কারণ বর্ণনা করব। পরে সে বিদায় হওয়ার সময় বলল, একবার আমরা চারশ' মুজাহিদ কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করছিলাম। ঘটনাক্রমে মুসলিম সেনাদের সকলেই একে একে শাহাদাত বরণ করল। চারশ' মুসলিম মুজাহিদের মধ্যে একমাত্র আমিই জীবিত ছিলাম। আমি নিহত মুজাহিদের সাথে মৃতের মত পড়েছিলাম। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর হঠাৎ আমার মন হল যেন আকাশ হতে সুগন্ধি বর্ষন হচ্ছে। আমি চোখ খুলে দেখতে পেলাম, আকাশ থেকে একদল রুপসী হুর অবতরণ করে শাহাদাত প্রাপ্ত মুজাহিদদেরকে শরবত পান করাচ্ছে। এমন সুন্দরী নারী আমি জীবনে আর কখনো দেখিনি। তাদের  সবার হাতেই সরাবের পেয়ালা ছিল।

আমি চোখ বন্ধ করে মৃতের মত পড়ে রইলাম। যখন আমার পালা আসল তখন একজন বলল, এ ব্যক্তিকে তাড়াতাড়ি শরবত পান করিয়ে আকাশে ফিরে চল। অন্যথায় আকাশের  দরজা বন্ধ হয়ে গেলে জমিনেই আটকা পড়তে হবে। দ্বিতীয় জন বলল, এ ব্যক্তির দেহে এখনো প্রাণ অবশিষ্ট আছে। তৃতীয় জন বলল, হে বোন! ভয়ের কোন কারণ নেই তাকে পান করাও। অতঃপর আমাকে শরবত পান করানো হল। ঐ শরবত পান করার পর জীবনে আর কখনো আমার ক্ষুধা-পিপাসা  হয়নি।

পরবর্তী গল্প
এক আর্দশ বুজুর্গের কাহিনী

পূর্ববর্তী গল্প
এক যুবকের সুগন্ধির রহস্য

ক্যাটেগরী