গাযওয়া ও সারিয়্যা

কাফেরদের সাথে মুসলমানদের যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেসব যুদ্ধের যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ স্বয়ং উপস্থিত থেকে যুদ্ধ পরিচলনা করেছেন, সেগুলোকে গাযওয়া; আর যেসব যুদ্ধে তিনি উপস্থিত ছিলেন না; বরং কোন সাহাবীর নেতৃত্ব অভিযান চালান হয়েছে, সেগুলোকে সারিয়্যা বলা হয়।

সর্বমোট গাযওয়া ও সারিয়্যার সংখ্যা যে কত তা নির্ধারণ এক কঠিন ব্যপার। ইবনে ইসহাকে রেওয়ায়েতে নবী করীম (স) স্বয়ং সর্বমোট ঊনত্রিশটি যুদ্ধাভিযানে অংশ নেন, এর মধ্যে সাত যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় তরবারীর এ সাতটি হচ্ছে- ১। বদর ২।ওহুদ ৩। খন্দক ৪। বনী কুরাইযা ৫। বনি মুস্তালিক, ৬। মক্কা বিজয় ৭. হুনায়ন।

প্রথম গাযওয়ায়ে ওয়াদ্দান বা আবওয়া

সারিয়্যার সংখ্যা ষাটের কাছাকাছি বলে ইতিহাসবিশারদরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম সারিয়্যা হচ্ছে হযরত হামযা (রা)-এর নেতৃত্বাধীন অভিযান।

সারিয়ায়ে হযরত হামযা (রা)

জিহাদের হুকুম নাযিল হবার পর হিজরতের ছয়মাস পর রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ (স) হযরত হামযা (রা)-কে একটি সাদা ঝাণ্ডা দিয়ে ত্রিশ জন সৈন্যের নেতৃত্ব ও অধিনায়কত্ব দিয়ে সিরিয়া থেকে মক্কাগামী কুরাইশের একটি কাফেলার মুকাবিলার জন্য পাঠান। কুরাইশদের সে কাফেলাতে তিনশ লোক ছিল এবং তাদের নেতৃত্বে ছিল আবূ জাহল। হযরত আবূ মারসাদ গানাবী (রা) এর হাতে ছিল ইসলামের প্রথম ঝাণ্ডা সীফুল বাহার নামক স্থানে উপনীত হওয়ার পর কুরাইশ কাফেলার মুখোমুখী হয়। উভয়পক্ষে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। কিন্তু মাজদী বিন আমর মধ্যস্থা করে যুদ্ধ হতে বিরত রাখল। উভয় বাহিনী স্ব-স্ব স্থানে ফিরে গেল।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।