ক্বাযা ওমরাহ আদায় | আমার কথা
×

 

 

ক্বাযা ওমরাহ আদায়

coSam ১২৭


হুদাইবিয়ার সন্ধির একটি শর্ত ছিল রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবার ওমরা না করে হুদাইবিয়া থেকেই ওয়াফেজ যাবেন এবং পরবর্তী বছর এসে ওমরা আদায় করবেন। ষষ্ঠ হিজরী সনের এ ওমরাই সপ্তম হিজরী সনের আদায় করা হয় বলে ইসলামের পরিভাষায় একে ওমরাতুল ক্বা্যা বলা হয়।

ওমরাহতুল ক্বাযায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে প্রায় দু' হাজার লোক ছিলেন। সাহে ছিল ষাটটি কোরবানি জানোয়ার ও বাহনের দুশ ঘোড়া। এ সময় রাসূলুল্লাহ ওমরাহতুল জানোয়ার ও বাহনের দুশ' ঘোড়া। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় শাসনভার হযরত আবূযর গেফারী (রাঃ) এর উপর অর্পন করেন। যারা হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁদের এবার যাত্রার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যিলক্বদ মাসে মদীনা ত্যাগ করে যথাসময়ে মক্কায় উপনীত হন এবং সন্ধির শর্ত মোতাবেক ওমরাহ পালন করেন। সন্ধির শর্তানুসারে (সাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও তাঁর সঙ্গী সাথীদের মক্কায় প্রবেশ এবং ওমরাহ আদায়ে আরোপের অধিকার যদিও কুরাইশদের সাথীদের মক্কায় প্রবেশ এবং ওমরাহ আদায়ে বাধা আরোপের অধিকার যদিও কুরাইশদের ছিলনা, তবে এ দৃশ্য চোখে দেখার ধৈর্যও তাঁদের হয়নি। তাই তাঁরা দুঃখে-ক্ষোভে মুসলমানদের মক্কায় অবস্থানকালে নগরীর বাইরে আবূ কোবায়স পর্বত উপত্যকায় অবস্থান করে কাটায়।

অবশ্য সন্ধি শর্তে এও ছিল যে, এ সময় তাঁরা মক্কার বাইরে অবস্থান করবে। যদিও কুরাইশ প্রধানরা এ সময় মক্কায় ছিল না। কিন্তু মক্কার জনসাধারণ রাসুলূল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরামকে গালমন্দ করতে উদ্যত হলে মক্কার জনসাধারণ বাধা দিয়ে বলল, সন্ধির শর্তে কেবল কাবা গৃহ তাওগের কথা আছে, কাবার ভিতরে প্রবেশের কথা নেই।

এ সকল ঘটনা কুরাইশদের হীন মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজের উদারতা ও মহত্বগুণে মক্কাবাসীর এসব দুর্ব্যবহার ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রাঃ) রণসঙ্গীত আবৃতি করতে আরম্ভ করলে এতে মক্কাবাসীর মনে বেদনা ওও উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে মনে করে তাঁকে নিষেধ করেন। কুরাইশদের দুর্ব্যহারে এক সময় আনসার প্রধান হযরত সা'দ বিন ওবায়দা (রাঃ) উত্তেজিত হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকেও ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন।

তিন দিন অবস্থানের পর কাফেররা হযরত আলী (রাঃ) এর মাধ্যমে সন্ধির শর্ত স্মরণ করিয়ে দেয়। চতুর্থ দিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সঙ্গীদের সহ মক্কা ত্যাগ করেন। নেতৃবৃন্দের প্ররোচনায় মক্কার সাধারণ জনগণ এবং মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী যদিও রাসূল্ললাহ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবায়ে কিরামের সাথে দুর্বব্যবহার করেছে, কিন্তু সাথে সাথে তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা) এবং ব্যক্তি, পরবর্তীতে মদীনায় উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে হযরত খালেদ বিন ওলীদ ও হযরত ইবনুল আস (রাঃ) এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পরবর্তী গল্প
হুদাইবিয়ার সন্ধির সুফল

পূর্ববর্তী গল্প
রোমের বাদশাহর সিদ্ধান্ত

ক্যাটেগরী