এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ২

coSam ১০৮


পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আপনারা কি আমার এ মারাত্নক রোগ ভাল করতে সক্ষম? তারা বলল – হ্যাঁ, আমরা আমাদের রবের কাছে এ সম্পর্কে প্রার্থনা করব। তিনিই তোমাকে সুস্থ করে দিবেন। হাবীব বলল, খুবই আশ্চর্যের কথা! আজ সত্তর বছর ধরে আমার প্রভুর কাছে রোগ আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করে আসছি কিন্তু কোন ফল দেখিনি। আর আপনাদের মাবুদ মাত্র এক দিনের মধ্যে কিভাবে আমার এ মরণব্যাধি দূর করে আমাকে সুস্থ করে দিবেন? তারা বলেন, আমাদের মাবুদ পারেন না এমন কোন কঠিন কাজই নেই। তাঁর শক্তির আওতামুক্ত কোন কিছুই নেই।

আর তোমরা যে সব বস্তুকে তোমাদের মাবুদ বলে মেনে নিয়েছ- এদের তো কোন ক্ষমতাই নেই। এরা তোমাদের হাতে তৈরী। এরা না কারও কোন ক্ষতি করতে পারে আর না কারো কোন উপকার করতে পারে। তুমি সত্তর বছর কেন সত্তর হাজার বছর দোয়া করলেও এদের কিছুই করার নেই। না এরা শুনে আর না বুঝে। হাবীব নাজ্জার তাদের কথা শুনে আল্লাহর উপর ঈমান আনল। তারা তার রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা করলেন।

আল্লাহ পাক তাদের প্রার্থনা কবূল করলেন। সে রোগ থেকে মুক্তি পেল। এমনি কি তার দেহে রোগের কোন চিহ্নই অবশিষ্ট রইল না। এতে তার ঈমান আরোও সুদৃঢ় হল। অতঃপর সে তাদের কাছে ওয়াদা করল যে, সে তার সারা দিনের উপার্জিত অর্ধাংশ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করবে।

তাফসীরে খাযেনে হাবীব নাজ্জারের এ ঘটনাটি নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত আছে। সাদিক ও সুদুক এনতাকিয়া শহরের কাছে উপনীত হয়ে দেখতে পেলেন যে, একজন লোক ছাগল চরাচ্ছে।

তারা তাকে সালাম দিলে সে ব্যক্তি তাদেরকে জিজ্ঞেস করল, আপনারা কারা কোথা হতে আপনাদের আগমন আর কি উদ্দেশ্যেই বা আপনারা এখানে এসেছেন? তারা বলেন, আমরা হযরত ঈসা আঃ এর প্রেরিত দূত। আমরা এখানে এসেছি এখানকার যারা মূর্তির উপসনার লিপ্ত হয়ে পড়েছ তাদেরকে সৎপথ দেখাতে।

তোমাদেরকে প্রতিমা উপাসনা হতে বিরত করে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্ববানের উদ্দেশ্যে আমরা এখানে এসেছি। এ ব্যক্তি বলল, আপনারা যে প্রকৃত মাবুদের পক্ষ হতে এসেছেন তার স্বপক্ষে অত্যন্ত মজবুত নিদর্শন রয়েছে, তা হল আমরা কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগী, জন্মান্ধ, বোবা এবং শ্বেত রোগীকে সুস্থ করে তুলতে পারি। লোকটি বলল- আমার এক পুত্র কয়েক বছর পর্যন্ত রোগাক্রান্ত। কোন চিকিৎসাতে কোন ফল হচ্ছে না। তা হলে আপনারা আমার পূত্রের চিকিৎসা করুন। তারা বলেন- আমাদেরকে তোমার পুত্রের কাছে নিয়ে চল। আমরা সর্বাগ্রে তার অবস্থা অবলোকন করব। তারপর এ সম্পর্কে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব। সে তাদেরকে সাথে নিয়ে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করল। তারা লোকটির পুত্রের মস্তকে হাত বুলাল। সে তৎক্ষণাৎ সুস্থ হয়ে গেল। এ ব্যক্তির নাম হাবীব নাজ্জার।

পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ১

ক্যাটেগরী