কুরাইশদের চৈতন্যোদয় | আমার কথা
×

 

 

কুরাইশদের চৈতন্যোদয়

coSam ১১১


রাসূল (সাঃ)-এর গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য কুরাইশরা পিছনে লেগেই থাকত-বিশেষত হজ্বের সময়। অন্যদিকে আকাবায় সমবেতদের নিরস্ত্র ছিলেন একমাত্র হযরত আব্বাস (রাঃ) ছিল স্বাভাবিক। বায়াত গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাসূল (সাঃ) সকলকে স্ব-স্থানে ফেরত যেতে আদেশ করেন। রাতের তৃতীয় প্রহর প্রায় অতিবাহিত হওয়ার সময়। ইয়াসরিববাসীরা মুসলমানরা প্রত্যুষে স্বদেশ যাত্রার প্রস্তুতি করতে লাগলেন।

প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রায় রওয়ানামুখ ঠিক তখনই কতিপয় কুরাইশ প্রধান কতক লোকসমূহ ইয়াসরিববাসীর কাছে উপনীত হয়ে বলতে লাগল, দেখ! তোমাদের সঙ্গে আমাদের কোন শত্রুতা বা বিবাদ বিসস্বাদ নেই অথচ তোমরা আমাদের বিদ্রোহী লোকটিকে নাকি তোমাদের দেশে নিয়ে গিয়ে আমাদের সাথে যুদ্ধের আয়োজন করছ! কুরাইশ প্রধানের কথার কোন জবাব না দিয়ে মুসলমানরা চুপচাপ নিজেদের কাজ করে যাচ্ছিলেন। অন্যেরা পূর্ব রাতের গোপন সম্মেলন সম্পর্কে কিছুই অবগত ছিল না। তারা এক জোটে কুরাইশ প্রধানের কথা অস্বীকার করল।

এসব কথাবার্তা শেষে মদীনাবাসীদের কাফেলা স্বদেশের দিকে রওয়ানা দেয়। আর কুরাইশ প্রধানরাও কর্তব্য স্থির করতে না পেরে নগরীতে প্রত্যাবর্তন করে। তখন এ বিষয়টা নিয়ে মক্কা নগরীতে যথেষ্ট জটলা হচ্ছিল। কুরাইশ প্রধানরা মক্কা নগরীতে প্রত্যাবর্তন করে পরামর্শক্রমে ইয়াসরিব মুসলমানদেরকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাথে সাথে লোকজন মদিনাবাসী কাফেলার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। ততক্ষণে কাফেলা মক্কাবাসী কাফেরদের ধরা ছোয়ার বাইরে চলে গেল। কেবল হযরত সা'দ বিন ওবাদা ও মুনযের বিন আমার কারণবশত পিছনে পড়ে যান। তারা কাফেরদের হাতে ধৃত হন। মুনযের বিন আমর কোন ভাবে কাফেরদের হাত থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

সা'দকে মক্কায় এনে পিটমোড়া বেঁধে নির্মমভাবে প্রহার করা হতে লাগল। যুবাইর ও হারেস নামক মক্কাবাসী দু'ব্যক্তির সাথে সা'দের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তারা এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে দুবৃত্তদের কবল থেকে রক্ষা করে তাঁকে স্বদেশ অভিমুখে রওয়ানা করে দেন। এদিকে সা'দ ও মুনযেরের দেরী দেখে মদীনাগামীরা বিপদাংশকায় অস্থির হয়ে উঠেন। এ অবস্থায় মুনযেরের মুখে সা'দের মক্কাবাসীদের হাতে ধৃত হবার খবর শুনে তারা মক্কা অভিমুখে ফিরে চলেন। ইতোমধ্যে সা'দ এসে কাফেলার সাথে মিলিত হন। এবার কাফেলা নিরাপদে মদিনায় প্রবেশ করে।  

দ্বিতীয় আকাবার বাইয়াতের পর কাফেররা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। এর কারণ তারা ভয় করতে লাগল ইয়াসরিবের লোকদের সাহায্য সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। কেননা, মদীনার লোক সমর প্রিয় ও কষ্ট সহিষ্ণু। সমগ্র আরবে মুহাম্মাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। তাদের সৌভাগ্যের সূর্য চিরতরে অস্তমিত হয়ে যাবে। তাই তারা পূর্বাপেক্ষা বহু গুন বেশী নির্যাতন শুরু করে দিল। তাদের সীমাহীন জুলুম নির্যাতনে সাহাবাদের জীবন সংকটাপন্নহয়ে পড়ল। তাই সাহাবারা রাসূল (সাঃ)-এর কাছে হিজরতের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলেন।

এ অবস্থায় রাসূল (সাঃ) আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় রইলেন। যে ইসলামের সূচনা মক্কায় হল। অথচ সেখানে অবহেলিত উপেক্ষিত হয়েছিল। ইয়াসরিবে হিজরত করতে লাগলেন। কাফেররা চতুর্দিকে খুব শক্ত প্রহরা নিয়োগ করল। কিন্তু এ সত্বেও অনেক মুসলমান গোপনে হিজরত করতে পারলেন না। কিছু সংখ্যক লোক শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্বেও কাফের আত্মীয়দের খাতিরে হিজরত করলেন না। তারা মুখে কালিমা বললেও অন্তরে তারা কুফুরীতে লিপ্ত ছিল।

এ সকল লোকদের কোরআনে জাহান্নামী বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কেননা, এ সময় হিজরত ফরজ ছিল। কেবলমাত্র অক্ষম অবস্থায়ই হিজরত না করলে ঈমানদের বলে গন্য হবে। এভাবে অনেকেই গোপনে হিজরত করল। কিন্তু রাসূল (সাঃ) হযরত আবু বকর হযরত আলী (রাঃ) সহ আরও কয়েকজন সাহাবী তখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন মুসলমানদের হিজরতের প্রায় তিনমাস পরে হযরত রাসূল (সাঃ) হিজরত করেন। তাঁর সাথে হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হিজরত করেন।

হযরত আবু বকর (রাঃ) ইতিপূর্বে একবার হিজরতের অনুমতি প্রার্থনা করলে রাসূল (সাঃ) তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) রাসূল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনাকেও কি হিজরতের অনুমতি দেয়া হবে? রাসূল (সাঃ) বলেন, হ্যাঁ। নবীজী (সাঃ)-এর হিজরতের সংবাদ পাওয়ার পর থেকে হযরত আবু বকর (রাঃ) একটি গোলাম আমের বিন ফোহাইরা ও একটি উট মদিনার পথে সাহায্য পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঠিক করে রেখেছিলেন। আর হিজরতের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন। এদিকে কাফেররা যখন দেখল তাদের স্থির বিশ্বাস হল যে, যে কোন সময় মুহাম্মাদও চলে যাবে। অতএব তাকে হত্যা করতে পারলে চিরতরে তাদের লাত, উজ্জার শত্রু খতম হয়ে যাবে।

 

পরবর্তী গল্প
হেশাম ও আইয়্যাশের উপর কুরাইশদের অত্যাচার

পূর্ববর্তী গল্প
ওমরের ইসলাম গ্রহণ - শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী