জংগলের ওলী | আমার কথা
×

 

 

জংগলের ওলী

coSam ৩৩৯


হযরত শিবলী (রঃ) বলেন, মক্কাতে আমি এক বেদুইনকে দেখলাম, সে সুফিলোকদের সেবা করছিল। আমি তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, আমি এক নির্জন বনে ছিলাম, সে এক গোলাম শরীর বস্ত্রহীন ছিল, তার কাছে ভ্রমন পাথেয় ছিল না, না কোন হাতিয়ার বা লাঠি ছিল। আমি মনে মনে ভাবলাম আমি যদি এ যুবকের সাথে মিশতে পারি, তবে সে ক্ষুধার্ত হলে তাকে আহার করাব। সে তৃষ্ণার্ত হলে তাকে পানি পান করাব। এ বহুবিধ চিন্তার পর আমি তার দিকে যেতে লাগলাম। শেষ ফলে আমার এবং তার মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান হল।

হঠাত করে দেখলাম সে আরো বহুদূর চলে গেল। এমনকি সে আমার দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে গেল। আমি বললাম, হয়ত সে শয়তান ছিল। এ সময় আওয়াজ হল, সে শয়তান নয় বরং সে আল্লাহর মহব্বতে উম্মত ছিল। তখন আমি তাকে ডাক দিলাম। হে অমুক। যে সত্তা নবী করিম (সাঃ) কে প্রেরণ করেছেন তার উছিলা দিয়ে বলছি তুমি আমার জন্য একটু থাম। সে তখন বলল, ওহে যুবক তুমি আমাকেও আটকে দিলে এবং নিজেকে আটকে দিলে। আমি তখন বললাম, আমি আপনার নিকট একাকী এসেছিলাম আপনার খেদমত করার জন্য। সে জবাব দিল যার সাথে আল্লাহ আছে সে আবার একাকী হয় কি করে? 

আমি বললাম আপনার নিকট ভ্রমণ পাথেয় দেখিনি। সে বলল আমার যখন ক্ষুধা অনুভব হয় (খাওয়ার ইচ্ছা জাগে) তখন আল্লাহর যিকর আমার আহার্য হয়ে যায়। আর আমার যখন তৃষ্ণা অনুভূত হয় তখন আল্লাহ পাকের দৃষ্টিই আমার চাওয়া পাওয়া সব হয়ে যায়।

আমি তাকে বললাম, আমি ক্ষুধার্ত আমাকে আহার করাও। সে বলল, তবে কি তুমি আওলায়াদের কারামতে বিশ্বাস করো না?

আমি বললাম, কেন বিশ্বাস হবে না? তবে আমার অন্তর যাতে অধিকতর প্রশান্ত হয়ে যায়। তখন সে তার হাত মাটিতে রাখে। অথচ যমীন ছিল বালুকাময়। সেখান থেকে এক মুষ্ঠি বালি উঠিয়ে বলল, হে ধোকা খোর! খা-দেখালেল সেগুলো ছিল আটার ছাতু এবং খুবই মজাদার। সে বলল, এগুলোকে কে এত মজাদার করে দিল? সে বলল, মরুভূমিতে ওলি আল্লাহদের নিকট অনুরূপ নিয়ামত পড়ে আছে যদি তুমি বুঝ। আমি তখন বললাম, তাহলে আমাকে পানিও পান করাও। তখন সে মাটিতে পদাঘাত করলে মাটি ভেদ করে মধু এবং পানির ঝরণা প্রবাহিত হল। আমি তখন উক্ত ঝরনা থেকে পানি পান করার জন্য বসে পড়লাম। অতঃপর আমি যেইনা মাথা উঠালাম, তৎক্ষণাৎ আর তাকে দেখতে পেলাম না, কোথায় যেন গায়েব হয়ে গেল। বুঝাও গেল না কোনদিকে গেল। সেদিন থেকে আমি সতলোকের খেদমত করতে লাগলাম। আমার আশা এভাবে ওলীদের দর্শন লাভ করতে পারবো।

ওহে! তুমি আর কতকাল এ ধরনের কথাবার্তা শুনতে থাকবে এবং তাদের অনুস্মরণ করে চলবে, তাওবাহকারীদের সংশ্রব অবলম্বন কর হয়তবা তাদের পথে চলার তাওফিক হয়ে যাবে। হে মরদুদ! আল্লাহ পাকের কুদরত থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর। তোমার মত কত মানুষ চিতকার করে চলেছে। হে বিদ্রোহী! তুমি আল্লাহ পাকের নিকট কোন ওছিলা কর, আশা করা যায় তুমি নিরাপদে থাকবে এবং বিনীত ও অনুশোচনা এবং চিন্তা ক্লিষ্ট মনে বল- অর্থাৎ, আশ্চর্যের কথা, আমি আর কত কাল প্রত্যাখাতকে তিরষ্কার করতে থাকব এবং কখন এ তিরষ্কার উপকারে আসবে?

আমি আর কতকাল অলস বধিরকে ডাকব হয়ত সে সে আওয়াজ শুনেছে। আমি কখন তোমার অন্তর দ্বারা কথা বলব এবং তোমার কবুলের লোভে পড়ে থাকবো?

তোমার জন্য শিক্ষার স্থান – হে শুষ্ক চক্ষুধারী! যা কখনো প্রবাহিত হয় না। লাজ-লজ্জার নিশান পড়ে যাওয়ায় অন্তরে নম্রতা আসে না। তোমার অন্তর ধবংসশীলদের মহব্বতে লেগে রয়েছে এবং হারাম অর্জনের জন্য লেগে গেছে। হে গাফেল! এগুলো জমা করলে তোমার কাছ থেকে হিসাব নেয়া হবে। ধন সম্পদের স্তূপ কার জন্য করছ যা তোমার কোনই কাজে আসবে না। এভাবে তুমি খেলার মাঠে খেলতে থাকবে আর তখন ঘোষণা করা হয়ে যাবে যে, ভ্রমনের সময় হয়ে গেছে, এবার চল। সেখান থেকে ফিরে আসার আর কোণ আশা নেই।

পরবর্তী গল্প
ওয়াইস কুরণীর ইন্তেকালের কারামত

পূর্ববর্তী গল্প
এক বুযুর্গ ব্যক্তির অবস্থা ও তার মায়ের ব্যস্ততা

ক্যাটেগরী