কবরের আযাব সত্য-২য় পর্ব | আমার কথা
×

 

 

কবরের আযাব সত্য-২য় পর্ব

coSam ২৫


গল্পের ১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সেই গদা দিয়ে পাহাড়ে আঘাত করা হলে পাহাড় মাটির সাথে মিশে যাবে। যখন একবার গদা মারা হয়, তখন মানুষ ও জ্বিন ব্যতীত পৃথিবীর সকল প্রাণি সেই আওয়াজ শুনতে পায়। কেবল এক  বারের আঘাতেই সে মাটিতে পরিণত হয়ে যায়। পুনরায় তার শরীরে রূহ ফিরিয়ে দেয়া হয়। এরপর পুনরায় তাকে আঘাত করা হয়।

এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত তার কবরে এরকম কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া হবে। অপর এক হাদীসের বর্ণনায় এসেছে, গদার আঘাতের কারণে মৃত ব্যক্তি এমন জোরে চিৎকার দিবে যে, মানুষ ও জ্বিন ব্যতীত আশে-পাশের সকল কিছুই সে চিৎকার শুনতে পায়।

এ প্রসঙ্গে আল্লামা আশিক ইলাহী বুলন্দ শাহরী (রহঃ) বলেন : মানুষকে কবর আযাব না দেখানাে এবং মুর্দারের চিকার না শুনানাের অনেকগুলাে কারণ বিদ্যমান। যেমন : প্রথম কারণ হলাে, এমনটা করা হলে গায়েবের প্রতি ঈমান আনার বিষয়টির কোন মূল্য থাকে না।

এগুলাে দেখার পর সকলেই মেনে নেবে এবং ঈমানদার হয়ে যাবে কিন্তু আল্লাহর নিকট চোখে দেখা বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা গ্রহণযােগ্য নয়। এ কারণেই মৃত্যুর সময় ঈমান আনা গ্রহণযােগ্য নয়। দ্বিতীয় কারণ হলাে, মানুষ তা সহ্য করতে পারবে না।

যদি তারা কবর আযাবের অবস্থা নিজেদের কানে শুনতে পায় কিংবা চোখে দেখতে পায়, তাহলে সহ্য করতে না পেরে বেহুঁশ হয়ে পড়বে। অপর এক বর্ণনায় এসেছে, আবু সাঈদ আল-খুদুরী (রাঃ) হতে  বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : লােকেরা যখন নাফরমান মুর্দাকে নিয়ে কবরের দিকে রওয়ানা হয়, তখন মুর্দা বলতে থাকে, হায় আমার সর্বনাশ! তােমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? মুর্দারের সেই বিলাপধ্বনি মানুষ ছাড়া সকলেই শুনতে পায়। মানুষ যদি সেই আওয়াজ শুনতে পেত, তাহলে বেহুঁশ হয়ে যেত।

কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূল মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে  বারযাখের বিন্নি অবস্থা জানানাের সাথে সাথে দেখিয়েও দিয়েছেন।

কেননা, তার মাঝে তা বরদাশত করার মতাে ক্ষমতা বিদ্যমান ছিল। তাই দেখা যায়, জাহান্নামের ভয়াবহ দৃশ্য অবলোকন করার পর তার হাসি-কান্না, কথা-বার্তা, সাহাবীদের সাথে ওঠা-বসা পানাহারে কোন পার্থক্য প্রকাশ পায়নি। কবরের আযাব সম্পর্কিত আরেকটি হাদীসের মাধ্যমে জানা যায় যে, যায়িদ ইবন সাবি (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার নবী করীম (সাঃ) খচ্চরে চড়ে বনু নাজ্জার গােত্রের বাগিচার দিকে যাচ্ছিলেন। আমরাও তখন তার সাথে ছিলাম।

হঠাৎ খচ্চরটি এমনভাবে চমকে উঠল যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খচ্চরের পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন। সেখানে পাঁচটি কিংবা ছয়টি কবর ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন : এ কবরবাসীদের পরিচয় কারও কি জানা আছে? এক ব্যক্তি বলল । আমি জানি হে আল্লাহর রাসূল! তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তারা কবে মারা গেছে? সে বলল: জাহিলী যুগে মারা গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন: মানুষকে কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে।

আমার যদি এ আশঙ্কা না হতাে যে, তােমরা মৃতদেহ দাফন করা পরিত্যাগ করবে, তাহলে আমি অবশ্যই আল্লাহর নিকট দু'আ করতাম, যেন আমার ন্যায় তােমাদেরকেও কবরের কিছু আযাব শােনানাে হয়।" অপর এক বর্ণনা মতে জানা যায় যে, আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : একবার নবী (সাঃ) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন : এ কবর দু'টিতে আযাব হচ্ছে। তবে বড় কোন অপরাধের কারণে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না।

বরং এমন সাধারণ বিষয়ের জন্য আযাব হচ্ছে, যা থেকে তারা একটু চেষ্টা করলেই বাঁচতে পারতাে। অতপর রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) উভয়ের গুনাহের বিবরণ দিয়ে বললেন : তাদের একজন পেশাব করার সময় পর্দা করতাে না। (অন্য বর্ণনায় এসেছে, সে পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতাে না।) আর দ্বিতীয়জন চোগলখুরী করতাে। অর্থাৎ একের কথা অপরের কাছে বলে বেড়াতাে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একটি তাজা ডাল চেয়ে নিলেন। ডালটির মাঝখানে চিরে দু'টুকরাে করে দুই কবরে গেড়ে দিলেন।

সাহাবাগণ আরজ করলেন : হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমন কেন করলেন? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন। হয়তাে ভাল শুকিয়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাদের আযাব হালকা করা হাদীসের অপর এক বর্ণনায় এসেছে, আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : মৃতব্যক্তিকে কবরে রাখার পর তার কাছে কালাে বর্ণের ও নীল চোখ বিশিষ্ট দুইজন ফেরেশতা আসেন। তাদের একজনকে মুনকার ও অপরজনকে নকীর বলা হয়। 

তারা মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করে তােমার রব কে? তােমার দ্বীন কী? তােমার নবী কে? অথবা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে দেখিয়ে বলা হবে এ ব্যক্তি সম্পর্কে তােমার ধারণা কী? মৃত ব্যক্তি মুমিন হলে সঠিক উত্তর দিবে। ফলে তার জন্য কবর জান্নাতের বাগানে পরিণত হয়।

আর যদি মৃত ব্যক্তি নাফরমান ও মুনাফিক হয়, তাহলে সে মুনকার ও নাকীরের প্রশ্নের জবাবে বলে লােকদের যা বলতে শুনেছি আমিও তাই বলেছি। তার জবাব শুনে ফেরেশতাদ্বয় বলেন : আমরা ভাল করেই জানতাম যে তুমি এ ধরনের জবাব দেবে।

অতপর যমিনকে বলা হয় : এ ব্যক্তিকে চাপ দাও। ফলে জমিন তাকে এমনভাবে চাপ দেয় যে, একদিকের পাঁজর অপর দিকে চলে যায়। কিয়ামত পর্যন্ত সে উক্ত আযাবে অবস্থান করতে থাকবে। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উমর (রাঃ) কে বলেছিলেন : উমর, মানুষ যখন তােমাকে কবরে রেখে মাটি দিয়ে চলে আসবে এবং তােমার নিকট কবরের পরীক্ষক ফেরেশতাগণ এসে উপস্থিত হবে, তখন তােমার কী অবস্থা হবে? তাদের আওয়াজ বজের মত হবে। চোখ হবে দৃষ্টিশক্তি হরণকারী বিদ্যুতের ন্যায়।

তাদের অবস্থা তােমাকে প্রকম্পিত করবে এবং তারা তােমার সাথে বিচারকের ন্যায় কথাবার্তা বলবে, তখন তােমার কী অবস্থা হবে? উমর (রাঃ) আরজ করলেন : হে আল্লাহর রাসূল! তখন কি আমার জ্ঞান ঠিক থাকবে? রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন: হ্যাঁ, আজ তােমার জ্ঞান যে অবস্থায় আছে, সেদিনও একই অবস্থায় থাকবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উত্তর শুনে উমর (রাঃ)  বললেন : তাহলে পরিস্থিতি সামলে নিতে পারব ইনশাআল্লাহ।" হাদীসের অপর এক বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, বাররা ইব্‌ন আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা একবার রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর সাথে এক আনসারীর জানাযা নিয়ে কবরস্থানে গিয়েছিলাম।

যাওয়ার পর দেখি তখনও কবর তৈরি হয়নি। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বসে পড়লেন, আমরাও নিশ্চুপ হয়ে বসে পড়লাম। যেন আমাদের মাথার উপর পাখী বসে আছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাতে এক খন্ড শলাকা ছিল। তা দ্বারা তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। যেমন গভীর চিন্তায় মগ্ন ব্যক্তি করে থাকে। কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মাথা তুলে বললেন : তােমরা আল্লাহর কাছে কবর আযাব থেকে মুক্তি চাও।

দুবার কিংবা তিনবার এ কথা "আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : নিঃসন্দেহে (মুমিন) মৃত ব্যক্তি কবরে পৌঁছার পর নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে বসে থাকে। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয় : তুমি কোন ধর্মের অনুসারী? সে উত্তরা দেয় : আমি ইসলামের অনুসারী ছিলাম।

আবার প্রশ্ন করা হয় : তােমার আকীদা মতে ইনি কে? সে উত্তর দেয় ইনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট মােজেযা নিয়ে আমাদের 'কাছে এসেছিলেন এবং আমরা তাকে সত্য বলে স্বীকার করেছিলাম। তারপর তাকে প্রশ্ন করা হয়।

তুমি কি কখনাে আল্লাহকে দেখেছ? সে উত্তর দেয় (দুনিয়াতে) কারও পক্ষেই আল্লাহ্ তা'আলাকে দেখা সম্ভব নয়। আমি কী করে দেখব? অতপর তার দিকে জাহান্নামের একটি জানালা খুলে দেয়া হয়। সেই জানালা দিয়ে সে দেখতে পায় জাহান্নামের জ্বলন্ত কয়লাগুলাে একটি আরেকটিকে গ্রাস করছে। তখন এই জাহান্নামের ভয়াবহ দৃশ্য দেখার পর তাকে বলা হবে, চিন্তা কর, আল্লাহু তা'আলা তােমাকে কত বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। অতপর জান্নাতের একটি জানালা তার দিকে খুলে দেয়া হয়।

গল্পের ৩য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
কবরের আযাব সত্য-৩য় পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
কবরের আযাব সত্য-১ম পর্ব

ক্যাটেগরী