ইবলিসের চক্রান্তে মূর্তি পূজার সূচনা

হযরত ইদ্রীস (আঃ)-এর যুগ হতে পৃথিবীতে শিরক ও কুফরের সূচনা হয়েছে। এর পূর্বে দুনিয়াতে সকলেই এক ধর্মের অনুসারী ছিল। সকলেই তৌহিদের উপর কায়েম ছিল। অবশ্য পাপ ও অপরাধের সূচনা হযরত আদম আঃ এর পুত্র কাবিল স্বীয় ভ্রাতা হাবিলকে হত্যা করার মাধ্যমেই হয়। কিন্তু তা শিরক বা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তা মারাত্নক অপরাধ ও জঘন্য পাপ ছিল। শিরক এর সূচনা হয়েছেন হযরত ইদ্রীস (আঃ)কে আসমানে উত্তোলনের পর এবং হযরত নূহ আঃ এর আবির্ভাবের মধ্যবর্তী সময়।

হযরত ইদ্রীস (আঃ)-এর অনুসারীদের মধ্যে প্রসিদ্ধ আলেম ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য  নাম হলো-ওন্দ, সুআ, ইয়াগুছ, ইমাউক নসর প্রমুখ। হযরত ইদ্রীস (আঃ) কে আসমানে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়াতে উক্ত আলেমগণ অত্যান্ত শোকাবিভূত হয়ে পড়েন। তখন তাঁরা আল্লাহর ইবাদতে বেশী মশগুল্ হয়ে যান। আর মানুষদেরকে আল্লাহর দ্বীন, ঈমান ও তৌহিদের শিক্ষা দিতে থাকেন। এভাবে কিছু কাল অতিবাহিত হওয়ার পর তাঁরাও একে একে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের মৃত্যুর পর তাদের জ্ঞান পিপাসু শিষ্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। কার নিকট গিয়ে তাদের জ্ঞান অণ্বেষণের পিপাসা মিটাবে তা চিন্তা করে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। তাদের জ্ঞান সাধানায় ভাটা পড়ার পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

 তারা জ্ঞান সাধনার এ চর্চা সতেজ রাখার জন্য বিভিন্ন উপায় উদ্ভাবন করার চিন্তা করতে থাকেন। এমনি এক নৈরশ্যজনক পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে কিছু লোকের অন্তরে এক নতুন চিন্তার উদয় হয় যে, যদি এ সকল পথপ্রদর্শকদের মূর্তি তৈরী করে সামনে রেখে জ্ঞান সাধনায় ও ইবাদতে মশগুল হওয়া যায় তা হলে তাদের স্মৃতি হতে থাকবে আর জ্ঞান সাধানার ক্ষেত্রে পূণ্যদ্যমে সামনে অগ্রসর হওয়া যাবে।

সে আলেমদের অনুপস্থিতিতে যে হতাশা দেখা দিয়েছিল তা দূর হয়ে নভোদ্যমে কার্য চলতে থাকবে। তারা সকলের সামনে এ খেয়াল প্রকাশ করার পর সকলেই তা সানন্দে গ্রহণ করল।

অতঃপর উপরোল্লিখিত পাঁচজনের আকৃতিতে পৃথক পৃথকভাবে পাঁচটি মূর্তি প্রস্তুত করা হল। যার যে নাম ছিল তার মূর্তির ও ঐ নাম রাখা হল। তারা শুধু মূর্তি নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে দ্বীনের উপর কায়েম রইল। তারা তাওহীদ ও ঈমানের সাথে ইহজগত ত্যাগ করল। কিন্তু তাদের পরবর্তী বংশধর ও নতুন প্রজন্মের লোকেরা অভিশপ্ত শয়তানের বেড়াজাল ছিন্ন করে পথভ্রষ্টতা হতে পরিত্রান লাভ করতে সমর্থ হয়নি।

 শয়তান তাদেরকে আল্লাহর ইবাদত হতে সরিয়ে ঐ সকল মূর্তির ইবাদতে লিপ্ত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করল। কোন কোন ব্যাখ্যায় আছে শয়তান ঐ সকল মূর্তির ভিতর প্রবেশ করে লোকজনদের উদ্দেশ্য করে বলতেছিল যে, তোমাদের পূর্ব পুরুষেরা আমার ইবাদত করেছে। তারা মূর্তির এ অবস্থা দেখে মূর্তিগুলোর প্রতি সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শন করতে লাগল।

 মূর্তিগুলোকে বিশেষ সম্মানিত স্থানে স্থাপন করল। তারা তাদের পূর্ব পুরুষদেরকে মূর্তিগুলোর সম্মান করতে দেখেছে। তারা সম্মান ও ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য করতে না পেরে সম্মানের স্থলে ইবাদত করা শুরু করল। শয়তানের ষড়যন্ত্রে ঐ সকল লোক মূর্তিগুলোকে সত্যিকার পিতল, স্বর্ণ, ও রূপা দ্বারা প্রস্তুত করতে লাগল। এমনকি মূর্তিগুলোকে উন্নতর থেকে উন্নতর করল। এভাবেই মূর্তি পূজা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।