কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় আজারবাইজানের বাকু শহরের হায়দার নামক এক ব্যক্তির সাহসিকতা | আমার কথা
×

 

 

কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় আজারবাইজানের বাকু শহরের হায়দার নামক এক ব্যক্তির সাহসিকতা

coSam ১৮৭


আজারবাইজানের রাজধানী বাকু শহরে বসবাস করতো হায়দার। নীতিবাদ ধর্মপ্রাণ এ লোকটি ছিল অস্বাভাবিক রকমের ভীতু। সবকিছুকে সে ভয় করত। কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, ছারপোকা অন্যান্য পোকা মাকড়কেও সে ভয় পেতো।
শীতের দিনে ঘরের দরজা, জানলা বন্ধ করে সে লেপের নীচে শুয়ে থাকত। শীতল বাতাস ঘরে ঢুকবে এই ভয়ে, ঘরের দরজা-জানালা সে খুলতো না। শীতের মতো গরমের মৌসুমেও তার ভয় একই রকম থাকতো। মাথার চুল পেকে সাদা গেলেও তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় নি।

রাতে যখন সে একা হাঁটতো তখন তার মনে হতো কেউ তাকে অনুসরণ করছে, কেউ তার কথা শুনছে। একথা ভেবে সে ঊর্ধশ্বাসে দৌড়াতে শুরু করতো। গরমের মৌসুমে তার কানে সব সময় ভেসে আসতো পাখির গান, এবং ঝর্ণাধারার পানি ঝরার শব্দ।
তার এরক্ম ভীতু স্বভাবের কারণে তার পরিচিত বন্ধুরা দুঃখ করত। তাদের কি আর করার ছিল। সে ছিল আসলে মানসিক রোগী। নানা উদ্ভট চিন্তা তাকে সারাক্ষণ তাড়া করতো। অথচ সে ছিল পরিচ্ছন্ন মন-মানসিকতার মানুষ। সে ভালো কাজ পছন্দ করতো এবং ভালো কাজে অংশ নিতো। তার বন্ধুরা তাকে অহেতুক ভয় না পাওয়ার জন্য অনেক বোঝাতো কিন্তু তার মধ্যে কোন পরিবর্তন্ন আনা সম্ভব হতো না।
একদিন সন্ধার পর সে বিশেষ প্রয়োজনে এক বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য বের হলো। কিছুদুর যাওয়রার পর দেখলো একদল পুলিশ কি কারণে যেন পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। এ দৃশ্য দেখে সে অন্য ঘুরপথে রওনা হলো। সেখানে দেখা গেল একদল ছেলে খেলা করছে।

সে তাদের তাদের সামনে যেতে চায়নি এজন্য আরো ঘুরপথে রওনা হলো। সেসব পথে লোক চলাচল সব সময়েই কম থাকতো। এ পথে সে একদল প্রতারক লোকের পাল্লায় পড়লো। তারা তাকে ঘিরে ধরল। একটি গাছের নীচে টেনে নিয়ে তার কাছে কি আছে সব দিতে বললো। টাকা-পয়সা যা ছিল সে দিয়ে দিল। ওদের একজন আরো কিছু পাওয়ার আশায় তার দেখ তল্লাশি করলো। তার পকেটে ছিল একটা পকেট সাইজ কোরআন। এক দুর্বিত্ত সেই কোরআন হাতে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিস ভেবে দূরে ছুঁড়ে ফেলল। এতে হায়দারের মাথায় আগুন ধরে গেল।

তার দেখে যেন বিদ্যুত ঝলক দেখা দিল। ভয়, সংকোচ দূর হয়ে গেল। সে কাছে থাকা একটি পাথর চুলে এক দুর্বৃত্তকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারল। সাথে সাথে সে দুর্বৃত্ত মরে গেলে। আর একটি পাথর তুলে সে আরেক দুর্বৃত্তকে আঘাত করলো – সে দুর্বৃত্তও মরে গ্লে। তারপর ছুটে গিয়ে ছুঁড়ে ফেলা কোরআন তুলে নিয়ে পরিস্কার করলো এবং কোরআনে চুমু খেল। এ সময় হৈচৈ শুনে একদল পুলিশ ছুটে এসে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে নিয়ে গেল এবং তার কথা শুনে তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া টাকা পয়সা তাকে ফিরিয়ে দিলো।

পবিত্র কোরআনের হেফাযত করার চিন্তায় তার মধ্যে অসীম সাহস তৈরি হলো, তাও পৌরুষে তার ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন দেখা দিলো। পরবর্তী কালে সে একজন সাহসী মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত হলো এবং দিন কাটাতে লাগলো। সত্য ন্যায়ের জন্য কোরআনের হেফাযতের জন্য মানুষ যখন রুখে দাঁড়ায় তার মধ্যে তখন আল্লহ প্রদত্ত বীরত্ব এবং সাহসিকতা তৈরি হয়।

সূত্রঃ নাকাবেলে ইয়াকিন সাচ্চে ওয়াকেয়াত

পরবর্তী গল্প
কলম্বিয়া এবং ব্রাজিলের সত্য ঘটনা, মহান আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতাকারীদের ভয়াবহ পরিণাম

পূর্ববর্তী গল্প
মূর্তির পেট থেকে জ্বীনের কথা বলা

ক্যাটেগরী