গাজওয়ায়ে বাওয়াত, গাজওয়ায়ে সাফওয়ান ও গাজওয়ায়ে ওশাইরা

দ্বিতীয় হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম ভাগে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সংবাদ পেলেন আবূ সাফওয়ান উমাইয়া বিন খলফের নেতৃত্বে কুরাইশের একটি ব্যবসায়ী কাফেলা বাওয়াতের পথ অতিক্রমের পথে। কাফেলায় একশ লোক ছিল। মদীনার শাসনভার হযরত সায়াদ বিন মোয়াজের হাতে ন্যস্ত করে দুশ সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সে কাফেলার উদ্দেশ্যে বাওয়াত অভিমুখে রওয়ানা হন। এ বাহিনীর পাতাকাবাহী ছিলেন হযরত সায়াদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)। কিন্তু এখানেও কোন সংঘর্ষ হয়নি।

গাজওয়ায়ে বাওয়াতের অভিযানের কিছুদিন পরেই সংবাদ পাওয়া গেল যে, কুরজ বিন জাবের ফেহরী মদীনার চারণভূমি হামলা করে মুসলমানদের উট লুট করে নিয়ে যায়। এ সংবাদ পেয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) মদীনায় জায়েদ বিন হারেসের হাতে শাসনভার অর্পণ করে কুরজ বিন জাবের ফেহরীর খোঁজে বের হন। তাঁর সাথে ছিল মুহাজিরীনের একটি ক্ষুদ্র বাহিনী। হযরত আলীর হাতে ছিল ঝাণ্ডা। বদরের নিকটবর্তী সাফওয়ান ওয়াদী পর্যন্ত অগ্রসর হয়েও তার কোন সন্ধান না পেয়ে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন।

নবী করীম (সঃ)-এর এ সফর অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় হিজরী জমাদিউল আউয়াল মাসে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে কঠোর আক্রমণের উদ্দেশ্যে কুরাইবা অর্থ সংগ্রহে বিশেষ মনোযোগ দিল। উন্নত মানের অস্ত্র সস্ত্র সংগ্রহের জন্য আবূ সুফিয়ানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী বাণিজ্য কাফেলা সিরিয়ায় পাঠায়। কুরাইশদের প্রায় সম্পূর্ণ সম্পদই এ কাফেলার নিকট ব্যবসার উদ্দেশে হস্তান্তর করা হয়েছিল। যার নিকট এক মেশকালের অধিক স্বর্ণ ছিল, তাও এ বাহিনী কাফেলার হাতে তুলে দেয়া হল।

এ সংবাদ অবগত হয় রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বয়ং আবূ সালমার হাতে মদীনার শাসনভাব অর্পণ করে দুশ সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে কুরাইশ কাফেলার খোঁজে বের হলেন। হযরত হামজা (রা)-এর হাতে দিলেন ঝাণ্ডা। তাদের সাথে মাত্র ত্রিশটি উট ছিল। তাই তাঁরা পালা বদল করে পথ চলতে লাগলেন। বনী মোদলাজের ওশাইরা নামক কুপের নিকট উপনীত হওয়ার পর জানতে পারলেন যে, কাফেলাটি কয়েকদিন পূর্বে এ পথ অতিক্রম করে চলে গেছে। এ কাফেলাটি তখন সিরিয়া যাচ্ছিল। তাদের প্রত্যাবর্তনের সময় পুনরায় কাফেলাকে আক্রমণ করার উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনা হতে বের হয়ে আসার পর বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

রাসূলুল্লাহ (স) বনী মুদলাজের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করে মদীনায় ফিরে আসেন।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।