কোবায় শুভ পদার্পণ

কোবা ইয়াসরিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্রাম্য এলাকা। এ গোত্রের লোকেরা মক্কা শরীফে গিয়ে অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করে। এ গোত্র আমরান আওফের গোত্র। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনা অভিমুখে যাত্রার সংবাদ ইয়াসরিবাসী মুসলমানরা যথাসময়ে অবগত হয়েছিলেন। তাই তারা প্রতিদিন প্রত্যুষে নগরপ্রান্তে এসে ব্যাকুলচিত্তে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অপেক্ষায় অপেক্ষামান থেকে দুপুরে সূর্যোত্তাপ প্রখরতর হলে গৃহে প্রত্যাবর্তন করতেন আজও তাঁরা সবাই ঘরে ফিরে গেছেন। এর অল্পক্ষণ পরেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সহচরবৃন্দসহ কোবা পল্লীর কাছে উপনীত হন।

জনৈক ইহুদী প্রথম দুর্গ প্রাচীর থেকে আগন্তুক দলকে দেখতে পেয়ে এ দলের পরিচয় সম্পর্কে বুঝতে পেরে সে চিৎকার করে উঠল, হে আরবগণ, এ যে তোমাদের সৌভাগ্য রবি উদিত হয়েছে।

ইহুদীর চিৎকার গোচরীভূত হতেই মুসলমানরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশে বের হয়। তিনি কোবা পল্লীতে প্রবেশ করে আমর বিন আওফ গোত্রের আতিথ্য গ্রহণ করেন। অনেক প্রবাসী মুসলমান রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আগমন প্রতীক্ষায় ছিলেন। রবিউল আউয়াল মাসের বার তারিখ মতান্তরে আট তারিখ সোমবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইয়াসরিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত কোবা পল্লীতে পৌঁছেন। অনেক লোক ছুটে আসতে থাকে প্রাণপ্রিয় আপনজনকে এক নজর দেখার জন্য।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এখানে কিছুক্ষণ এক খেজুর গাছের নীচে বিশ্রামের পর কুলসুম বিন হেদমের গৃহে অবস্থান গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে হযরত আলী (রাঃ) ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে রক্ষিত সব আমানত মালিকদেরকে পৌঁছে দিয়ে কোবায় এসে তাঁর সাথে মিলিত হন। কোবা পল্লীতে চৌদ্দ দিন অবস্থানের পর নগরীতে প্রবেশ করেন।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।