আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হবে না | আমার কথা
×

 

 

আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হবে না

coSam ২৪৫


শায়েখ ইসমাঈল বিন খাজাই (রহঃ) বলেন, তুর্কী শাসনামলে মোহালীনামক এক ব্যক্তি বসরা যাত্রা করল।  তার সাথে এক গোলাম এবং এক দাসীও ছিল। তারা যখন দজলা নদীতে  নৌকায় আরোহন করল তখন নদীর কিনারা হতে এক যুবক মাঝিকে ডেকে বলল, আমি বসরা যাব, আমাকে সাথে নিয়ে যাও।

নৌকার আরোহী মোহালী যুবকের দিকে তাকিয়ে দেখল,  তার গায়ে একটি পশমী জামা, হাতে লাঠি, মাথার চুল এলোমেলো, সব মিলিয়ে যুবকের প্রতি তার একটা মায়া মায়া ভাব জেগে গেল। অবশেষে তার অনুরোধে মাঝি তাকে সাথে নিয়ে চলল, আহারের সময় হলে মোহালী মাঝিকে বলল, যুবককেও আমাদের সাথে আহার করতে বল। আমি যুবক কে খানা খেতে বললে প্রথমে সে অস্বীকার করল। পরে সকলের অনুরোধে সেও তাদের সাথে খানা খেল, খানা শেষে সকলের জন্য শরাব পরিবেশন করা হল।

কিন্তু যুবক কিছুতেই শরাব পান করতে সম্মত হল না। পরে সকলের শরাব পান শেষ  হলে দাসী বাদ্যযন্ত্র নিয়ে মধুর সুরে গান গাইতে লাগল। দাসীর গান শেষ হওয়ার পর যুবক মোহালীকে বলল, আমি আরো ভাল গান গাইতে পারি। অতঃপর সে বিসমিল্ললাহ সহ নিম্নের আয়াতটি তেলাওয়াত করল-

অনুবাদঃ আপনি বলে দিন, পার্থিব ভোগ-বিলাশ কেবল কদিনের জন্য, আর যে ব্যক্তি মুত্তাকী তার জন্য পরকালই  উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না। তোমারা যেখানেই থাক সেখানেই তোমাদের মৃত্যু  আসবে। তোমরা যত সুদৃঢ় দূর্গের মধ্যে থাক না কেন?

কালামে পাকের তেলাওয়াতে মোহালীর অন্তরে ক্রিয়া করল। সে যুবককে জিজ্ঞেস করল, আমাদের জন্য শান্তনার কোন বাণী আছে কি? জবাবে সে নিম্নের আয়াত তেলাওয়াত করল।

অনুবাদঃ হে নবী আপনি বলে দিন যে, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অত্যচার করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করেদেবেন। নিশ্চয়ই তিনি বড় ক্ষমাশীল, ও দয়ালু।

মোহালী উপরোক্ত আয়াত শুনে বিকট স্বরে চিৎকার দিয়ে সাথে সাথে প্রাণ হারাল।

মোহালী তার সম্প্রদায়ের বিখ্যাত লোক ছিল। তার লাশ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর সমগ্র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এল।  তার জানাজায় এত লোক সমাগম হল যে, ইতিপূর্বে এলাকায় অন্য কারো জানাজায় এত লোক সমাগম হয়নি ।

বর্ণনাকারী বলেন, মোহালীর ইন্তেকালের পর তার দাসী একটি পশমী জামা গায়ে দিয়ে বের হয়ে পড়ল। সে দিনের বেলা রোজা রাখত আর রাতভর ইবাদত করে কাটিয়ে দিত। এভাবে তার দীর্ঘ চল্লিশ বছর কেটে গেল। এক রাতে সে তেলাওয়াত করতে করতে এই আয়াত পর্যন্ত এসে পৌছল- অনুবাদঃ আপনি বলে দিন, সত্য তোমাদের রবের পক্ষ হতে এসেছে। সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক, আর যার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক, নিশ্চয় আমি জালিমদের জন্য অগ্নি প্রস্তত করে রেখেছি।  আর তারা পানীয় চাইলে এমন পানীয় তাদের দেয়া হবে, যা তৈলের গাদের ন্যায় হবে এবং মুখমন্ডলকে দগ্ধ করে ফেলবে। তা কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং সে জাহান্নাম  কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়।

উপরোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করার সাথে সাথে সে প্রাণ ত্যাগ করল। সকালে আশেপাশের লোকেরা এসে তার লাশ উদ্ধার করল।


পরবর্তী গল্প
ঈমানের উছিলায়

পূর্ববর্তী গল্প
রাসূল্লাহ (সাঃ) এর সাথে জ্বীনদের সাক্ষাত

ক্যাটেগরী