কবরে দুজন ফেরেশতা কর্তৃক মৃত ব্যক্তিকে সাওয়াল-জবাব | আমার কথা
×

 

 

কবরে দুজন ফেরেশতা কর্তৃক মৃত ব্যক্তিকে সাওয়াল-জবাব

coSam ৪৩


সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত যে যখন কোন জ্ঞানবান বালেগ মানুষের মৃত্যু হয়, আর তাকে কবরে রাখ হয় তখন তার কাছে দুজন ফেরেশতা আসেন, এসেই তারা জিজ্ঞেস করেন তার রব দ্বীন ও মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে।

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)  বলেছেন, যখন কোন মৃত মানুষকে কবরে রাখা হয় তখন তার কাছে কালাে বর্ণের নীল চোখা দুজন ফেরেশতা আসেন। তাদের একজনকে বলা হয় মুনকার' আর অপর জনকে বলা হয় নকীর।

বারা ইবনে আযেব হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হতে বর্ণনা করে বলেন : তার (মৃত কবরবাসী) কাছে দুজন ফেরেশতা আসেন, এসে তারা তাকে বসান। অতপর তারা তাকে বলেন : তােমার প্রভু কে? তখন তিনি বলেন আমার প্রভু আল্লাহ। অতপর তারা তাকে বলেন তােমার দ্বীন কি? তখন সে বলে আমি আল্লাহর কিতাব পড়ে ছিলাম। তার প্রতি ঈমান এনেছিলাম। এবং তা বিশ্বাস করেছিলাম এটাই বলা হয়েছে।

আল্লাহর বাণী যারা ঈমান তাদেরকে আল্লাহ সঠিক জবাব দানে তাওফীক দান করে স্থির রাখেন। তিনি বলেন তখন আসমান থেকে এক আহ্বানকারী আহ্বান করে বলেন আমার বান্দা সদুত্তর দিয়েছে। অতএব তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও।

এবং জান্নাতের পােশাক পরিয়ে দাও। এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। তখন তা খুলে দেয়া হয়। তখন তার কাছে জান্নাতের বাতাস। সুগন্ধ আসতে থাকে। এবং তার কবর যতটুকু দৃষ্টি যায় ততটুকু প্রসস্ত করে দেয়া আর কাফেরদের মৃত্যুর কথা আলােচনা করতে গিয়ে বলেন : তার রূহ তার দেহে ফিরিয়ে দেয়া হয়। অতপর তার কাছে দুজন ফেরেশতা আসেন তারা তাকে বসান। অতপর তারা প্রশ্ন করেন তােমার প্রভু কে? তখন সে বলে হায় হায়! আমি জানিনা। অতপর তারা তাকে প্রশ্ন করে : তােমাদের মধ্যে যে লােকটিকে। প্রেরণ করা হয়েছিল তিনি কে? তখন সে উত্তরে বলে হাই হাই জানিনা। তখন আসমান থেকে এক আহ্বানকারী আহ্বান করে বলে, সে মিথ্যা বলেছে। অতএব তাকে তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে জাহান্নামের পােশাক পরিয়ে দাও। আর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন : অতপর তার কাছে জাহান্নামের দিকে উত্তাপ এবং বিষবাষ্প আসতে থাকে। তিনি বলেন তার কবর তার উপর সংকীর্ণ করে দেয়া হয়।

ফলে সেখানে তার পাজর পরিবর্তন হয়ে যায়। অতপর তার জন্য নিয়ােগ দেওয়া হয় অন্ধ, বহরা, ফেরেশতা, তার সাথে থাকে লােহার হাতুড়ি। তা দ্বারা পাহাড়ের উপর আঘাত করা হলে তা মাটি ধুলা হয়ে যাবে। তখন সে ঐ হাতুড়ি দিয়ে এমন এক মার দেন যার ফলে সে এমন এক চিৎকার দেয় যা পূর্ব পশ্চিমের মানুষ ও জ্বিন জাতি ছাড়া সকলেই শুনতে পান। ফলে সে ধুলায় পরিণত হয়। অতপর তার মধ্যে আবার রূহ ফিরিয়ে দেয়া হয়। উপরােক্ত হাদীসে যে সাওয়াল জবাবের কথা বলা হয়েছে নিঃসন্দেহে তা বারযাখী। 

জীবনেই সংগঠিত হবে। যা মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মধ্যেই ঘটবে। তা কবরেও হতে পারে, আবার অন্য কোথাও হতে পারে। কবরে হবে বলে এ কারনেই বলা হয়েছে যে সাধারণ প্রায়সব মৃত মানুষকে কবর দেওয়া হয়।

পরবর্তী গল্প
আয়েশা রাঃ তালীম ও তারবিয়াত তৎকালীন আরবে শিক্ষার স্বরূপ

পূর্ববর্তী গল্প
মৃত ব্যক্তিকে দাফন ও কবজের পর রূহের উর্ধ্বেগমন

ক্যাটেগরী