কলম্বিয়া এবং ব্রাজিলের সত্য ঘটনা, মহান আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতাকারীদের ভয়াবহ পরিণাম | আমার কথা
×

 

 

কলম্বিয়া এবং ব্রাজিলের সত্য ঘটনা, মহান আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতাকারীদের ভয়াবহ পরিণাম

coSam ২২১


এইডস এবং ইবোলো ভাইরাস সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। বর্তমানে অন্য একটি ভয়ানক ভাইরাস মানুষের জীবনে অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ভাইরাসের নাম হচ্ছে হাগ অথবা কুচিনো। কলম্বিয়া এবং ব্রাজিলে এ ভাইরাসের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা এ বিপজ্জনক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাদের বেশিরভাগ মারা যায়। যারা বেঁচে থাকে, তাদের চেহারা শূকরের মতো হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা এ ভাইরাস নিরাময়ের জন্য ভ্যাকসিন আবিস্কারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


এইডস এবং ইবোলা ভাইরাসের মতই হাগ ভাইরাস সর্বপ্রথম জঙ্গলে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষকে শিকার করে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গেছে হাগ ভাইরাস আমাজান নদী তীরের জঙ্গলে বসবাস্কারী শূকরের মধ্যে এবং মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমারিকার জঙ্গলে বসবাস্কারী এক শ্রেনীর জন্তুর মধ্যে প্রথমে এ ভাইরাস পাওয়া যায়, পরে এ ভাইরাস মানব্দেহে সংক্রমিত হয়। মধ্য আমাকেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ছোট জন্তুর মধ্যে হাগ ভাইরাস পাওয়া গেছে যসব জন্তুর লেজ রয়েছে এবং ওরা তিন ফুট উঁচু ও ছয় ফুট লম্বা। হাগ ভাইরাস কাশি, হাঁচি এবং দেহের লালা থেকে অন্য মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা এ রোগকে প্লেগের মতো সংক্রামক রোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।


হাগ ভাইরাসে যারা আক্রান্ত হয় তাদের প্রথমে জ্বর দেখা দেয়, তারপর দেহের জোড়ায় জোড়ায় ব্যাথার পাশাপাছি সেসব জায়গা ফুলে যায়। দেহের রক্ত চলাচল অস্বাভাবিক গতিতে বেড়ে যায়, তারপর এক সময় নাক, কান ও চোখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। যারা এ মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাদের শতকরা ৯৩ জন মারা যায়। অবশিষ্ট যে ৭ জন বেঁচে থাকে তাদেরকে মানুষ মনে হয় না বরং দেখে শূকর মনে হয়।


এক পরিসংখ্যান মতে এ যাবত অর্থাৎ ১৯০৬ সাল পর্যন্ত ৭৩২ জন হাগ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। যারা বেঁচে থাকে তাদের দেহের চামড়া মোটা এবং খসখসে হয়ে যায়, নাক কান লম্বা হয়ে যাত। তাদের গায়ের রঙ বদলে যায়। তাদেরকে দেখে মানুষ নয় বরং শূকর মনে হয়। তাদের সারাদেহে সূঁচালো লোম দেখা দেয়। নারী হোক বা পুরুষ হলো বেঁচে থাকা হাগ ভাইরাসের রোগীকে পুরোপুরী শূকর মনে হয়। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে যারা হাগ ভাইরাসে শিকার হয়েও বেঁচে যায় সমাজের সব মানুষ তাদেরকে ঘৃণা করতে থাকে। এরকম লোকের সান্নিধ্য থেকে সুস্থ মানুষ দূরে সরে যায় এবং তাদের প্রতি কারো মনে সামান্য ভালোবাসা ও মায়া-মমতা অবশিষ্ট থাকে না।


এরকম ভয়াবহ রোগের কথা ইতোপূর্বে আমি কখনো শুনিনি। এ যাবত ১৭৮ জন মানুষ হাগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যারা বেঁচে আছে তাদের জীওন মৃত্যুর চেয়ে ভয়ঙ্কর। কলম্বিয়ার পাবলিক হেলথ এজেন্সি হাগ ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ল্যাবেরটরিতে পরিক্ষা করা করছে। বিজ্ঞানীরা এ রোগের সংক্রমণ এবং উৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর এ রোগের প্রতিষেধক আবিস্কারের চেষ্টা করা যাবে। ডক্টর ব্যারণ কাজ বলেন, হাগ ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিস্কার করে এ রোগ প্রতিরোধে আমাদেরকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যদি আমরা এতে ব্যর্থ হই অচিরেই সারা বিশ্বে এ প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার ঘটবে।

(মাসিক ইলম ও আদব, ব্যাঙ্গালোর)

পরবর্তী গল্প
দুর্ভিক্ষের আযাব প্লেগের আযাব

পূর্ববর্তী গল্প
কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় আজারবাইজানের বাকু শহরের হায়দার নামক এক ব্যক্তির সাহসিকতা

ক্যাটেগরী