কবরের আযাব সত্য-৩য় পর্ব | আমার কথা
×

 

 

কবরের আযাব সত্য-৩য় পর্ব

coSam ১৭


গল্পের ২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সেই জানালা দিয়ে সে জান্নাতের সৌন্দর্য ও অন্যান্য নিয়ামতসমূহ দেখতে পায়। তখন তাকে বলা হয়, এটা হল তােমার ঠিকানা। দুনিয়াতে তুমি ঈমানদার ছিলে ঈমানের সাথে তুমি কিয়ামতের দিন কবর থেকে উঠবে। অতপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : নাফরমান ব্যক্তি অত্যন্ত ভীত শঙ্কিত হয়ে তার কবরে উঠে বসে, আর তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় : তুমি দুনিয়ায় কোন ধর্মের উপর ছিলে? সে উত্তরে বলে: আমার জানা নেই।

পুনরায় তাকে (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে দেখিয়ে) জিজ্ঞেস করা হয় ; ঐ ব্যক্তি কে? সে উত্তর দেয় : তার সম্পর্কে অন্যান্য লােক যা বলেছে, আমিও তাই বলেছি। অতপর জান্নাতের দিক থেকে তার সামনে একটি জানালা খুলে দেয়া হয়। ফলে উক্ত জানালা দিয়ে সে জান্নাতের সুন্দর সুন্দর ও নয়নাভিরাম দৃশ্যসমূহ দেখতে পায়। 

তখন তাকে বলা হয় : চিন্তা করাে, তুমি আল্লাহর নাফরমানি করার কারণে আল্লাহ তা'আলা তােমাকে কেমন নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করেছেন। এরপর তার সামনে জাহান্নামের দিক থেকে একটি জানালা খুলে দেয়া হয়, আর সে দেখতে পায় যে, জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গারগুলাে কীভাবে একে অপরকে গ্রাস করছে।

অতপর তাকে বলা হয়, এটাই হলাে তােমার ঠিকানা। দুনিয়াতে থাকার সময় তুমি পরকালের প্রতি সন্দেহ নিয়ে জীবিত ছিলে, সন্দেহ অবস্থায়ই তােমার মৃত্যু হয়েছে, আর কিয়ামতের দিন সেই সন্দেহ নিয়েই তুমি কবর থেকে উঠবে।” এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ ইবন সুবই (রা.) বলেন : আমরা এক হাদীসে পেয়েছি : মুর্দাকে কবরে রাখার পর যদি তার উপর আযাব ও গযব শুরু হয়, তাহলে তার প্রতিবেশী মুর্দার বলে : হে ব্যক্তি আমরা যারা তােমার প্রতিবেশী ছিলাম, তােমার আগেই বিদায় হয়ে এসেছি। আমাদের এ বিদায়ের মাঝে তােমার জন্য চিন্তা ভাবনা বা শিক্ষা গ্রহণের কি কিছু ছিল না? তুমি কি দেখনি আমাদের সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে গেছে।

তােমার অগ্রবর্তীরা যেসব ভুল করেছিল, কেন তুমি সে সব ভুল থেকে মুক্ত হওয়ার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলে না? তাহলে তাে আজ তােমার এ অবস্থা হতাে না। এমনকি জগতের প্রত্যেক মাটি খণ্ড তাকে বলবে হে দুনিয়ার বাহ্যিক রূপে বিভ্রান্ত ব্যক্তি কেন তুমি তােমার ঐসব আপনজনদেরকে দেখে শিক্ষাগ্রহণ করলে না? যারা তােমার পূর্বে আমার অনুরূপ ধোকার শিকার হয়ে অবশেষে কবরের পেটে সােপর্দ হয়েছে? তুমি স্বচক্ষে দেখছিলে, বন্ধু-বান্ধবরা তাকে খাটে তুলে এমন এক ঠিকানার দিকে নিয়ে চলছে,

যেখানে যাওয়া একান্ত অবধারিত ছিল। হাদীসের অপর এক বর্ণনায় এসেছে, বাররা ইবন আবি রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন : একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে জনৈক আনসারীর জানাযায় শরীক হয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সা, মাথা ঝুকিয়ে তার কবরের পাশে বসে পড়েন। অতপর তিনি তিন বার বললেন:“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কবর আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” এ দীর্ঘ হাদীসের শেষাংশে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : যখন কাফির, মুশরিক ও নাফরমানদের দুনিয়া ছেড়ে পরকালের দিকে যাত্রা করার সময় হয়, তখন তার নিকট একদল কঠিন প্রাণ, কঠোর আচরণকারী ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়।

তাদের সাথে থাকে আগুন ও গন্ধকের পােশাক। তাকে তারা ঘিরে ফেলে। যখন তার রূহ বের হয়ে যায়, তখন আসমান জমিনের সকল ফেরেশতা তার উপর লানত করতে থাকে এবং আসমানের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রতিটি দরজাই কামনা করে, যেন এ রূহকে সে দিক দিয়ে ঢুকানাে না হয়। তার রহ নিয়ে যখন উর্ধ্বে গমন করা হয় তখন তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। ফেরেশতাদের পক্ষ হতে বলা হয় : হে আল্লাহ! আপনার অমুক বান্দাকে কোন আসমান, কোন জমিনই গ্রহণ করল না।

তখন আল্লাহ পাক বলবেন : তাকে নিয়ে দেখাও আমি তার জন্য কী কী আযাবের ব্যবস্থা করে রেখেছি। কারণ, আমি তাকে ওয়াদা দিয়েছি, এ মাটি থেকেই তােমাদের সৃষ্টি করেছি। পুনরায় এ মাটিতেই তােমাদেরকে নিয়ে যাব। যখন তাকে কবরস্থ করা হয়, তখন সে প্রত্যাবর্তনকারীদের পদধ্বনি শুনতে পায়। এমতাবস্থায়ই খুবই ভীষণ বীভৎস চেহারা বিশিষ্ট দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে প্রশ্ন করে যে ব্যক্তি।

তােমার রব কে? তােমার দ্বীন কী? তােমার নবী কে? তখন জবাবে সে বলবে : “আমি তাে কিছুই জানি না। তাকে বলা হবে : তােমার জানার দরকারও নেই। অতপর কাল-কুৎসিৎ চেহারা বিশিষ্ট, দুর্গন্ধময় দেহবিশিষ্ট ও বিশ্রী পােশাক পরিহিত জনৈক আগন্তুক এসে বলবে : হে আল্লাহর নাফরমান বান্দা, তুমি যন্ত্রণাদায়ক চিরস্থায়ী আযাবের সুসংবাদ গ্রহণ করাে । তখন ঐ কাফির, মুশরিক, নাফরমান ব্যক্তি বলবে : আল্লাহ পাক যেন তােমাকেই আযাব ও গযবের সুসংবাদ দান করেন। অতপর নাফরমান ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করবে : 'আচ্চা বল দেখি তুমি কে? সে বলবে : আমিই তােমার বদ আমল।

আল্লাহ পাকের কসম, আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতায় তুমি ছিলে দ্রুতগামী আর আনুগত্যে ছিলে শ্লথগতি সম্পন্ন। অতএব আল্লাহ পাক যেন তােমাক জঘন্যতম বদলা দান করেন। অতপর তার জন্য এমন এক ফেরেশতা নিযুক্ত করা হবে, যে হবে অন্ধ, বধির, বােবা। তার হাতে থাকবে একটি লােহার গদা। সমগ্র জিন ইনসান মিলেও যদি সে গদাটি উঠাতে চেষ্টা করে তাহলেও তা উঠানাে তাদের জন্য সম্ভব হবে না।

এর দ্বারা যদি কোন পাহাড়ের উপর আঘাত করা হয়, তাহলে পাহাড়ের মাটি ধুলা হয়ে যাবে। সেই গাদা দিয়ে উক্ত ব্যক্তিকে মারা হলে এত জোরে আওয়াজ করবে, যার আওয়াজ জিন-ইনসান ব্যতীত সবাই শুনতে পাবে। অতপর জনৈকি ঘােষণাকারী ঘােষণা করবে ওর জন্য দুটি আগুনের তক্তা বিছিয়ে দাও। দোযখের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। ফলে আগুনের দু'টি তা বিছিয়ে দোযখের দিকে একটি দরজা খুলে দেয়া হবে।

আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূল (সাঃ) বলেছেন : তােমরা কি জান, এ আয়াত কোন বিষয়ের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে? জবাবে সাহাবীগণ আরজ করলেন। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ ও তার রাসূলুল্লাহ সা,-ই অধিক জ্ঞাত। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন : এ আয়াত কাফিরদের কবর আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কাফিরদের উপর ৯৯ টি বিষধর সাপ লেলিয়ে দেয়া হবে। তােমরা কি বলতে পারাে কি রকম হবে সে বিষধর সাপগুলাে? জেনে রাখ,

প্রতিটি সাপ হবে সাত মাথা বিশিষ্ট। এ ধরনের ৯৯ টি সাপ কিয়ামত পর্যন্ত তাকে দংশন করে ক্ষত-বিক্ষত করতে থাকবে। তার দেহের ভিতর বিষাক্ত ও জ্বালাময় নিঃশ্বাস ছাড়তে থাকবে।" কবরের আযাবের বর্ণনা সম্পর্কে আরাে অনেক হাদীস রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে একটি দীর্ঘ হাদীসে রাসূল (সাঃ) বলেছেন : আল্লাহু তা'আলা আজরাঈলকে নির্দেশ দেন আমার অমুক দুশমনের নিকট যাও। তাকে আমার নিকট নিয়ে আস। তাকে আমি অনেক নিয়ামতরাজি দিয়ে আমি পরীক্ষা করেছি কিন্তু তার প্রতিদান হিসেবে সে আমার নাফরমানী ছাড়া আর কিছুই করেনি। আজরাঈল আ, আল্লাহ তা'আলার হুকুম পেয়ে ঐ নাফরমানের নিকট এমন এক বিকট চেহারা নিয়ে উপস্থিত হবে যে, এ বিকট চেহারাই তার শাস্তির জন্য যথেষ্ট।

আজরাঈলের সাথে পাঁচশত ফেরেশতা থাকে। মালাকুল মউত ভয়নক মূর্তিতে বার চক্ষু বিশিষ্ট চেহারায় জাহান্নামের আগুণের তৈরি কন্টকময় লােহার গুর্জ হাতে করে উপস্থিত হয়। মালাকুল মউত এসেই তার উপর কোড়া মারতে থাকেন। যার কাটাসমূহ মুর্দারের প্রতি শিরায় শিরায় প্রবেশ করে।

সাথে থাকা অন্যান্য পাঁচশত ফেরেশতা। ও নিতম্বে কোড়া মারতে থাকে, যার ফলে মুর্দা বেহুশ হয়ে যায়। অতপর ফেরেশতারা তামার টুকরা এবং জাহান্নামের অঙ্গারগুলি তার থুতনীর নীচে রেখে দেয়, মালাকুল মউত বলেন : হে অভিশপ্ত রূহ! বের হও এবং জাহান্নামের দিকে চলাে। অতপর তার রূহ যখন শরীর হতে বের হবে তখন সে শরীরকে বলবে আল্লাহ তা'আলা তােমাকে শাস্তি দান করুন।

তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং আমাকেও ধ্বংস করেছ। শরীর রূহকে এ কথা বলেই সম্বোধন করবে। আর যমিনের ঐ অংশ যেখানে সে গুনাহের কাজ করতাে তাকে লানত করতে থাকবে।

গল্পের শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
কবরের আযাব সত্য-শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
কবরের আযাব সত্য-২য় পর্ব

ক্যাটেগরী