একজন দিওয়ানীর কথা | আমার কথা
×

 

 

একজন দিওয়ানীর কথা

coSam ১৮৩


হযরত জুন্নন মিশরী (রহঃ) বলেন, একবার আমি লোকমুখে  শুনতে পেলাম যে, মাকাতাম পাহাড়ে এক মহিলা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল আছে। আমি তার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সে পাহাড়ে গিয়ে বহু খোঁজা-খুঁজির পরও তার কোন সন্ধান পেলাম না। পরে সেই পাহাড়ে এক আল্লাহওয়ালার সাথে আমার সাক্ষাত হলে তামি তাকে সেই মহিলার সন্ধান জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তুমি জ্ঞানী লোকদের থেকে পলায়ন করছ এবং দিওয়ানদের খবর নিচ্ছ। আমি বললাম, আপনি সেই মহিলার সন্ধান বলুন। তিনি বললেন , সে অমুক জঙ্গলে অবস্থান করছে। আমি তার নির্দেশিত জঙ্গলের দিকে এগুলাম। নিকটে যাওয়ার পরে আমার কানে করুন সুর ভেসে আসল। যথাস্থানে গিয়ে দেখলাম, এক মহিলা এক পাথরের উপর বসে আছে। আমি নিকটে গিয়ে তাকে সালাম করলাম। সে সালামের জবাব দিয়ে বলল, জুন্নন! দিওয়ানীদের নিকট তোমার কি প্রয়োজন।  আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি দিওয়ানী। সে বলল, যদি দিওয়ানী না হব তবে লোকে কেন আমাকে দিওয়ানী বলে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, কোন বস্তু তোমাকে দিওয়ানী বানিয়েছে। সে বলল, জুন্নন! আল্লাহর মোহাব্বত আমাকে পাগল বানিয়ে দিয়েছে। অতঃপর সে মারেফাতের লাইনে কিছু সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম কথা বলল, সব শেষে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হক কিভাবে হাসিল হয়। সে বলল, মনের অজান্তে তা হাসিল হয়। তা অনুভব করা যায় না। এবার আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা তুমি কি সত্যই হকের সন্ধান পেয়েছ? আমার এ প্রশ্ন শুনার সাথে সাথে সে কাঁদতে লাগল। ক্রমে কান্নার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। দীর্ঘক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে এলে সে তা হুতাশ করে বিলাপ করতে লাগল। এক সময় হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলল, দেখ, সত্য প্রাপ্ত ও সৎ লোকেরা এভাবে চলে যায়, এ কথা বলার সাথে সাথে সে প্রাণ ত্যাগ করল। কিছুক্ষণ পর আমি তাকে দাফন করার ফিকির করতে  লাগলাম। এমন সময় তার লাশ আমার সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল।

পরবর্তী গল্প
হযরত হুদ (আঃ)

পূর্ববর্তী গল্প
পানির ব্যবস্থা

ক্যাটেগরী