ইয়াতিমের হাসি | আমার কথা
×

 

 

ইয়াতিমের হাসি

coSam ৪২১


মুসলমানের সবচেয়ে আনন্দের দিন হলো ঈদের দিন। বছরে দুই দিন ঈদ হয়। এক মাস রোযার শেষে আসে ঈদুল ফিতর। যারা আল্লাহর হুকুমে এক মাস রোযা রাখেন এদিনটি তাদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের। আর হচ্ছে ঈদুল আযহা বা কোরবানীর ঈদ।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে আল্লাহ বললেন, তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কোরবানি করো। ইব্রাহিম (আঃ) ভেবে দেখলেন, পুত্রের চেয়ে প্রিয় আর কিছুই নেই তার কাছে।

তিনি পুত্রকে শোনালেন আল্লাহর হুকুম। পুত্র ইসমাঈল (আঃ) পিতাকে তাগাদা দিয়ে বললেন, তবে আর দেরি করছ কেনো? জলদি আমাকে কোরবানী করার ব্যবস্থা করুন। আল্লাহ হুকুম মানার ব্যাপারে পিতা-পুত্রের এই যে আকুলতা সেই কথা স্মরণ করে পালন করা হয় ঈদুল আযহা বা কোরবানীর ঈদ। যিনি যত বেশি আল্লাহর হুকুম পালন করেন তার কাছে এই ঈদ তত বেশি আনন্দের।

তেমনি এক ঈদের দিন। মদিনার ঘরে ঘরে খুশির জোয়ার বইছে। মহানবী (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন সবাই কে ফিতরা দিতে হবে। ফিতরা মানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অন্যকে দান করা। এর ফলে অর্থ শুধুমাত্র ধনীদের হাতেই জমা রইল না। গরীবরাও প্রচুর অর্থ পেল। তারাও সুযোগ পেল পছন্দ পছন্দমত কেনাকাটার। ফলে সবাই আনন্দিত। ঈদের নামায শেষে মহানবী (সাঃ) সবার সাথে কুলাকুলী করলেন। কোলাকুলির শেষে সবাই বাড়ির পথ ধরলো।

মহানবীও চললেন, বাড়ির পথ ধরে। হঠাৎ কারো কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো তার কানে। থমকে দাড়ালেন তিনি। যেখান থেকে কান্নার আওয়াজ আসছিল সেদিকে এগিয়ে গেলেন তিনি। দেখলেন মলিন পোশাকের এক কিশোর বসে বসে কাঁদছে। দয়াল নবীর দয়া হলো। ছেলেটির কাছে এগিয়ে গেলেন তিনি। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন। আদর পেয়ে ছেলেটির কান্না আরো বেড়ে গেল। তিনি ছেলেটির কাছে জানতে চাইলেন কান্নার কারন কি?

ছেলেটি বলল, আজ ঈদের দিন। মানুষের মনে কত আনন্দ। সবাই নতুন জামা-কাপড় পড়েছে। মা বাবা আদর করছেন সন্তানদের, কিন্তু আমাকে আদর করার মত কেউ নেই। আমার একটু খোঁজ নেওয়ার মত কেউ নিএ এ দুনিয়ায়। আমার বাপ নেই, মা নেই, আমি যে ইয়াতিম।

কিশোরের কথা শুনে নববীর চোখে পানি এসে গেল। আহা! এই ছেলেটির মত আরো কত মায়ের সন্তান ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত।। যদি তাদের খবর পেতাম! যদি তাদের মুখে ফোটাতে পারতাম হাসি।

তিনি কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। মা আয়েশা (রাঃ) হাতে ছেলেটিকে তুলে দিয়ে বললেন এ এক শহীদের সন্তান। ওর মা -বাপ কেউ নেই। আজ থেকে তুমিই ওর মা।

মা আয়েশা (রাঃ) ছিলেন সহধর্মিনি। তিনি ছেলেটিকে বুকে টেনে নিলেন। নিজ হাতে গোছল করালেন। নতুন জামা এনে পরতে দিলেন। ভালবাসা পেয়ে কিশোরের মন ভরে গেল। তার মুখে ফুটে উঠল মধুর হাসি। সে ভুলে গেল তার দুঃখের কথা। সে ভুলে গেল সে এক ইয়াতিম শিশু।

এ দুনিয়ায় এখন তাকেও ভালবাসার মত মানুষ আছে। আদর করার লোক আছে- এ কথা মনে হতেই তার মুখে ছড়িয়ে পড়লো হাসি।

সে আনন্দে বলে উঠলো- ঈদ মোবারক

লেখলঃ আসাদ বিন হাজিফ


পরবর্তী গল্প
নবীজী ও কাঠুরিয়া

পূর্ববর্তী গল্প
পরিষ্কার আয়নায় হাবশীর চেহারা

ক্যাটেগরী