ইসলাম গ্রহণ ও মুক্তিপণ | আমার কথা
×

 

 

ইসলাম গ্রহণ ও মুক্তিপণ

coSam ২৯


পরবর্তী চার বছর সালমান (রাঃ) ছিলেন কঠোর শ্রম ও তীব্র যাতনার শিকার। মহানবী (সাঃ) এবং তার সঙ্গীদের সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক ছিল নাম মাত্র। 

যোগাযোগের সুযোগই ঘটতো না। বনু কোরাইজা গোত্রস্থ তার মালিক উসমান ইবনে আসহাল আল কুরাজী সালমানকে এত কঠোর পরিশ্রমের দায়িত্ব দিতেন য়ে, তিনি মহানবীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বিন্দুমাত্র সময় করতে পারতেন না।

সালমানের উপরে দাস প্রভুর তীক্ষ্ণ নজর ও কাজের চাপ এত বেশি ছিল যে, তিনি বদর এবং উহুদ জেহাদে যোগদান করতে পারেননি। প্রাথমিক মুসলিমদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এ জন্য ছিল তার মানসিক বেদনা এবং যাতনা।

মুক্তিপণ দাসত্ব থেকে মুক্তির নেশায় সালমান (রাঃ) ছিলেন পাগল। তিনি মুক্তি পণ দিয়ে মুক্তি ক্রয়ে ছিলেন অত্যন্ত উদগ্রীব। কিন্তু, তার মালিক তাকে মুক্তি দিতে যে চড়া মূল্য হাঁকলেন তা সংগ্রহ ছিল সালমানের আয়ত্বের বাইরে। এর পরিমাণ ছিল ৪০ তোলা স্বর্ণ এবং ৩০০ তিনশত তাল খেজুর বৃক্ষ রোপন এবং সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা। " উপায়স্তর না দেখে সালমান মহানবীর শরনাপন্ন হলেন।

  রাসূল (সাঃ) তাঁকে সাহায্য করতে সম্মত হলেন। রাসূল (সাঃ) সাহাবীদেরকে আহ্বান করলেন এবং তাদেরকে তাল খেজুরের চারা দানে উৎসাহিত করলেন। একজন সাহাবী দিলেন ৩০টি। আরেকজন ২০টি।

এমনিভাবে অনেকেই তাদের সাধ্যমত চারা এবং অন্যআন্য দ্রব্যাদি দিয়ে সাহায্য করলেন। মহানবী (সাঃ) সালমানকে বললেন খেজুর, তালের চারা লাগাবার জন্য সঠিক  আকার ও মানের ৩০০টি গর্ত করতে।

তারপর তিনি নিজ হাতে ৩০৪টি চারা রোপন করলেন। এরপর হল ৪০ তোলা স্বর্ণ সংগ্রহের প্রয়োজন; রাসূল (সাঃ) 'তাকে দিলেন এক পিণ্ড স্বর্ণ। যা খনি থেকে সংগ্রহ করে তাঁকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল।

এ স্বর্ণ হতে ইয়াহুদীর কাঙ্খিত স্বর্ণ পুরো পরিশোধ করা হয়েছিল এবং শীঘ্রই সালমান হলেন ইয়াহুদীর দাসত্ব মুক্ত একজন স্বাধীন মানুষ।

সুত্রঃ ক্রিতদাস থেকে সাহাবী

পরবর্তী গল্প
খন্দক যুদ্ধের পূর্বাভাষ

পূর্ববর্তী গল্প
সাদাকা ও উপটৌকন

ক্যাটেগরী