একটি ঘরে গা ছমছম করা ভয়ের পরিবেশঃ সে ঘরের বাথরুমে দেখা যেতো প্রচুর রক্ত | আমার কথা
×

 

 

একটি ঘরে গা ছমছম করা ভয়ের পরিবেশঃ সে ঘরের বাথরুমে দেখা যেতো প্রচুর রক্ত

coSam ২৪২


এস এস সি ক্লাসের একটি মেয়ে জানালো আমার সেমিষ্টার পরীক্ষা চলছিল। এ সময় আব্বা বাসা বদল করেন। মনে মনে  ভীষণ বিরক্ত হলাম। পরীক্ষার সময়ে বাসা বদল মনের উপর ভয়ানক চাপ তৈরি করলো। পরিবারে ছিলাম আমরা তিনজন। মা বাবা আর আমি। বাসায় যাওয়ার পর যখন আমি পড়তে বসতাম ভয়ে গা ছমছম করতো। পরে জানা গেল এ অবস্থা আমার একার নয়। মা বাবার ও একই অবস্থা হচ্ছে। একদিন বাথরুমে হঠাৎ দেখতে পেলাম কমোডে প্রচুর রক্ত। ভীষণ চমকে গেলাম। তাড়াতাড়ি পানি ঢেলে সে রক্ত পরিষ্কার করে দিলাম।

খবর নিয়ে জানা গেল আমাদের আগে এ ঘরে যিনি থাকতেন ৩০ বছর বয়সের সময় হঠাৎ হার্ট এটাকে তার মৃত্যু হয়েছিল। ভয় কাটানোর জন্য কোরআন পাঠ করতাম। আব্বা বলতেন সূরা ফালাক সূরা নাস যেন বেশি বেশি পাঠ করি। সে নতুন ঘরে যাওয়ার একুশ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসে হাত মুখ ধোয়ার জন্য বাথরুমে গেলাম। দেখি একই রকম রক্তের ছড়াছড়ি।

ভয়ে চিৎকার দিলাম, মাকে ডেকে দেখালাম তিনি পানি ঢেলে রক্ত ধুয়ে দিলেন। তারপর মা মেয়ে ঘরে তালা দিয়ে খালার বাসায় চলে গেলাম। খালাকে সব কথা জানালাম। খালা আমাদেরকে একজন মাওলানার কাছে নিয়ে গেলেন। মাওলানা বললেন রক্তের উপর সরিষার তেল ছিটিয়ে সে রক্ত জ্বালিয়ে দেবেন। খালাকে সাথে নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম। মাওলানার কথা অনুযায়ী কাজ করা হল।  আব্বা অফিস থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত খালা আমাদের সাথে থাকলেন। বাথরুমে যেতে ভয় হতো।

তেইশতম দিনেও দেখা গেল বাথরুমে প্রচুর  রক্ত। এবার  এক জায়গায় নয় বিভিন্ন জায়গায় ঢেলে রক্ত ধুয়ে দিলেন। তিন চার দিন পর পর একই ঘটনা ঘটতে দেখা গেল। আব্বা একজন আলেম নিয়ে এলেন। সব কথা শোনার পর তিনি বললেন আপনারা এ বাসা ছেড়ে দিন। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকবে এক সময় বন্ধ হয়ে যাবে।

আব্বা খবর নিয়ে জানলেন আমাদের আগে এ ঘরে যিনি থাকতেন, অফিসে এক ব্যক্তির সাথে তার ঝগড়া চলছিল। অফিসের সেই কর্মী এ বাসায় থাকা লোকটির উপর শত্রুতা করে কালা এলেমের প্রয়োগ করায়। সে লোক তারপর থেকে বাথরুমে গেলে কলিজি, নাড়িভুড়ি দেখতে পেতো। এক সপ্তাহ পর লোকটি মারা যায়। এ ঘটনার কারণে এ ঘর ছিল পরিত্যক্ত। আমরা এ বাসা ভাড়া নেয়ায় আশেপাশে লোক ভয় পেয়েছিল।

যাই হোক কোরআনের বরকতে আমারা ক্ষতি থেকে রক্ষা পেলাম। আমি ছিলাম বিজ্ঞানের ছাত্রী। আগে এ রকম কথা খবরের কাগজে বা হইতে পড়েছি, লোকমুখে শুনেছি। আমার জীবনেই যে রকম ঘটনা ঘটবে বুঝতে পারিনি। চোখে দেখা ঘটনা ভুলি কীভাবে? আমি ভেবে অবাক হতাম তুচ্ছ স্বার্থের কারণে একজন মানুষ অন্য মানুষের কতো বড় ক্ষতি করতে পারে।

কালা এলেম বা কালা জাদু হচ্ছে কুফুরি কালামের সাহায্যে তাবিজ করে অন্যের ক্ষতি করা বিদ্যা। এক শ্রেনীর খনকার টাকার বিনিময়ে এ রকম কুফুরি কাজ করে। যাই হোক এক মাস পরেই আমরা সে বাসা ছেড়ে দিয়েছিলাম।


পরবর্তী গল্প
সন্তানদের টিভি কিনে দেয়ার কারণে কবরে অসহনীয় আযাবের ঘটনা

পূর্ববর্তী গল্প
জুলুম করে এক গরিবের মাছ কেড়ে নেয়া এক অফিসারের মর্মান্তিক পরিণাম

ক্যাটেগরী