কিবলা পরিবর্তন

ইসলামের ইতিহাসে কিবলা পরিবর্তন একটি স্মরণীয় ঘটনা। ঐতিহাসিকদের মতে, আবদুল্লাহর বিন জাহাশের নেতৃত্বে গুপ্তচর দল প্রেরিত হয়েছিল রজব মাসে। সুতরাং কিবলা পরিবর্তনও রজব মাসেই হয়েছে। দিনটি ছিল রজবের পনর তারিখ সোমবার। এ দিন রাসূলুল্লাহ (স) বনী সালেম গোত্রের মসজিদে যোহরের নামায আদায় করছিলেন। নামাযে থাকাবস্থায় কিবলা পরিবর্তনের বিধান সম্বলিত ওহী নাযিল হয়।

এ মসজিদটি মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত কালে এখানে কিছু দিন অবস্থান কালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নেতৃত্বে নির্মিত হয়। মক্কায় অবস্থান কালে রাসূলুল্লাহ (স) কাবা শরীফ ও বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায আদায় করতেন। হিজরতের পর মদীনার ইহুদীদের মন রক্ষার্থে বায়তুল মুক্কাদ্দাসের দিকে মুখ ফিরে নামায পড়ার নির্দেশ জারি হয়। বায়তুল মুকাদ্দাসকে কিবলা বানানোর নির্দেশ জারির কারণ ছিল, এতে হয়ত ইহুদীরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে।

কেননা, বায়তুল মুকাদ্দাস তাদের কেবলা ছিল কিন্তু ফল হল বিপরীত। ইহুদীরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলতে লাগল-দেখ! আমাদের দ্বীন স্বীকার করে না, অথচ আমাদের কিবলার দিকে ফিরে নামায পড়ছে। কেউ কেউ এরূপ মন্তব্যও করল- আমাদের কিবলা করার খবর মক্কায় পৌঁছলে মক্কায় কাফের মুশরিকরাও বলতে লাগল-দেখ! মুহাম্মাদ কি সব বিস্ময়কর কর্মকাণ্ড করছে। সে ইবরাহীম (আ)-এর অনুসারী হবার দাবী করছে, অথচ তাঁর কিবলা মানছে না।

নবুয়ত রিসালাতের দাবীদার মুহাম্মদের কথায় কাজে কোন মিল নেই। কাফেরদের এহেন অবান্তর ঘৃণ্য উক্তিতে রাসূলুল্লাহ (স) ভীষণ মনোবেদনা অনুভব করতেন এবং তাঁর মন সর্বদা কাবার প্রতি উন্মুখ হয়ে থাকত। তাঁর আন্তরিক কামনা- তাঁর পিতৃপুরুষের কিবলা যেন তারও কিবলা হয়। ভাবাবেগে অনেক সময় তিনি আকাশের প্রতি তাকাতেন কিবলা পরিবর্তনের বিধান সম্বলিত ওহী নাযিল হয় কিনা এ উদ্দেশ্য কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই প্রকাশ করতেন না।

এ অবস্থায় ষোল মাস অতিক্রম হওয়ার পর মসজিদে বনী সালেমে যোহরের নামায আদায়ের সময় কিবলা পরিবর্তনের বিধান সম্বলিত ওহী নাযিল হলে নামাযের মধ্যেই তিনি কাবা শরীফের দিকে ফিরে যান। এভাবেই কিবলা পরিবর্তনের হয়। রজব মাসে কিবলা পরিবর্তন হয়। শাবান মাসেই রমযানের রোযা ফরয হয় এবং যাকাত ফিতরা আদায়ের বিধান নাযিল হয়। রমযানের পরেই কোরবানীর বিধান প্রবর্তিত হয়।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।