ইসলাম পূর্ব যুগে আরবদের চরিত্র – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

ইসলাম পূর্ব যুগে আরবদের চরিত্র – শেষ পর্ব

coSam ১২৪


নতুন বিবাহিত স্ত্রীকে প্রথম এক সপ্তাহ মহল্লার সরদারের নিকট রাখতে হত। তাঁকে এক সপ্তাহ ব্যবহার করার পর স্বামীর নিকট হস্তান্তর করত। উলংঙ্গ অবস্থায় কাবা গৃহে তাওয়াফ করত। মক্কার শ্রেষ্ট বংশ কুরাইশ বংশের লোকেরাও এ স্বভাব হতে মুক্ত ছিল না।

মেয়েদেরকে করা হত সম্পত্তি হতে বঞ্চিত। তারা কোন প্রকার ওয়ারিশ হত না। নারীরা ছিল তাদের নিকট পণ্যের মত। তাদের কোন মর্যাদা ছিল না। তাই কন্যা সন্তাণ জন্মগ্রহণ করাকে তারা অত্যন্ত লজ্জাজনক মনে করত। জন্মের সাথে সাথে পিতা নিজ হাতে ঐ কন্যাকে জীবন্ত কবর দিত। কন্যা জন্মের খবর পিতার নিকট পৌঁছলে পিতা অত্যন্ত মর্মাহত হত।

পবিত্র কোরাআনে ইরশাদ হয়েছে-
অর্থঃ যখন তাদের কাউকেও কন্যার সুসংবাদ প্রদান করা হয় তখন তার মুখমণ্ডল মলীন হয়ে যায় এবং হৃদয় দগ্ধ হতে থাকে। যে বস্তুর সুসংবাদ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল তার লজ্জায় সে নিজেকে কওম হতে লুকিয়ে চলে এবং মনে মনে চিন্তা করে যে, সে কি ওকে অপমানের সাথে গ্রহণ করব, না কি তাঁকে মাটির মধ্যে পুতে রাখবে।

তাৎকালীন সময়ে কত নিষ্পাপ শিশুর বিলাপ মরুবক্ষে মিশে আছে, তার হিসেব কে দেবে। এ ধরণের কৃত নিষ্পাপ শিশুর বিলাপ আরবের মরুবেক্ষে মিশে আছে, তার হিসেব কে দেবে? এ ধরনের কৃত যে ঘৃণ্য ও জগণ্য প্রথা তাদের মধ্যে বিরাজিত ছিল, তার কোন হিসেব নেই। কথায় কথায় যুদ্ধ লাগল। বংশপরষ্পরায় শত্রুতার প্রতিশোধ নেয়ার এক জঘন্য হিংসাত্মক চেতনা ছিল তাদের মধ্যে।

অতি সাধারণ, বিষয় নিয়ে দু, গোত্রের দু' ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া বা কথা কাটাকাটি হলে তা সমগ্র গোত্রের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ত এক অমানবিক প্রতিহিংসার রুপ নিয়ে। সামান্য কথা কাটাকাটি সমগ্র গোত্রের ঝগড়া রুপ পরিগ্রহ করত এবং তরবারী উচিয়ে উভয় গোত্রে যুদ্ধ আরম্ভ হয়ে যেত এবং বংশনাক্রমে এ যুদ্ধ শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে বিরাজ থাকত।

এই সকল যুদ্ধকে আরব ঐহিতাহাসিক আইয়্যামূল আরব, নামে অভিহিত করেছেন। তবে এসব ব্যাপারে মদীনার অবস্থা একটু ভিন্ন ছিল, মদীনায় তূলনামূলক এ ধরণের কুপ্রথা কম ছিল। সেখানে ইহুদীদের আগমণের স্থানীয় লোকদের উপর অনেকটা ধর্মের প্রভাব লাভ করেছিল।

ইসলাম পূর্ব যুগে আরবদের চরিত্র – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

 

পরবর্তী গল্প
আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
ইসলাম পূর্ব যুগে আরবদের চরিত্র – পর্ব ১

ক্যাটেগরী