এক খৃষ্টানের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার ঘটনা | আমার কথা
×

 

 

এক খৃষ্টানের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার ঘটনা

coSam ১৪১


বিখ্যাত বুজুর্গ হযরত আবু জাফর (রহঃ) বলেন, একবার আমি এক নৌকায় চড়ে বসরা থকে বাগদাদ যাচ্ছিলাম। আমার সাথে একজন সহযাত্রী ছিল। আমি লক্ষ্য করলাম, সে ক্রমাগত কয়েকদিন যাবত আহার পানি কিছুই গ্রহণ করছেন না। এবং নামাযও পড়ছে না। আমি তাকে নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দিল আমি খৃষ্টান। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম তুমি আহার করছ না কেন? উত্তরে সে বলল, আমি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে চলছি। আমি বললাম, আমিও তাওয়াক্কুল করে চলছি। কিন্তু জাহজে এখন দস্তরখানা বিছিয়ে সবাইকে আহার দেয়া হবে এবং আমাদেরকে ডাকা হবে। সুতরাং চল আমরা জাহাজ থেকে নেমে পায়ে হেটে ভ্রমণ করি।

লোকটি বলল, এক শর্তে আমি তোমার সাথে যেতে সম্মত আছি, কোন অবস্থাতেই তুমি কোন মসজিদে ঢুকতে পারবে না। এবং আমিও কোন গীর্জায় প্রবেশ করব না। আমি তার প্রস্তাবে রাজী হলাম এবং পরবর্তী বন্দরে নেমে আমরা পায়ে হেটে ভ্রমণ করতে লাগলাম। দীর্ঘ পথ অতিক্রমের পর আমরা এক গ্রামে এসে উপস্থিত হলাম। তখন গভীর রাত। আমরা একটি বৃক্ষের নীচে বসলাম।

কিছুক্ষণ পর সেখানে একটি কাল কুকুর আসল। তার মুখে ছিল একটি রুটি। সে ঐ রুটি খৃষ্টানের সামনে রেখে দ্রুত চলে গেল। তাওয়াক্কুলের দীর্ঘ যাতনায় ইতোমধ্যেই সে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সামনে আসা মাত্র সে খেয়ে ফেলল। আমি যে তার ভ্রমণসঙ্গী এবং তার নিকটেই বসে আছি, এটা যেন সে একেবারেই ভুলে গেল। এভাবে আরো তিনদিন কেটে গেল। প্রতি রাতেই সে কালো কুকুর তার জন্য রুটি নিয়ে আসত এবং সে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস না করে একাই তা খেয়ে ফেলত। চতুর্থ দিন সন্ধ্যায় আমরা এক গ্রামের নিকট এসে পৌঁছলাম। মাগরিবের আজান হলে আমি নামায পড়তে দাঁড়ালাম। এমন সময় এক ব্যক্তি একটি পাত্রে কিছু রুটি এবং একটি বদনায় পানি নিয়ে তথায় হাজির হল। আমি নামায শেষ করার পর লোকটি আমাকে সালাম করে ঐ রুটি ও পানি আমার সামনে এনে রাখল। আমি খৃষ্টানের দিকে ইশারা করে বললাম, এ খাবার ঐ ব্যক্তিকে নিয়ে দাও। এ কথা বলেই আমি পুনরায় নামায শুরু করলাম।

লোকটি আমার কথা মত সেই রুটি ও পানি খৃষ্টানের সামনে রেখে চলে গেল। এদিকে আমার নামায শেষ হওয়ার পর সেই খৃষ্টান রুটি ও পানি আমার সামনে এনে রেখে বলল, তুমি আমাকে তোমাদের ধর্মের শিক্ষা দাও। আসলে তোমাদের ধর্মই সত্য। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমাদের ধর্ম সম্পর্কে কেমন করে তোমার ধারণা হল? জবাবে সে বলল, আমি যেমন নিকৃষ্ট ঠিক তেমনি এক নিকৃষ্ট প্রাণী কুকুরের মাধ্যমেই আমার রিযিক আসত। আরা আমি ঐ রিযিক অন্য কাউকে না দিয়ে কুকুরের মতোই একাকী আহার করতাম। আর তুমি যেহেতু সত্য ধর্মের অনুসারী সেহেতু সৃষ্টির সেরা মানুষের মাধ্যমেই তোমার রিযিক আসল। অতঃপর সেই রিযিকও তুমি নিজে গ্রহণ না করে আমার নিকট পাঠিয়ে দিলে। অথচ গত তিনদিন যাবত আমি যে তোমাকে ফেলে একাকী আহার করলাম একথা তুমি মনেও আনলে না। সুতরাং যেই ধর্মই তয়ামকে এতটা উদারতা শিক্ষা দিয়েছে, তোমার অন্তরে এমন মমত্ববোধ সৃষ্টি করেছে, সেই ধর্মই যে ঠিক ও সত্য এতে আমার আর কোন সন্দেহ রইল না। অতঃপর সে কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে মুসলমান হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে।

পরবর্তী গল্প
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ)

পূর্ববর্তী গল্প
কোন এক সেবিকার কথা

ক্যাটেগরী