ওতবার ঘটনা | আমার কথা
×

 

 

ওতবার ঘটনা

coSam ১৪৫


হুদাইবিয়ার সন্ধি সমাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সবেমাত্র মদীনায় উপনীত হয়েছেন। তখন ওতবা নামক এক মুসলিম কোন প্রকারে কুরাইশদের বন্ধিশালা থেকে পলায়ন করে মদীনায় রাসূলে পাক (সাঃ) এর দরবারে উপনীত হন। তাঁকে দেখেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ওতবা! তোমাকে মক্কায় ফেরত যেতে হবে। ইসলামে প্রতিজ্ঞাভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতার কোন স্থান নেই। ওতবা মদীনায় উপনীত হয়েছেন এ কথা জানতে পেরে কুরাইশরা দু জন দূত মদীনায় পাঠিয়ে সন্ধির শর্ত অনুসারে ওতবাকে তাঁদের হাতে সমর্পণের দাবী পেশ করে।

রাসূলুল্লহা (সাঃ) ওতবা (রাঃ) কে ধৈর্যধারণের উপদেশ দিয়ে কুরাইশ দূতদের সাথে মক্কার প্রেরণ করে।

ওতবা ও কুরাইশ দূত এক স্থানে বসে বিশ্রাম করছিল । এ সময় ওতবা (রাঃ) বিশেষ কৌশলে কুরাইশ দূতদের তরবারি হস্তগত করে তাঁদের একজনকে এক আঘাতেই নিহত করে ফেলেন, অন্য ব্যক্তি পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে মদীনায় গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে এ সংবাদ অবহিত করে।

অল্প ক্ষণের মধ্যে ওতবা (রাঃ) ও উলঙ্গ তরবারি হাতে রাসূলুল্লাহ তরবারি হাতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেছেন। আর আমি কুরাইশদের থেকে নিজের ইসলাম রক্ষার উপায় করে নিয়েছি। ওতবার কথায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দুঃখ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে লাগলেন। ওতবা (রাঃ) ভেবে ছিলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সন্ধির শর্ত পালন করে আমাকে কুরাইশদের হস্তে সমর্পন করেছেন। এখন তাঁর দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে।

তাই তিনি নির্বিঘ্নে মদীনায় থেকে যেতে পারবেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দুঃখ ও অসন্তোষ প্রকাশ দৃষ্টে ওতবার সে ভ্রম দূর হয়। এবার তিনি বুঝে ফেললেন, কুরাইশরা এলে তাঁকে আবার মক্কায় ফিরে যেতে হবে। এ ফিরে যাওয়ার পরিণতি যে কি হতে পারে তাও তাঁর বুঝতে বাকী রইল না।

সুতরাং কালবিলম্ব না করে ওতবা (রাঃ) মদীনা থেকে পলায়ন করে সমুদ্র উপকূলে ঈস নামক স্থানে এক সুরক্ষিত উপত্যকায় আশ্রয় নেন। ওতবার এসে খবর মক্কায় উৎপীড়িত মুসলমানদের নিকটও পৌঁছে যায়। ফলে নানা কৌশলে তাঁদের অনেকে পালিয়ে এসে এসে ওতবা (রাঃ) এর সাথে মিলিত হতে লাগলেন। এভাবে মক্কা থেকে পলাতক মুসলমানদের দল ভারী হতে থাকে। এক সময় এসব মুসলমান কুরাইশদের বাণিজ্য পথে হানা দিতে থাকেন।

এ দলের গুপ্ত আক্রমণে কুরাইশরা বিশেষ বিব্রত হয়ে উঠে। তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গে উঠার উপক্রম হয়। অথচ তাঁদের জীবিকার্জনের একমাত্র মাধ্যম ব্যবসা-বাণিজ্য। ঈসে পলাতক মুসলমান দলের উপর্যুপরি আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে কুরাইশরা মদীনায় দূত পাঠিয়ে অনুরোধ উপরোধ জানিয়ে হুদাইবিয়া সন্ধির পঞ্চম শর্তটি প্রত্যাহার করে নেয়।

এ শর্ত প্রত্যাহারের সাথে সাথে দলে দলে নির্যাতিতি মুসলমানরা মদীনায় হিজরত করতে থাকেন। এ দলে হযরত আবূ জন্দলও ছিলেন। পুরুষদের ন্যায় বহু নির্যাতিত মুসলিম মহিলাও মদীনায় হিজরত করেন। কুরাইশরা তাঁদেরকেও ফেরতদানের দাবী জানায়। কিন্তু সন্ধির শর্তে শুধু পুরুষের উল্লেখ থাকায় কুরাইশদের দাবী অগ্রাহ্য হয়।

পরবর্তী গল্প
বোরায়দা ও তাঁর সঙ্গীদের ইসলাম গ্রহণ

পূর্ববর্তী গল্প
হুদাইবিয়ার সন্ধির সুফল

ক্যাটেগরী