এহরাম বাধার তরীকা | আমার কথা
×

 

 

এহরাম বাধার তরীকা

coSam ৩২


এহরাম বাধার তরীকাঃ
* এহরাম বাধার ইরাদা হলে প্রথমে ক্ষৌরকার্য করে নিন-নখ কাটুন, বগল ও নাভির নীচের পশম পরিষ্কার করুন।  এগুলাে মােস্তাহাব। মাথা মুণ্ডানাের অভ্যাস থাকলে মাথা মুণ্ডিয়ে নিন অন্যথায় চুল আঁচড়িয়ে নিন। স্ত্রী সম্ভোগও মােস্তাহাব।   
* তারপর এহরামের নিয়তে গােসল করুন, না পারলে উযু করে নিন। এটা সুন্নাত। ভালভাবে শরীরের ময়লা দূর করবেন।
* তারপর সেলাই বিহীন (ফাড়া) লুঙ্গি পরিধান করুন অর্থাৎ, একটা চাদর পরিধান করুন এবং একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে নিন। এখন ডান বগলের নীচে দিয়ে পরবেন না। এহরামের কাপড় সাদা রংয়ের হলে উত্তম । পুরুষের ন্যায় এহরামের অবস্থায় শরীরের পরিমাপে সেলাই করা হয়েছে-এমন কাপড় পরিধান করা নিষিদ্ধ। মহিলাগণ যে কোন পোশাক পরিধান করতে পারেন । এহরামের কাপড় নতুন বা পরিষ্কার হওয়া উত্তম।
* তারপর সুগন্ধি লাগিয়ে নিন। এটা সুন্নাত।
* তারপর এহরামের নিয়তে দুই রাকআত নফল নামায পড়ে নিন। এটা সুন্নাত। এই দুই রাকআতের মধ্যে প্রথম রাকআতে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা এখলাস পড়া উত্তম। এই নামায মাথায় টুপি সহকারে (বা মাথা ঢেকে)ই পড়তে হয়। নামাযের নিষিদ্ধ বা মাকরূহ ওয়াক্তে এহরাম বাধতে হলে এহরামের নামায না পড়েই এহরাম বাধতে হয়।      
* নামাযের পর টুপি খুলে রেখে কেবলামুখী থেকেই এহরামের নিয়ত করতে হবে। বসে বসেই নিয়ত করা উত্তম এবং নিয়ত মুখেও উচ্চারণ করা।    
* শুধু উমরার এহরাম হলে এভাবে নিয়ত করুন বাংলায়ঃ
হে আল্লাহ, আমি উমরা করতে চাই, তুমি আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং ককূল কর।
* শুধু হজ্জের এহরাম হলে এভাবে নিয়ত করুন বাংলায়ঃ    
হে আল্লাহ, আমি হজ্জ করতে চাই, তুমি আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং আমার থেকে তা কবূল কর।
* উমরা ও হজ্জ উভয়টার এহরাম হলে এভাবে নিয়ত করুন বাংলায়ঃ হে আল্লাহ, আমি হজ্জ ও উমরা উভয়টার নিয়ত করছি, তুমি সহজ করে দাও এবং ককূল কর।          
* তারপর তালবিয়া পড়ুন। তালবিয়া পড়া সুন্নাত, তবে নিয়তের সাথে একবার তালবিয়া বা যে কোন যিকির থাকা শর্ত। তালবিয়া জোর আওয়াজে পড়া সুন্নাত এবং তিনবার পড়া সুন্নাত। মহিলাদের জন্য তালবিয়া জোর আওয়াজে পড়া  নিষিদ্ধ, তারা এতটুকু শব্দে পড়বে যে নিজের কানে শােনা যায়। তালবিয়া আরবীতেই পড়া উত্তম। তালবিয়া এইঃ
(লব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ানি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক,
লা শারীকা লাক) অর্থাৎ, আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, কোন শরীক নেই তােমার, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত তােমারই, আর সকল সাম্রাজ্যও তােমার, কোন শরীক নেই তােমার।
বিঃ দ্রঃ নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করার পর এহরাম বাধা সম্পন্ন হয়ে গেল।     
* তারপর দুরূদ শরীফ পড়ুন এবং যা ইচ্ছা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, তবে এই দুআ করা উত্তম
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তােমার নিকট চাই তােমার সন্তুষ্টি এবং জান্নাত। আর তােমার অসন্তোষ ও জাহান্নাম থেকে তােমার কাছে পানাহ চাই।       
* মহিলাগণ হায়েয নেফাসের অবস্থায় থাকলে নামায না পড়ে শুধু নিয়ত করে এবং তালবিয়া পড়ে নিলেই এহরাম শুরু হয়ে যাবে।   

সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী
 

 

পরবর্তী গল্প
এহরামের অবস্থায় যা যা করা উত্তম

পূর্ববর্তী গল্প
এহরামের মাসায়েল ও কোথা থেকে এহরাম বাধবেন

ক্যাটেগরী