কেয়ামতের ছয়টি আলামত | আমার কথা
×

 

 

কেয়ামতের ছয়টি আলামত

coSam ১৭৭


হযরত আউফ মালেক (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে হাজির হলাম। ঐ সময় তিনি একটি, চামড়ার তাবুতে অবস্থান করছিলেন।

তিনি বলেন, কেয়ামতের পূর্বে ছয়টি বিষয়ের বিষয় গণনা করতে থাকবে।
(১)আমার ইন্তেকালের খবর এবং দুনিয়া হতে আমার বিদায়।
(২) বাইতুল মোকাদ্দাস বিজয়।
(৩) একটি ব্যাপক মহামারীর প্রাদুর্ভাব। যেমন বকরীর মধ্যে মহামারী দেখা দিলে অসংখ্য বকরীর পাল মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়বে। তেমনই ঠিক তোমাদের মধ্যে মহামারীর ফলে গণ মৃত্যু দেখা দেবে।
(৪) সম্পদের আধিক্য। সম্পদের এমন প্রাবল্য দেখা দেবে যে, এক ব্যক্তিকে একশ দিনার দেয়া হবে, কিন্তু সে এতে সন্তুষ্ট থাকবে না।
(৫) এক ভয়াবহ ফেৎনা সৃষ্টি হবে। আরবের কোন ঘরই ঐ ফেৎনা হতে নিরাপদ থাকবে না এবং সকলেই ঐ ফেৎনার সাথে জড়িয়ে পড়বে।
(৬) নাসারাদের সাথে তোমাদের একটি বড় ধরনের চুক্তি হবে কিন্তু তাঁরা চুক্তি ভঙ্গ করে এক বিরাট বাহিনী নিয়ে তোমাদের উপর আক্রমণ করবে।
উল্লেখিত হাদিসে ছয়টি বিষয়ে কোন কোনটি ইতোপূর্বে সম্পন্ন হয়েছে।


যেমন (১) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ওফাত ।

(২) বাইতুল মোকাদ্দাস বিজয় যা হযরত ওমর ফারুখ (রাঃ) শাসনামলে পূর্ণ হয়েছে। এ অভিযানে হযরত ইবনুল জাররাহ সেনাপতি ছিলেন। প্রতিপক্ষের দূর্গ অবরোধে পরবড় পাদ্রী হযরত ওবায়দাকে বললেন, বাইতুল মোকাদ্দাস যিনি জয় করবেন, তিনি দৈহিক আকৃতির বিবরণ আমাদের ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আপনার দেহের সাথে ঐ বিবরণের কোণ মিল নেই। আমরা যখন ঐ ব্যক্তির সাক্ষাত পাব তখন স্বেচ্ছায় তার নিকট বাইতুল মোকাদ্দাসের চাবী তুলে দেব।
এ পরিস্থিতিতে হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ঘটনা স্থলে আগমণ করবেন। রাহেব (পাদ্রী) হযরত ওমর (রাঃ) কে দেখামাত্র তার হাতে চাবী তুলে দিয়ে বললেন, আমাদের ধর্মগ্রন্থে যে ব্যক্তির বিবরণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তিনি এ ব্যক্তি।

(৩) অতঃপর এমন ব্যাপক ও ভয়াবহ মহামারী ছড়িয়ে পড়ল যে মাত্র তিন দিনে সত্তর হাজার মানুষ প্রান হারাল। হযরত ওবায়দাহও এ মহামারীতে ইন্তেকাল করেন।

(৪) মুসলমানদের সম্পদ লাভের বিষয়টিও খলিফাদের যুগেই পূর্ণ হয়ে গেছে। সেই যুগে মুসলমানরা প্রচুর অর্থ বিত্তের মালিক ছিলেন।

(৫) আর কথিত হয়েছে। এ মর্মান্তিকে বেদনাদায়ক ফেৎনার প্রতিক্রিয়া হতে আরবের কোন ব্যক্তি ও পরিবার নিষ্কৃতি পায়নি।

(৬) নাসারাদের সাথে সন্ধি চুক্তি ও চুক্তি ভঙ্গের বিষয়টি সম্ভবতঃ শেষ যুগে অনুষ্টিত হবে।

পরবর্তী গল্প
এক বাদশাহর তওবা

পূর্ববর্তী গল্প
গাছের ফলে কালেমা তাইয়্যিবা লেখা

ক্যাটেগরী