ইকফের ঘটনা | আমার কথা
×

 

 

ইকফের ঘটনা

coSam ২১৯


বনী মুস্তালিক অভিযানে উম্মুল মু'মীন হযরত আয়েশা (রাঃ) ও গিয়েছিলেন। অভিযান শেষে মদীনায় প্রত্যাবর্তনকালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বিশ্রাম গ্রহণ উদেশ্যে এক স্থানে যাত্রাবিরতি করেন। এখানে হযরত আয়েশা (রাঃ) প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরনার্থে গিয়ে গলার হার হারিয়ে ফেলেন।

এ হার তিনি তাঁর বড় বোন হযরত আসমা (রাঃ) থেকে ধার এনেছিলেন। সুতরাং এ হারের জন্য তাঁর চিন্তার শেষ ছিল না। তিনি হন্যে হয়ে এ হার খুজতে থাকেন। তিনি হার খুজে পেরেশান হচ্ছেন, ওদিকে মুজাহিদ বাহিনী মদীনার উদ্দেশে বিশ্রামস্থল ত্যাগ করে যাবার সময় সাহাবীরা হযরত আয়েশা (রাঃ) এর হাওদা উটের পীঠে তুলে দেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) ছিলেন খুবই হালকা গড়নের। তাই তিনি যে হাওদায় নেই একথা তাঁর বুঝতেই পারেন নি।

আয়েশা (রাঃ) ফিরে এসে দেখলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুজাহিদ বাহিনীসহ স্থান ত্যাগ করেছেন। এবার তিনি আরও ভঙ্গে পড়েন। একদিকে হারের চিন্তা,অন্যদিকে একাকিত্বের চিন্তা। এ অবস্থায় তিনি চাদর মুড়ি দিয়ে গাছের নীচে শুয়ে পড়েন। তাঁর ধারণা, অবশ্যই কেউ না কেউ তাঁর খোজে আসবেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নত ছিল, কোথাও যাত্রাবিরতীর পর স্থান ত্যাগ করলে একজনকে পিছনে রেখে যেতেন। পিছনে থেকে যাওয়া ব্যক্তির দায়িত্ব ছিল, দলের কেউ কোন কিছু ভুলবশত ফেলে গেলে তা কুড়িয়ে আনা। এবার হযরত সাফওয়ান (রাঃ) এ দায়িত্বে নিয়োজিত হন। তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ) চাদর মুড়ি দিয়ে গাছের নীচে শোয়া দেখে হতচকিত হয়ে পড়েন। তিনি বলে উঠল উঠেন ইন্না লিল্লাহ--

হযরত আয়েশা (রাঃ) হযরত সাফওয়ান (রাঃ) এর গলার শব্দ শুনে আরও ভাল করে চেহারা ঢেকে নেন। তিনি বাহন উট এনে হযরত আয়েশার পাশে বসিয়ে দিয়ে একদিকে সরে দাড়ান এবং আয়েশা (রাঃ) উঠে আরোহণ করলে তাঁকে নিয়ে সাফওয়ান মদীনায় পৌঁছান।

ইতোমধ্যে বাহিনীর সব লোকই মদীনায় পৌঁছে গেছে। এ ঘটনাকে মুনাফিক আবদুল্লাহ বিন উবাই ও তাঁর সহচররা রাসূলুল্লহ (সাঃ) এবং মুসলমানদেরকে মানসিক পীড়নে দগ্ধীভূত করার এক সুবর্ণ সুযোগ রুপে লুফে নেয়। তাঁরা হযরত সাফওয়ান (রাঃ) কে জড়িত মুসলমানরা এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মানসিক পীড়ন ভোগ করতে থাকেন। এমনকি কতিপয় সরল প্রাণ সাহাবীও আবদুল্লাহ বিন উবাই এবং তাঁর সহযোগীদের মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রপাগাণ্ডার শিকার হয়ে পড়েন।

হযরত আয়শা (রাঃ) এর প্রতি অপবাদ দেয়ার পঞ্চাশ দিন পর মুনাফিকদের প্রচারণা মিথ্যা প্রতিপন্ন এবং হযরত আয়েশা (রাঃ) এর নির্দোষিতা ঘোষণা পূর্বক আল্লাহ ইরশাদ করেন-

অর্থঃ নিশ্চয় যারা অপবাদ আরোপ করেছে তাঁরা তোমাদেরই একদল। তা তোমাদের জন্য অমঙ্গল মনে করো না বরং এটা তোমাদের জন্য মঙ্গল। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য অপবাদের গুনাহ যা সে অর্জন করেছে এবং তাঁদের মধ্যে যে ব্যক্তি এতে সর্ববৃহৎ অংশগ্রহণকারী তাঁর জন্য মহা আজাব।

যখন তোমরা তা শুনেছিলে তখন কেন মু'মিন পুরুষ ও নারীদের সম্বন্ধে শুভধারণা করল না এবং বলছিল না এটা সুষ্পষ্ট মিথ্যা অপবাদ কেন এর সম্বন্ধে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করল না। যখন তাঁরা (অপবাদ দাতারা) সাক্ষ্য উপস্থিত করেনি। তখন তারাই মিথ্যাবাদি। আল্লাহর ফজলে ও দয়া ইহপরকালে তোমাদের উপর না থাকলে চর্চা করা বিষয়ে তোমাদেরকে কঠোর সাজা বেষ্টন করত। যখন তা মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং ইচ্ছা বলছিলে যা জানতে না, আর একে মামুলী বিষয় ভেবেছিলে, অথচ আল্লাহর নিকট এটা গুরুত্বপূর্ণ।

যখন শুনলেন, কেউ বলনি, এটা বলাবলি করা আমাদের অনুচিৎ। পবিত্রতা আল্লাহর। এটা ভীষন অপবাদ। আল্লাহ জ্ঞানী, কুশলী। মু'মিনদের সমাজে অশ্লিলতার প্রসার যারা ভালবাসে, তাঁদের জন্য দো-জাহানের যন্ত্রণদায়ক শাস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন, তোমারা জান না।

অর্থঃ নিশ্চয় যারা ইমানদার সতী নারীদের উপর অপবাদ দিয়ে তাকে তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে লানত করা হয়েছে এবং তাঁদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

কোরআনে সতী সাধ্বী নারীর চরিত্রে যেনার মিথ্যা অপবাদ আরোপকে ইফক বলা হয়েছে, এর অর্থ অপবাদ দেয়া। সাধারণ্যে এটা ইফকের ঘটনা বলে অভিহিত হয়ে থাকে।

পরবর্তী গল্প
যী-কারাদ অভিযান

পূর্ববর্তী গল্প
তায়াম্মুমের আয়াত অবর্তীণ হওয়ার ঘটনা

ক্যাটেগরী