এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৫ | আমার কথা
×

 

 

এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৫

coSam ১০৬


শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এদিকে শামাউন ও মনে মনে দোয়া করছিলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত ব্যক্তি জীবন লাভ করল। সে উঠে দাড়াল। আর উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে বলল, আমি আজ সাত দিন পর্যন্ত মৃত। আমি মুশরিক। আমাকে দোযখের সাতটি গর্তে ঢুকান হয়েছে, তোমরা যে দ্বীনের অনুসরণ করছ তা তোমাদের জন্য ভয়াবহ বিপদ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমি তোমাদেরকে এ সম্পর্কে সাবধান করছি। সুতরাং তোমরা আল্লাহ পাকের প্রতি ঈমান আন।

সে আরও বলল আমি আকাশের দরজার নীচে এক সুন্দর যুবককে দর্শন করছি যে, এ যুবক এ তিন জনের জন্য সুপারিশ করছেন। বাদশাহ বলল, এ তিন ব্যক্তি কে? সদ্য জীবিত ব্যক্তি বলল, তাদের একজন হল শামাউন। আর অপর দুজন হল এ দুজন। এ বলে সে সাদিক ও সুদুকের দিকে ইঙ্গিত করল। শামাউন বুঝলেন যে, এখন আর তার পক্ষে নিজকে গোপন রাখা সম্ভব নয়। তাই তিনি বাদশাহের সামনে নিজের প্রকৃত পরিচয় দান করলেন। কুরআনে পাকে বলা হয়েছে- অতঃপর আমি তৃতীয় একজন দিয়ে তাদের শক্তি বাড়ালাম।

অতঃপর শামউন বাদশাহকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান। আর বলেন, আমাদেরকে আপনাদের কাছে পাঠান হয়েছে যেন আমরা আপনাদেরকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করি। বাদশাহ ঈমান তো আনলোই না বরং তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করল। বলল, কোরআনের ভাষায়- তারা বলল-নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত। এনতাকিয়াবাসী বলল- তোমরা তো আমাদের ন্যায় মানুষ। পরম করুণাময় তোমাদের কাছে কোন ওহী নাযিল করেন নি। তোমরা তো মিথ্যা বলছ। সূরা ইয়াসিনঃ আয়াত- ১৭

আমাদের রব জানেন যে, আমরা তোমাদের প্রতিই প্রেরিত হয়েছি এবং আল্লাহর পরিষ্কার নির্দেশ তোমাদের কাছে পৌঁছে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব। সূরা ইয়াসীনঃ আয়াত ১৭

এরপরও তারা তো ঈমান আনলই না বরং আল্লাহ পাকের প্রতি ঈমান গ্রহণের আহ্বানকে বার বার ঠাট্টা বিদ্রুপ করত। তাদের এ আচরণের কারণে আযাবের নমুনা স্বরুপ আল্লাহ পাক বৃষ্টি বন্ধ করে দিলেন। অনাবৃষ্টির ফলে দেশে অভাব দেখা দিল।

তারা একে নিজেদের কর্মের প্রতিফল হিসাবে গ্রহণ না করে তারা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের দোষারোপ করছে। অবিশ্বাসীদের সাধারণ অভ্যাস হল তাদের প্রতি কোন বিপদাপদ আসলে তারা বলত এ বিপদাপদ এদের কারণে হয়েছে। যেমন হযরত মূসা আঃ এর কওমের লোকদের সম্পর্কে কোরআনে উল্লেখ হয়েছে- যখন তাদের ভাল অবস্থা আসত তখন তারা বলত যে এটা আমাদের কারণে হয়েছে। আর যখন তাদের মধ্যে কণ খারাপ অবস্থা দেখা দিত তখন তারা ধারণা করত যে এটা মূসা আঃ ও তাঁর অনুসারীদের কারণে হয়েছে।

এনতাকিয়ার অধিবাসীরাও এর ব্যতিক্রম করল না। তারাও হযরত ঈসা আঃ এর প্রেরিত উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয় সম্পর্কে বলল-

তারা বলল, নিশ্চয় তোমাদের কারণে আমাদের মধ্যে এ অশুভ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সূরা - ইয়াসীনঃ আয়াত ১৮

বিরত না হলে অবশ্যই তোমাদেরকে পাথর মারব এবং নিশ্চয়ই আমরা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দেব।

তাঁরা বলেন, তোমাদের এ বিপদের কারণ আমরা নই বরং হককে গ্রহণ না করে অসত্যের দিকে ধাবিত হওয়াই বিপদাপদের কারণ হয়ে থাকে। যদি তোমরা সকলে সত্যকে কবূল করতে একমত হয়ে পড়তে এবং সত্য গ্রহণে মতপার্থক্যের সৃষ্টি না করতে তবে কোন দিন তোমাদের প্রতি বিপদ আপতিত হত না। সুতরাং আমাদের কারণে তোমরা বিপদগ্রস্থ হওনি বরং বিপদ তোমরাই ডেকে এনেছ।

শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৪

ক্যাটেগরী