ছফিয়্যাহ-বিনতে-আব্দুল-মুতালিব | আমার কথা
×

 

 

ছফিয়্যাহ-বিনতে-আব্দুল-মুতালিব

coSam ১২


ছফিয়্যাই প্রথম মুসলিম মহিলা, যিনি একজন মুশরিককে হত্যা করেছিলেন আল্লাহর দীন বাঁচানাের উদ্দেশ্যে। ঐতিহাসিকদের মত কে এই সেরা বুদ্ধিমতি নারী, পুরুষরা যার কারণে হাজার রকম হিসাব-নিকাশ করতে বাধ্য হত? কে এই নির্ভীক সাহাবিয়া যিনি ছিলেন সর্বপ্রথম এক মুশরিক হত্যাকারিণীর গৌরবে ভূষিত? কে এই বিচক্ষণ মহিলা যিনি সৃষ্টি করেন আল্লাহর পথে সর্বপ্রথম তরবারি খাপমুক্তকারীর ইতিহাস? তিনিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফু আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা ছফিয়্যাহ হাশেমী ও কুরাইশী।

চতুর্মুখী মর্যাদা ও গৌরব ছফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবকে বেষ্টন করে রেখেছিল। তার পিতা- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ছিলেন কুরাইশের অবিসংবাদিত নেতা। তাঁর মা- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মা, আমেনা বিনতে ওহাবের বােন হালা বিনতে ওহাব।

তাঁর প্রথম স্বামী- হারেস ইবনে হারব ছিলেন উমাইয়া গােত্রের প্রধান আবু সুফিয়ান ইবনে হারব এর সহােদর ভাই। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর দ্বিতীয় স্বামী- আলআউওয়াম ইবনে। খুওয়াইলেদ, যিনি ছিলেন (জাহেলী যুগে আরব নারীদের নেত্রী এবং ইসলামী যুগে প্রথম উম্মুল মু'মিনীন) খাদীজা বিনতে খুওয়াইলেদ’র ভাই। তাঁর পুত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহরক্ষী যুবায়ের ইবনুল আউওয়াম। এতাে মর্যাদা ও গৌরবের পর কি আর কিছু থাকতে পারে যার প্রতি অন্তরের বাসনা জাগবে? তার স্বামী ‘আউওয়াম ইবনে খুওয়াইলেদ মারা গেলেন, তার জন্য রেখে গেলেন একটি ছােট্টশিশু।

সেই শিশুপুত্র যুবায়ের'কে তিনি লালন-পালন করলেন কঠোরতা ও কষ্টের মধ্যে রেখে তাকে অভ্যস্ত করে তােলেন অশ্বারােহন আর যােদ্ধার জীবনে। তার খেলা ও খেলনার কৌতূহলকে তিনি চালিত করেছিলেন তীর, ধনুক আর বর্শার দিকে। তিনি তাকে ঠেলে দিতেন সকল ভীতির দিকে পাঠাতেন সব ঝুঁকির মুখে যখনই দেখতেন ভয়ে পিছপা হল অথবা দ্বিধা করল, তাকে ভীষণ প্রহার করতেন, যে কারণে তাকে অভিযুক্ত করে পুত্রের  চাচারা বলতেন“এটা তাে ক্রুদ্ধ মানুষের প্রহার, মমতা মেশানাে মায়ের শাসন এটা নয়।

তিনি এর তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ করে বলতেন যে বলে তাকে প্রহার করে রাগ ঝেড়েছি, মিথ্যা বলে।  আলসেমি ছেড়ে হবে সে বিচক্ষণ, করেছি তাই মায়ের শাসন শক্রকে হারাবে, লুণ্ঠিত মাল ফিরিয়ে আনবে আপনার বাহুবলে।

যখন মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে চিরসত্য আর হিদায়াতের দীন দিয়ে পাঠালেন মানুষের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতারূপে, আর নির্দেশ   দিলেন নিজের নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমেই দায়িত্বের সূচনা করতে, তখন তিনি আব্দুল মুত্তালিবের সকল সন্তানকে, নারী-পুরুষ, ছােট-বড় সকলকে একত্রিত করলেন। বললেন“হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমা! হে আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা ছফিয়্যাহ! ওহে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানেরা! যদি তােমাদের ওপর আযাব এসে পড়ে তবে তা ঠেকানাের কোন ক্ষমতাই আমার নেই।

তােমাদের কোন উপকারই আমি করতে পারব না।' তাদেরকে আহ্বান করলেন আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের, উৎসাহ দিলেন তার রিসালাতকে সত্য হিসাবে গ্রহণ করতে। তাদের মধ্য থেকে কিছু মানুষ এগিয়ে এলেন স্নিগ্ধ আলাের প্রতি, কবুল করে নিলেন সত্য দীন ইসলামকে। কেউ কেউ আবার সেই আলােকে প্রত্যাখ্যান করে রয়ে গেল মিথ্যার অন্ধকারে।

ছফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন ইসলাম গ্রহণকারী, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী মুমিনদের প্রথম কাতারে ঠিক তখনই ষােলকলায় পূর্ণ হল ছফিয়্যাহকে বেষ্টন করে রাখা গৌরব ও মর্যাদার সকল দিক। বংশের নেতৃত্ব আর ইসলামের অনন্য মর্যাদা। ছফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব তার তরুণ পুত্রকে নিয়ে শামিল হলেন ইসলামের আলাের মিছিলে।

ফলে তাদেরকেও ভােগ করতে হল কুরাইশের চাপানাে নির্যাতন, দুর্ভোগ আর বাড়াবাড়ির কষ্ট, যা সহ্য করেছিলেন প্রাথমিক ও অগ্রগামী সকল মুসলিম। ফলে আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁর নবীকে এবং তাঁর সঙ্গী মুমিনদেরকে মদীনায় হিজরতের অনুমতি দিলেন, এই মহীয়সী হাশেমী নারী মক্কায় নিজের বহুমুখী গৌরব ও সুকীর্তির সকল স্মৃতি ফেলে রওনা হলেন মদীনার অভিমুখে, আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দীন রক্ষার স্বার্থে হিজরত করলেন মদীনায়। বিশেষ ব্যাপার এই যে, তখন এই মহীয়সী অতিক্রম করছিলেন দীর্ঘ পােড় খাওয়া জীবনের প্রায় ষাট বছর। জিহাদের বিভিন্ন ময়দানে তার রয়েছে এমন কিছু অবস্থান, ইতিহাস যার আলােচনা আজও অব্যাহত রেখেছে প্রশংসা ও মুগ্ধতায় পঞ্চমুখ হয়ে । এখানে এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে মনে করি সে রকম দু'টি অবস্থানের আলােচনাই যথেষ্ট।

একটি ছিল ওহােদের যুদ্ধে অন্যটি খন্দকের যুদ্ধে যে অবস্থান ছিলাে ওহােদের প্রান্তরে তা হলাে, তিনি জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহর উদ্দেশ্যে ছােট্ট একটি মহিলা দল নিয়ে বের হলেন মুসলিম সৈনিকদের সঙ্গে। সেখানে তিনি আত্মনিয়ােগ করলেন পানির ব্যবস্থাপনায়, তৃষ্ণার্ত মুজাহিদদের পানি পান করিয়ে তৃপ্ত ও উজ্জীবিত করলেন, তীর চেঁছে তীক্ষ্ম করলেন, ত্রুটিপূর্ণ ধনুক মেরামত করলেন। তা ছাড়া তাঁর ছিল আরাে একটি উদ্দেশ্য, সেটা হল যুদ্ধ ও যুদ্ধক্ষেত্রকে নিজের সবটুকু আবেগ-অনুভূতি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা।

বিচিত্র নয়, কারণ সেখানে সেই যুদ্ধের প্রান্তরে ছিলেন তাঁরই মৃত ভাইয়ের পুত্র আল্লাহর প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি। ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাঁর ভাই ‘আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ) হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। ছিলেন তাঁর পুত্র যুবাইর ইবনুল আউয়াম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহরক্ষী। তাছাড়া সবকিছুর উর্ধ্বে ছিল এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে। ইসলামের ভাগ্য, যাকে তিনি আলিঙ্গন করেছেন চরম ভালবেসে।

যার ভালবাসা বুকে নিয়ে হিজরত করেছেন প্রতিদানের প্রত্যাশায় যার মধ্য দিয়ে দেখতে পেয়েছেন জান্নাতের প্রশস্ত রাজপথ। তিনি যখন দেখতে পেলেন মুসলিম বাহিনীর অল্পক’জন ছাড়া সকলেই বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফেলে এবং দেখতে পেলেন মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছাকাছি এবং প্রায় তার উপর আক্রমণে উদ্যত তখন তিনি হাতের পানির পাত্রটি ছুঁড়ে ফেললেন জমিনের ওপর আর আক্রান্ত শাবকের মা সিংহীর মত লাফিয়ে উঠলেন, ছিনিয়ে নিলেন এক পরাজিত সৈনিকের বর্শা, তা দিয়ে সৈনিকদের সারি ভেদ করতে করতে ছুটে চললেন,

বর্শার তীক্ষ্ণ ফলা দিয়ে এদিক ওদিক আঘাত করলেন, মুসলিম সৈনিকদের লক্ষ্য করে গর্জে উঠলেন আরে ও কাপুরুষের দল! আল্লাহর রাসূলকে ফেলে পালাতে চাও! নিজেদের জান বাঁচাতে চাও! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে এগিয়ে আসতে দেখলেন, তার আশঙ্কা হল যে, তিনি (ছফিয়্যাহ) তাঁর নিহত ভাই হামযার লাশ দেখে ফেলবেন, মুশরিক বাহিনী যার বিকৃতি ঘটিয়েছে অত্যন্ত কুৎসিত রূপে। তাঁর পুত্র যুবাইর কে বললেন-মাকে ফেরাও যুবাইর, তাড়াতাড়ি যুবাইর সেদিকে এগিয়ে গেলেন। বললেন-মা, থামাে, মা, এদিকে এসাে। -সরে যা, খবরদার মা মা করবি না। আল্লাহর রাসূল ঐদিকে যেতে নিষেধ করছেন।

কিন্তু কেন? আমি তাে জানি আমার ভাইয়ের লাশ বিকৃত করা হয়েছে। তার এ কুরবানি আল্লাহর জন্য একথা শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইরকে বললেন-যেতে দাও। যুবাইর তার পথ ছেড়ে দিলেন। যুদ্ধ যখন শেষ হল, ছফিয়্যাহ তাঁর ভাই হামযার লাশের কাছে গেলেন, দেখলেন তার পেট ফেড়ে কলিজা বের করা হয়েছে,

নাক ও কান কেটে ফেলা হয়েছে, চেহারা বিকৃত করা হয়েছে। তিনি তার জন্য মাগফেরাতের দু'আ করলেন। বলতে থাকলেন এসবই আল্লাহর দীনের খাতিরে হয়েছে। আমার কোন অসন্তুষ্টি নেই। আল্লাহর ফয়সালায় আমি তুষ্ট। সম্পূর্ণ সমর্পিত। আল্লাহর কসম! আমি ছবর করব।

আমি মনে করব আমার এ বিপদ আল্লাহর দীনের জন্য এবং সে কারণে এর পূর্ণ প্রতিদান অবশ্যই পাব ইনশাআল্লাহ। এটা ছিল ওহােদের ময়দানে ছফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের অবস্থান। খন্দকের যুদ্ধে তার অবস্থান, সে তে, বীরত্বগাঁথা এক রুদ্ধশ্বাস কাহিনী, যার পরতে পরতে তার বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা প্রস্ফুটিত, সাহসিকতা ও সংকল্প প্রকাশিত। তাহলে চলাে কান পেতে শুনি ইতিহাসের সেই বিখ্যাত কাহিনী।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিলে নারী ও শিশুদেরকে সুরক্ষিত দুর্গে রেখে যাওয়া ছিল তাঁর অভ্যাস। কেননা প্রহরীদের অবর্তমানে কোন বিশ্বাসঘাতক মদীনার ওপর আক্রমণ করে বসতে পারে। খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন ঘনিয়ে এল। তিনি নিজের স্ত্রীদের, ফুফুদের এবং একদল মুসলিম স্ত্রীদেরকে রেখে গেলেন হাসান ইবনে সাবিতের মীরাস সূত্রে প্রাপ্ত দুর্গে, এটিই ছিল মদীনার সর্বাধিক সুরক্ষিত দুর্গ। মুসলিমগণ যখন খন্দকের আশপাশে কুরাইশ ও তার মিত্রদের মুখােমুখি অবস্থান গ্রহণ করছিলেন, নারী ও শিশুদের ওপর শত্রুর আক্রমণ নিয়ে ভাবার সুযােগ যখন তাদের ছিল না।

ছফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব তখন ফজরের অন্ধকারে একটি ছায়ামূর্তির নড়াচড়া দেখতে পেলেন, কান পেতে সেদিকে দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন এক ইহুদী দুর্গের দিকে এগিয়ে আসছে, দুর্গের চারপাশে ইতিউতি দৃষ্টি ফেরাচ্ছে, আড়িপেতে জানতে চাচ্ছে কারা রয়েছে এর ভেতরে।

তিনি বুঝে ফেললেন নিশ্চয়ই লােকটি তার কওমেরই কোন গুপ্তচর। জানতে এসেছে এখানে আক্রমণ প্রতিরােধকারী পুরুষ মানুষ আছে; না শুধুই নারী আর শিশু অবস্থান করছে। তিনি মনে মনে ভাবলেন- বনী কুরাইযার ইহুদীরা-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কৃত চুক্তি ভেঙে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরাইশ ও মিত্রদের সাহায্য করেছে। আর এ মুহূর্তে আমাদের উপর ওরা কোন আক্রমণ করলে তা ঠেকানাের জন্য কোন একজন মুসলিম পুরুষ আমাদের পাশে নেই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সঙ্গীরা রয়েছেন শত্রুবাহিনীর মুখােমুখি অবস্থানে। এ অবস্থায় আল্লাহর ঐ দুশমন যদি আমাদের প্রকৃত পরিস্থিতির খবর কওমের কাছে পৌছাতে সফল হয়, তাহলে ইহুদীরা নারীদেরকে করবে বন্দী আর শিশুদের বানাবে দাস-দাসী, সেটা হবে মুসলিমদের জন্য এক ভয়াবহ বিপদ ও বিপর্যয়ের কারণ। এসব ভেবে তিনি নিজের ওড়না খুলে জড়ালেন মাথায়।

কোমরে শক্ত করে গামছা বেঁধে কাঁধে তুলে নিলেন একটি বড় লৌহদণ্ড। নেমে আসলেন দূর্গের প্রধান ফটকের কাছে। খুব ধীরে ও সাবধানে সেখানে তৈরী করলেন একটি ছিদ্র। সেই ছিদ্র পথ দিয়েই আল্লাহর দুশমনকে নিরীক্ষণ করতে থাকলেন সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টিতে। এক সময় তিনি লােকটির অবস্থান দেখে নিশ্চিত হলেন-এবার তার ওপর চূড়ান্ত আক্রমণ চালানাে সম্ভব। নিশ্চিত হয়েই চালিয়ে দিলেন চরম হামলা। সর্বশক্তি দিয়ে লৌহদণ্ডের আঘাত হানলেন তার মাথায়।

এমন ভয়াবহ আঘাত সহ্য করা ছিল অসম্ভব। লােকটি ধপাস করে পড়ল মাটিতে। অবিলম্বে দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঘাত হেনে তাঁর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিলেন। প্রাণহীন নিথর দেহের কাছে নেমে আসলেন দ্রুত। নিজের সঙ্গে রাখা ছুরি দিয়ে মাথা কেটে দেহ থেকে আলাদা করে ফেললেন। দুর্গের উঁচুস্থান থেকে ছুড়ে মারলেন নিচের দিকে।

ঢাল বেয়ে সেটা গড়াতে গড়াতে গিয়ে থামল সেই ইহুদীদের সম্মুখে যারা অপেক্ষা করছিল ঐ সঙ্গীর সবুজ সংকেতের তারা সঙ্গী ইহুদীর কর্তিত মস্তক দেখে পরস্পর বলাবলি করতে থাকল আরে এটা তাে আমরা নিশ্চিতরূপেই জানতাম যে, মুহাম্মাদ কখনােই নারী ও শিশুদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা না করে যাবার মানুষ নয় এখন তাে নিজেদের চোখেই দেখলাম।

এসব বলতে বলতে তারা ফিরে গেল নিজেদের গন্তব্যে। আল্লাহ তাআলার রেজা ও সন্তুষ্টি হােক ছফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের প্রতি। তিনি ছিলেন মুসলিম নারীদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত একাই করেছেন সন্তানের লালন-পালন, তবুও তাকে গড়েছিলেন।

আদর্শরূপে আপন ভাইয়ের ভয়াবহ শাহাদাতের বিপদে আক্রান্ত হয়েছেন, সেখানে তিনি ছবর ও ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। কষ্ট-ক্লেশের ধকল বয়ে গেছে তার উপর দিয়ে, তার মাঝে পাওয়া গেছে এক দৃঢ়সংকল্প, বিচক্ষণ ও সাহসী নারীর স্বরূপ ইতিহাস তার সােনালী পাতায় উজ্জ্বল হরফে লিখে রেখেছে‘ছফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন প্রথম সেই নারী যিনি ইসলাম ধর্মে একজন মুশরিককে হত্যা করেছেন।'

পরবর্তী গল্প
মৃত্যুর পরের জীবন

পূর্ববর্তী গল্প
মদীনা মুনাওওয়ারায় যিয়ারতের বিশেষ কয়েকটি স্থান

ক্যাটেগরী