আল্লাহর ওয়াদা | আমার কথা
×

 

 

আল্লাহর ওয়াদা

coSam ৩৬৬


তাপসী রাবেয়ার নাম কে না জানে? তাঁর মত ঈমানদার মহিলা পৃথিবীতে কমই জন্মেছেন। আল্লাহর ওপর তাঁর ছিল গভীর আস্থা ও বিশ্বাস। তিনি আল্লাহর প্রতিটা কথা মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতেন এবং আল্লাহর হুকুম মেনে চলতেন। তাঁর কিছু দরকার হলে তিনি আল্লাহর কাছে চাইতেন এবং আল্লাহ যা দিতেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন।

একদিন তিনি খেতে বসলেন এমন সময় দু'জন মেহমান এলো। ঘরে দুটি মাত্র রুটি আছে। ভাবলেন, দুটি রুটিই তিনজনে ভাগ করে খেয়ে নেবেন। তারা এখনো খাওয়া শুরু করেননি। একজন ভিখিরি এসে দরজায় কড়া নেড়ে বলল, মাগো কিছু ক্ষেতে দিবেন?

ভিক্ষিরিকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে নেই। তাপসী রাবেয়া দুটো রুটিই ভিক্ষিরিকে দিয়ে দিলেন। মেহমান দু'জনতো অবাক। উপোস থাকবে নাকি তারা। কিন্তু রাবেয়া নির্বিকার। তিনি দরজার দিকে মুখ করে বসে রইলেন। একটু পর পাশের বাড়ির দাসি এসে হাজির। ওর হাতে কাপড় দিয়ে ঢাকা তশতরি। তাতে আছে গরম গরম রুটি। দাসী বলল, আমাদের বাড়িতে ভাল রান্না হয়েছে। গিন্নিমা এগুলো আপনার জন্য পাঠিয়েছেন।

রাবেয়া ঢাকনা সরিয়ে রুটি গুনে দেখলেন ওখানে আঠারোটি রুটি আছে। হিসাব মিললো না তাঁর। দাসীর দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি বোধহয় ভুল করছো। এ রুটি আমার নয়। তিনি রুটি গুলো ফিরিয়ে দিলেন। ব্যাপার দেখে মেহমান তাজ্জব হয়ে গেলন। ক্ষুধায় ওদের পেট জ্বলছে, অথচ রাবেয়া রুটি পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন! তাঁরা বলল, এ আপনি কি করলেন?

রাবেয়া বললেন, আমি যা করেছি ঠিকই করেছি।

একটু পরে দাসী এসে আবার কড়া নাড়ল। রাবেয়া এগিয়ে দরজা খুলে দিলেন। দাসী তশতরি এগিয়ে ধরে বলল, এই নিন আপনার রুটি আপনি ঠিকই বলেছিলেন। গিন্নিমা আপনাকে বিশটি রুটি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গুনতে গিয়ে ভুল করে আঠারোটি রুটি পাঠিয়েছিলেন।

রাবেয়া তশতরি হাতে নিয়ে রুটিগুলো গুনে দেখলেন। তশতরিতে পুরো বিশটি রুটি পেয়ে বললেন, হ্যাঁ, এবার ঠিক আছে।

দাসী বিদায় হলে এবার মেহমান নিয়ে খেতে বসলেন তিনি। রুটিগুলো দারুন সুস্বাদু আর টাটকা গরম। দুই অতিথি তৃপ্তি করে খেলেন। তিনজনে পেটপুরে খাওয়ার পর রয়ে গেল বেশকিছু রুটি।

মেহমানদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটি প্রশ্ন। কৌতূহল ঘিরে ধরেছে তাদের। একজন তো বলেই ফেলল, আচ্ছা রাবেয়া বসরী, আপনি কি করে জানলেন যে, ভুল সংখ্যক রুটি এসেছিল প্রথমে। পরে ঠিক ঠিক এসেছেন।

ও এই কথা! কেন, আপনারা শোনেননি, আল্লাহপাক বলেছেন, কেউ আমার নামে একগুন দান করলে আমি তাকে দশগুন ফিরিয়ে দিই। আল্লাহর কথা তো মিথ্যা বা ভুল হতে পারে না। আমি ভিখিরিকে দুটি রুটি দিয়ে তার দশ গুন পাবার আশায় বসেছিলাম। এক রুটির বদলে দশ হলে দুই রুটির বদলে বিশটি রুটি পাবার কথা। কিন্তু দাসী আঠারোটি রুটি নিয়ে এলে বুঝলাম কোথাও সে ভুল করেছে।

মেহমানদের বিস্ময় আরো বাড়লো। বলল, আপনি ঠিক ঠিক জানতেন বিশটি রুটি আসবে?

অবশ্যই। কেন, আল্লাহর ওয়াদায় আপনাদের বিশ্বাস নেই? মেহমান তাকালো একে অন্যের দিকে, কিন্তু কেউ কোন জবাব দিল না। রাবেয়া বসরী বললেন, বুঝেছি। আপনার নিজের বিশ্বাসের ওপর আস্থা না থাকে তবে আল্লাহর কি দোষ। আপনি তো পাবেন আপনার বিশ্বাসের আলোক।

মেহমান মাথা নিচু করে বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন।

রাবেয়া বসরী বললেন, আপনি পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে সবদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে যদি একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে পারেন তবে আল্লাহ অবশ্যই তাঁর ওয়াদা পূরণ করবেন।

এই গল্প থেকে আমরা শিখলাম, যারা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস করে আল্লাহ কখনো তাদের নিরাশ করেন না।


পরবর্তী গল্প
হাতীর ঘটনা

পূর্ববর্তী গল্প
মায়ের দোয়া

ক্যাটেগরী