ইক্ষু ক্ষেত্রে দন্ড | আমার কথা
×

 

 

ইক্ষু ক্ষেত্রে দন্ড

coSam ৮৪


শিয়াল পন্ডিত আখ খেতে খুব ভালবাসে। তাই সে প্রত্যেকদিন আখ ক্ষেতে পড়েছেন যায়। নাসির একদিন সে আখ ক্ষেতে ঢুকে একটি ভিমরুলের চাক দেখতে পেল। ভিমরুলের চাক সে আগে কোনদিন দেখেনি। তাই সে মনে করল- ওটা বুঝি আখের ফল।

গাজী শিয়াল পন্ডিত কিনা, তাই সে আখকে বলে ইক্ষু ক্ষেতকে বলে ক্ষেত্র  আর লাঠিকে বলে দন্ড।

ভিমরুলের চাক দেখে সে বলল, আহা! ইক্ষুর কি চমৎকার ফল! খেতে না জানি কতই মিষ্টি! এই বলে সে ভিমরুলের দল কি মজাটাই তাকে দেখাতে লাগল। শিয়াল প্রাণের ভয়ে দৌড়ায় আর বলে- ইক্ষুর ক্ষেত্রে আর আসব না।

ভিমরুলের দল তাকে ছেড়ে চলে গেলে, সে বলল, বাঁচলাম। তখন সে ভাবল, ইক্ষুর ক্ষেত্রে তো আসি, তাতে তো কিছুই হয় না। ফল খেতে গিয়েই বিপদ হল। তবে আর ক্ষেত্রে যাব না কেন? ফল না খেলেই হল। এই ভেবে সে বলতে লাগল, ইক্ষুর ক্ষেত্রে যাব, ইক্ষুর ফল আর খাব না। ' দু'দিন সে এই কথাই বলে বেড়ালো।

তারপর যখন বেদনা একটু কমে এল, তখন শিয়াল পন্ডিত ভাবল- ঐ ফলটার মধ্যে পোকা ছিল, তারাই আমাকে কামড়েছে। আগে যদি ফলটাতে নাড়া দিতাম, তবে পোকাগুলো সরে যেত। তারপর ফল খেতে আর কোন কষ্টই হত না। আহা, ফল খেতে না জানি কতই মিষ্টি, তবে আর ফল খাব না কেন? খাবার আগে পোকা তাড়িয়ে দিলেই হবে।

এই ভেবে শিয়াল বলতে লাগল, ইক্ষুর ফল খাব, আগে দণ্ড দিয়ে নাড়া দিল, অমনি আর যাবে কোথায়! ভিমরুলের দল এসে তাকে কামড়ে আধ্মরা করে ছাড়ল। সেই থেকে শিয়াল আর আখের ফল খায় না।

সূত্রঃ মুসলমানের হাসি 

পরবর্তী গল্প
আমীর ইবনে ফুহায়রা (রাঃ)

পূর্ববর্তী গল্প
বরফের ব্যবসা

ক্যাটেগরী