ওকবাসহ কতিপয় কাফেরের বেয়াদবী | আমার কথা
×

 

 

ওকবাসহ কতিপয় কাফেরের বেয়াদবী

coSam ১০৭


কোয়াবে আবূ তালিব হতে বেরিয়ে আসার পর আল্লাহ পাক কুরাইশদের চক্রান্ত হতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে রক্ষা করলেন। আবূ তালিব, বনী হাশেম ও বনী মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে অটল রইল। কাফেররা অত্যাচারের আর কোন পথ খুঁজে না পেয়ে এখন তারা কথা বার্তা ও উপহাসের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- কে কষ্ট দিতে লাগল। আবূ লাহাব, আবূ জাহল প্রমুখ নেতারা নানান ভাবে উপহাস করত। একবার ওকবার বাড়িতে একটি দাওয়াতের আয়োজন করা হল। কুরাইশ নেতৃবৃন্দ এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কেও দাওয়াত করা হল। আল্লাহর রাসূল বলেন, তুমি যে পর্যন্ত কলেমা পাঠ না করবে সে পর্যন্ত আমি খানা খাব না। ওকবা কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খানা খেলেন।

এ অবস্থা দেখে উবাই বিন খালফ ওকবাকে ধমকের সুরে বলল তুমি কি পিতৃপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করেছ? ওকবা বলল, না। তবে মুহাম্মদ একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। আমার বাড়িতে এসে বিনা আহারে উঠে যাবে এটা আমার জন্য অতিশয় লজ্জার ব্যাপার। তাই আমি কেবলমাত্র মুখে কলেমা পড়েছি, অন্তরের বিশ্বাস তোমাদের সাথে। উবাই বলল তা হলে তুমি মুহাম্মদের মুখে থুথু নিক্ষেপ কর অথবা তাকে ঘুষি মেরে তার কলেমা ফেরত দিয়ে দাও। নচেৎ আমি তোমার মুখ দেখব না। দুর্বৃত্ত ওকবা তাই করল। তার থুথু হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মুখে না পড়ে অগ্নিস্ফুলিংগ হয়ে উলটা তার মুখেই এসে পড়ল এবং তার মুখমন্ডল এ অগ্নি স্ফুলিংগে পুড়ে গেল। মৃত্যু পর্যন্ত সে পোড়ার দাগ তার মুখে বলবত ছিল। ওকবার শানে আল্লাহ পাক এ আয়াত নাযিল করেন-

অর্থঃ এবং এ দিনের কথা স্মরণ কর, যে দিন জালেম আপন হস্তপৃষ্ঠ দংশন করতে করতে বলবে হায় কি ভাল হত যদি আমি রাসূলের সাথে দ্বীনের পথ অবলম্বন করতাম। সূরা-ফোরকানঃ আয়াত-২৭

একবার উবাই বিল খলফ একটি উটের পুরানা হাড় হাতে করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এসে রাসূলে কারীম (সাঃ) কে উপহাস করে ঐ হাড় যমীনে সজোরে নিক্ষেপ করে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল এবং বলল, হে মুহাম্মদ তুমি নাকি বলে থাক হাড় আল্লাহ পুনরায় জীবিত করবেন। এটা কখনও হতে পারে না। তখন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-

অর্থঃ মানুষ কি জানেনা যে নিশ্চয় আমি তাকে বীর্য হতে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর সে প্রকাশ্য দুশমন হয়েছে এবং আমার জন্য এক অদ্ভুত দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ বর্ণনা করেছে অথচ তার নিজের সৃষ্টিকে ভুলে গিয়েছে এবং বলল এ সব হাড্ডি সমূহ পচে গলে যাওয়ার পর কে এদেরকে জিন্দা করবে? সূরা ইয়াসীন- আয়াত  ৭৭-৭৮

একবার ওলীদ কুরাইশদেরকে বলল, মুহাম্মদ বলছে, তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপকারী ফেরেশতার সংখ্যা উনিশ। মুহাম্মদের কথা সত্য হলে আমি একা সতর জনকে ধাক্কায়ে ফিরিয়ে দিব। তোমরা অবশিষ্ট দুইজনকে সকলে মিলে পরাস্ত করতে পারবে কি? তারা বলল, হ্যাঁ। নিশ্চয় পরব। তখন আল্লাহ পাক এ আয়াত নাযিল করেনঃ

অর্থঃ এবং আমি জাহান্নামের কার্য নির্বাহক একমাত্র ফেরেশতাদেরকে করেছি এবং তাদের সংখ্যা (উনিশ) কাফেরদের পরীক্ষার জন্য করেছিঃ অর্থঃ দোযখের উপর এমন ফেরেশতা (নিযুক্ত) আছেন যারা অত্যন্ত শক্তিশালী।

কুরাইশরা এমনিভাবে বহু উপহাস করত। আর একবার আবূ জাহেল বলল জাহান্নামের জাক্কুম আর মদীনার খেজুর আমরা আনন্দের সাথে ভক্ষণ করব। এটা কি সম্ভব যে, আগুণের মধ্যে বৃক্ষ থাকবে?
তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
অর্থঃ নিশ্চয় জাক্কুম বৃক্ষ গুনাহগারের খাদ্য যা বেল গাছের ন্যায়, গরম পানির ন্যায় এটা তাদের পেটে জোশ মারতে থাকবে। সূরা দোখান- আয়াত ৪৩-৪৬

হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পুত্র কাশেমের ইন্তেকালের পর কাফেররা বলতে লাগল। মুহাম্মদ একজন নির্বংশীয় লোক। তার ধর্ম তার পর কে রক্ষা করবে। তখন সূরায়ে ইন্না আতাইনা নাযিল হয়েছে।

সূরায়ে কাওছার নাযিল করে আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জন্য একটি বিশেষ নেয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন আর এটা হচ্ছে হাউজে কাউছার। যা হাশরের মাঠে তাঁকে দেয়া হবে। পানির তৃষ্ণায় মানুষ ছয়দিন অতিশয় কাতর হয়ে পানির খোঁজে দৌড়াতে থাকবে এবং দৌড়াতে দৌড়াতে তাদের জিহ্বা বের হয়ে যাবে। কিন্তু কোথাও এক কাতরা পানি পাবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ হাউজে কাউসার হতে তাঁর উম্মতদেরকে পানি পান করাবেন।

   

পরবর্তী গল্প
আবূ তালিবের ওফাত

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত তোফাইল (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণ

ক্যাটেগরী