ওলীদ দিন মুগিরা কে দ্বীন কবুলের আহবান | আমার কথা
×

 

 

ওলীদ দিন মুগিরা কে দ্বীন কবুলের আহবান

coSam ১৭৩


কুরাইশ নেতা ওলীদ বিন মুগিরা আরবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধনী ও প্রতিপত্তিশালী ছিল। তার পুত্র সন্তানও অনেক ছিল। রাসূল (সাঃ) একদিন তার কাছে উপনীত হয়ে পবিত্র কোরআনের প্রতি তার নমনীয়ভাব সৃষ্টি হল। তাফসীরে কামাইলনের বর্ণনা অনুসারে দেখা যায় সে ঈমানও এনেছিল ওলীদ একদিন রাসূল (সাঃ)-কে দাওয়াত করল। সঙ্গে সঙ্গে আরবের সরদারদেরকেও দাওয়াত দিল। তার ইচ্ছা ছিল সে আনুষ্ঠানিকতভাবে সবাইকে নিয়ে ইসলাম কবুল করবে।

যখন খাবার পরিবেশন করা হল এবং দস্তরখানে সকলে উপস্থিত হল। তখন আবু জাহেল, আবু লাহাব প্রমুখ মুশরিকরা রাসূল (সাঃ)-কে উপস্থিত দেখে হাত তুলে বসে রইল। তারা ওলীদকে বলল মুহাম্মাদের সঙ্গে আমরা আহার করব না। আমরা শুনতে পেলাম তুমি নাকি মুহাম্মাদের উপর ঈমান এনেছ। ওলীদ বিন মুগীরা বলল, তাঁকে আমার আত্মীয় হিসেবে দাওয়াত করেছি, যেহেতু তিনি কালিমা না পড়লে খাবার গ্রহণ করবেন না, তাই শুধু প্রকাশ্যভাবে তার কালিমা পড়েছি, তবে অন্তরের দিক দিয়ে পূর্বপুরুষদের ধর্মের উপরই আছি।

তোমাকে আমরা সব ধরনের সাহায্য করব আমরা তোমাকে অর্থ সংগ্রহ করে দিব। তুমি বিরোধিতা কর। তার কালিমা ফেরত দাও। অন্যথায় আমরা এ দস্তরখানা থেকে উঠে যেতে বাধ্য হব। ওলীদ বলল, তার বিরোধিতার জন্য তোমাদের সাহায্য নিষ্প্রয়োজন। আমার ধন সম্পদ ও জনশক্তি কোনটারই অভাব নেই। মুহাম্মাদ সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি আমাকে বল। তারা বলল, আমরা তাকে একজন ভবিষ্যৎ প্রবক্তা ছাড়া আর কিছুই মনে করি না।

ওলীদ বলল, তিনি অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রবক্তা নন। ভবিষ্যৎ প্রবক্তাদের বাণী ও কার্যকলাপ সম্বন্ধে আমি যথেষ্ঠ অভিজ্ঞ তার কথাবার্তা ছন্দোবদ্ধ বাক্য বিন্যাস নয়। তারা বলল, সে উন্মাদ ওলীদ বলল, তিনি উন্মাদ নন। তার মধ্যে উন্মাদের মত প্রলাপ ও অসংলগ্ন অঙ্গভঙ্গি কিছুই দেখা যায় না। তারা বলল, সে একজন কবি। ওলীদ বলল, তাও হতে পারে না। কারণ কবিতা সম্বন্ধে আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। কবিতায় কোন ভাবধারাই তাঁর কথায় নেই।

তারা বলল, যাদুকর। ওলীদ বলল, আমি একমত নই। যাদুকরের কোন প্রকার ফন্দি ফিকির তাঁর মধ্যে নেই। তারা বলল, তবে তাকে কি বলা যায়। ওলীদ বলল, তাঁর কথায় অপূর্ব মর্ম আছে এর মূল অতলস্পর্শী ও শাখা ফলপ্রসূ। তবে তাকে যাদুকররা বললেই অনেকটা ঠিক হবে। কেননা, যাদুকররা যেমন স্বামী-স্ত্রী ও পিতা-পুত্রের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়, তার কথার মধ্যে অনুরূপ বিচ্ছেদের সৃষ্টি হয়। পরিশেষে কুরাইশরা বলল, তুমি তার কালেমা ফেরত দাও। ওলীদ দেখল, মুহাম্মাদের জন্য গন্যমান্য বহুলোককে হারাতে হয়। তাই সে বলল আমি তার কালিমা ফেরত দিলাম। কুরাইশরা বলল, আমরা তোমার মুখের কথা যথেষ্ট মনে করি না। তুমি তার মুখে থুথু দাও। ওলীদ সরদারদের মন রক্ষার্থে তাই করল। রাসূল (সাঃ) মর্মাহত হয়ে ব্যথিত হৃদয়ে চলে গেলেন। তিনি খাবারের পাত্র রেখেই চলে যান। আল্লাহর হাবীবের সাথে এহেন বেয়াদবী ও চরম অপমানজনক আচারণ আল্লাহ পাক সহ্য করলেন না। তিনি সাথে সাথে ওহী নাযিল করেন। ওলীদের ভর্ৎসনা ও তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়-
অর্থঃ আমাকে এবং ঐ ব্যক্তিকে একা ছেড়ে দিন যাকে আমি প্রচুর ধন, বিশাল সম্পদ এবং মজলিসে উপস্থিত হওয়ার মত যোগ্যতাসম্পন্ন পুত্র সন্তানদের দান করেছি এবং যার জন্য সম্পদের বিছানা প্রসারিত করেছি। অতঃপর সে আরও লোভ করে যে আমি তাকে আরও বেশী দান করব। কখনও না। নিশ্চয় সে আমার আয়াতসমূহের বিরুদ্ধাচারণকারী শত্রু। (সূরা-মুদ্দাচ্ছিরঃ আয়াতঃ ১২-১৬)

কুরাইশের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ রাসূল (সাঃ) সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) ও পবিত্র কোরআন সম্পর্কে ঠাট্টা বিদ্রূপ করতে লাগল। তাহাদের সম্বন্ধে কঠোর ভাষায় তিরস্কার ও হুমকি দিয়ে পবিত্র কোরআনে আয়াত নাযিল হয়েছেঃ
অর্থঃ যেভাবে আমি তাদের প্রতি আয়াত অবতীর্ণ করেছি যারা বিভক্তকারী সম্বন্ধে আমি নিশ্চয় তাদেরকে প্রশ্ন করব। (সূরা-হিজরঃ আয়াতঃ ১০-১৩)

  

পরবর্তী গল্প
ওমরের ইসলাম গ্রহণ - পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
আবু তালিবের কাছে কুরাইশদের প্রস্তাব

ক্যাটেগরী