এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৪ | আমার কথা
×

 

 

এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৪

coSam ১০৩


পর্ব ৫ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

শামাউন অতি নম্র স্বরে বলেন, জাঁহাপানা অনুমতি হলে আমি তাদেরকে ডেকে এনে তাদের মতামতের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করে দেখতে পারি। তদুপরি তাদের বক্তব্য সম্পর্কে আমারও একটা ধারনা হয়ে যাবে।

শামউনের উপর বাদশাহের সুদৃঢ় আস্থা থাকায় শামাউনের কথায় সম্মতি জানালে তাদের সাথে আলাপ আলোচনার জন্য শামউনকে অনুমতি প্রদান করল। শামউন তাদেরকে কয়েদখানা থেকে রাজদরবারে হাযির করে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদেরকে এখানে কে পাঠিয়েছেন? তাঁরা জবাব দিলেন, বিশ্ব নিখিলের মহান স্রষ্ঠা আল্লাহ পাঠিয়েছেন। তিনি এক একক তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি এমন এক সত্তা যে, তিনি যা চান তাই করতে পারেন। তিনি সর্বশক্তিমান। তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়নে কেহই বাধার সৃষ্টি করতে পারে না।

শামাউন বলেন- তোমাদের প্রেরিত হওয়ার উপর তোমাদের কাছে কোন নিদর্শন আছে কি? তারা বলেন- আপনারা যা চাইবেন আমরা তা করে দেখাতে পারব? এখন বাদশাহ তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য একটি অন্ধ ছেলেকে সামনে উপস্থিত করার নির্দেশ দিল। বাদশাহের সামনে এমন একটি অন্ধ ছেলেকে উপস্থিত করা হল যার চক্ষু দ্বয়ের কোন নিদর্শন ছিল না।

বরং চক্ষুদ্বয়ের স্থান কপালের অনুরূপ সমতল ছিল। বাদশাহ বলল, তোমরা এ বালকের চক্ষুকে ভাল করে দাও।

বাদশাহ আরও বলল, তোমরা এর চক্ষুদ্বয় ভাল করতে পারলে বুঝব যে, তোমরা সত্য। তাঁরা আল্লাহ পাকের কাছে ছেলের চক্ষু ভাল করে দেয়ার দোয়া করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় বালকের চক্ষু খুলে গেল। তখন তারা সামান্য মাটি হাতে তার চক্ষুদ্বয় মুছে দিলেন। ফলে সে সবকিছু দেখতে লাগল। বাদশাহ এটা দেখে অবাক হয়ে রইল। শামাউন বাদশাহকে বলেন- আপনি আপনার রবের কাছে এ ধরনের দোয়া করলে তো আপনার রবও তাকে ভাল করে দিত। ফলে আপনার এবং আপনার মাবুদের সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশ পেত।

বাদশাহ বলল, আমি তো আপনার কাছে কোন কথা গোপন করি না। আমি যদি আমার মাবুদের কাছে দোয়া করতাম তবে কোন লাভ হত না। কেননা, আমি যার ইবাদত করি তা জড় পদার্থ। তদুপরি এরা না কারও উপকার করতে পারে আর না অপকার।

শামউন দেখলেন যে, বাদশাহর মন অনেকটাই নরম হয়ে আসছে এবং কয়েদীদের সম্পর্কে নমনীয় ভাব প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু এখনও তাদের উপর ঈমান আনতে রাজী নয়। শামউন সর্বদাই বাদশাহর সাথে এমন আচরণ করতেন যাতে বাদশাহ শামাউনকে অন্য দ্বীনের অনুসারী ভাবতে না পারেন। এমনকি মাঝে মাঝে বাদশাহের উপাস্যের সম্মুখে গিয়ে দোয়া করতেন। কান্নাকাটি করতেন অতি কৌশলে।

তাই ঈমান গ্রহণের জন্য বাদশাহর উপর কোন চাপ প্রয়োগ না করে তার সামনে দ্বিতীয় নিদর্শন উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তাই শামাউন তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের রব কি মৃত ব্যক্তিকে জীবন দান করতে পারেন? তারা বলেন আমাদের রব সবকিছু করার ক্ষমতা রাখেন। সামাউন বলেন- এখানে একজন মৃত ব্যক্তি আছে।

সাত দিন পূর্বে মারা গিয়েছে। তারা পিতার অনুপস্থিতির কারণে আমরা তাকে দাফন করছি না। তার পিতা ফিরে আসলে তাকে দাফন করব। তোমার রব তাকে পুনর্জীবন দান করতে পারবেন কি? তারা বলেন- আমাদের রব তাকে পুনরায় জীবিত করতে সম্পূর্ণ সক্ষম। এ বলে তারা মৃত ব্যক্তিকে সামনে রেখে, তারা প্রকাশ্যে দোয়া করছিলেন।

পর্ব ৫ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৫

পূর্ববর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৩

ক্যাটেগরী