এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৩ | আমার কথা
×

 

 

এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৩

coSam ১৩২


পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হাবীব নাজ্জারও তার পুত্র উভয়ে ঈমান আনল। অতঃপর তারা শহরাভ্যন্তরে প্রবেশ করল। ধীরে ধীরে তাদের কথা সমস্ত শহরে ছড়িয়ে পড়ল। শহরের বিভিন্ন জায়গা হতে অসুস্থ লোকেরা তাদের কাছে ভীড় করা শুরু করল। আল্লাহর মেহেরবাণীতে সকলেই রোগ আরোগ্য হল। তৎকালে এনতাকিয়া শহরের বাদশাহর নাম ছিল এনতিখাস। তাদের কথা ধীরে ধীরে বাদশাহের কানে পৌঁছল। বাদশাহ তাদেরকে দরবারে ডেকে আনল।

তারা দরবারে উপনীত হওয়ার পর বাদশাহ তাদের জিজ্ঞেস করল, তোমরা কে? কোথা হতে তোমাদের এখানে আগমন? তারা বলেন- আমরা হযরত ঈসা আঃ এর দূত। তিনি আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। বাদশাহ জিজ্ঞেস করল-কেন এসেছ? জবাবে তারা বলেন – হে বাদশাহ ! আপনারা এমন বস্তুর উপাসনা করছেন, যারা না দেখার আর না শ্রবণ করার কোন ক্ষমতা রাখে। আর আপনারা এমন মহান সত্তার ইবাদত পরিত্যাগ করেছেন।

যিনি সবকিছু দেখেন এবং শুনেন। সুতরাং আমরা আপনাদেরকে এ মহান সত্তার ইবাদতের দিকে আহ্বান করার জন্য এখানে আগমন করেছি। বাদশাহ বলল, তবে কি আমাদের মাবূদ ছাড়াও তোমাদের অন্য কোন মাবূদ রয়েছেন? তারা বলেন- হ্যাঁ, যিনি আমাদের মাবূদ তিনি আপনাকেও সৃষ্টি করেছেন এবং আপনারা যার ইবাদত করেন তাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন।

বাদশাহ বলল, ঠিক আছে তোমরা অপেক্ষা কর। আমি তোমাদের সম্পর্কে চিন্তা করে দেখি। এরপর বাদশাহ যা বলল তার বিপরীত কাজ করল। সে তাদেরকে বন্দী করে প্রত্যোককে একশ করে বেত্রাঘাত করল। ঈসা আঃ তাদের কয়েদের খবর পেয়ে তাদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য শামাউনকে পাঠালেন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

আপনি কাফেরদের সামনে এক জনপদের কাহিনী বর্ণনা করুন। যখন এ জনপদে প্রেরিত লোকজন এসেছিল। যখন আমি এ জনপদবাসীর কাছে দু ব্যক্তিকে পাঠাই। তারা তাদের উভয়কে মিথ্যুক বলেছিল। অতঃপর আমি তৃতীয় ব্যক্তিকে পাঠিয়ে তাদেরকে সহায়তা করি।- সূরা ইয়াসীনঃ আয়াত ১৪-১৫

শামাউন আগেই টের পেয়ে সরাসরি দাওয়াতের কাজ পরিহার করে। তিনি কৌশলগত দিক গ্রহণ করে তাদেরকে বাগে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তিনি একজন অপরিচিত লোক হিসাবে শহরে প্রবেশ করলেন। আর রাজপ্রাসাদের সন্নিকটে একটি গৃহে বসবাস আরম্ভ করলেন। তিনি কথাবার্তায় ও আচার আচরণে শহরবাসীর কাছে একটি উদাহরণ হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করলেন। তার কথা ধীরে ধীরে বাদশাহের কানে প্রবেশ করল।

বাদশাহ তাকে দরবারে ডেকে আনলেন। সে দরবারে উপস্থিত হলে বাদশাহ তার সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাকে সম্মান প্রদর্শন করল। দরবারে তাকে উচ্চ পদস্থ লোক বলে স্থান দিল। এমনকি তাকে তার কাছের ব্যক্তি বলেই মনে করল। যখন বাদশাহের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা সুদৃঢ় হল তখন একদিন বাদশাহকে জিজ্ঞেস করলেন- আমি জানতে পারেছি যে, আপনি দুজন লোককে কয়েদ করে রেখেছেন। আর আপনাকে তারা আপনার দ্বীন পরিত্যাগ করতে বললে আপনি নাকি তাদেরকে মারধরের নির্দেশ দিয়েছিলেন? তাদের আলোচনা আসতেই বাদশাহ রাগান্বিত হয়ে গেল।

পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৪

পূর্ববর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ২

ক্যাটেগরী