এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – শেষ পর্ব

coSam ১১৫


প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কিন্তু এনতাকিয়া কাফেররা তাঁদের এসব উপদেশ ও সতর্কবাণী পেয়ে ক্ষান্ত হল না। তারা আরও অগ্নিশর্মা হয়ে উঠিল। তারা তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল। হাবীব নাজ্জার যখন তাদের এই পরিকল্পনার কথা জানতে পারল সে উদ্বিগ্ন হয়ে দৌড়িয়ে তার কওমের লোকদের কাছে এসে তাদের এ জঘণ্য ষড়যন্ত্রের ভয়াবহ পরিণামের কথা স্মরণ করিয়ে দিল। পবিত্র কোরআনে তার কথা নিম্নোক্ত প্রভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থঃ শহরের প্রান্ত হতে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল- হে আমার কওমের লোকসকল রাসূলদের দেখান পথের অনুসারী হও। এমন ব্যক্তিদের অনুসরণ কর যারা দাওয়াতের কাজের কোন প্রকার বিনিময় চায় না এবং তারা নিজেরা সঠিক পথে চলে। আমার এমন কি বাধা রয়েছে যে, আমি এমন এক সত্তার ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার কাছেই আমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

আমি কি এমন সত্তাকে ছেড়ে অন্য কাউকেও মাবুদ হিসেবে গ্রহণ করতে পারি যে, আল্লাহ পাক আমাকে কোন বিপদে ফেলতে চাইলে এ সকল নকল মাবুদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং আমাকে বিপদমুক্ত করতে পারবে না? এ সত্ত্বেও যদি দের ইবাদত করি তা হলে তো আমি প্রকাশ্য গোমরাহীতে নিমজ্জিত হব। সূরা ইয়াসীনঃ আয়াত-২০-২৪

সে নানাভাবে তাদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করল। শেষ পর্যন্ত স্বীয় ঈমান গ্রহণের ব্যাপারটিও প্রকাশ করে দিল। তার ঈমান গ্রহণের কথা শুনা মাত্র তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল এবং তাকে আঘাতে জর্জরিত হওয়া অবস্থায়ও সে স্বীয় সম্প্রদায়ের লোকদের জন্য দোয়া করছিল – হে আমার রব আমার সম্প্রদায়ের লোকদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করুন। তবুও যালেমদের অন্তর গলেনি। শেষ পর্যন্ত পাষন্ডরা তাকে হত্যা করেই ছাড়ল। পরে এ শহরেই তাকে কবরস্থ করা হয়। কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, তারা উল্লেখিত মহান ব্যক্তিত্রয় অর্থাৎ শামউন, সাদিক ও সুদুককেও হত্যা করেছিল। কিন্তু সহীহ কোন বর্ণনায় তাদের শেষ অবস্থার কথা আলোচিত হয়নি।

হাবীব নাজ্জারের শাহাদতের সাথে সাথেই আল্লাহর পক্ষ হতে তাকে সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে যে- তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। কিন্তু সে তখনও আপন কওমের লোকদেরকে ভুলেনি। বরং কওমের লোকদের নাজাতের জন্য আফসোস করছে, তার আফসোসের কথা বর্ণনা করা হয়েছে-

হাবীব নাজ্জার বলল, হায়! আফসোস। যদি আমার কওমের লোকেরা জানত যে আমার রব আমাকে মাফ করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সূরা-ইয়াসীনঃ আয়াত ২৬-২৭

উল্লিখিত ঘটনার পর আল্লাহ তাদের ধ্বংসের ফয়সালা করলেন। হযরত জিবরাইল আঃ কে প্রেরণ করলেন তাদেরকে ধ্বংসের জন্য। তিনি এনতাকিয়া শহরে উপনীত হয়ে শহরের উভয় পার্শ্বে হাত রেখে খুব জোরে শব্দ করলেন, শব্দের গর্জনে শহরের সমস্ত লোক কলিজা ফেটে মৃত্যুমুখে পতিত হল।

প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৫

ক্যাটেগরী