আরববাসীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

আগেই বলেছি আরবরা অগণিত কুসংস্কারের মধ্যে নিমজ্জিত। এ নিমজ্জিত কুসংস্কারের মধ্যেও তাদের মাঝে দু”টি প্রশংসনীয় চরিত্র ছিল। তার একটি হচ্ছে মেহমানদারী বা অতিথি সেবা। অপরটি হচ্ছে আত্নমর্যাদা রক্ষা করা। পৃথিবীর কোন ক্ষমতাধরই কোন কালে তাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে পারে নি।

পরাধিনতার গ্লানি তাদেরকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাদের উপর কোন প্রভাব বিস্তার করা কারও পক্ষেই সম্ভব হয়নি। কোন জাতিই তাদের বিশিষ্টতা ও আভিজাত্য ম্লান করতে সক্ষম হয়নি। অসংখ্য কুসংস্কারের মধ্যেও দ্বীনে ইবরাহীমের একটি ক্ষীণ আলোকরশ্মি তাদের হৃদয়ে স্থিমিত ছিল। মরুসন্তানরা নিজেদরকে সেই দ্বীনে হানীফের অনুসারী বলে দাবী করতো।

হযরত খিজির (আঃ)- এর নবুয়াতের যুগে বখতে নাচ্ছার নামে ব্যাবিলনের এক রাজা ছিল। সে বায়তুল মুকাদ্দেছের উপর হামলা চালিয়ে তা ধবংস করে। বনী ইসরাইলীকে বিধ্বস্ত করে দেয়। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে কালক্রমে বখতে নাচ্ছার সমগ্র বিশ্বের অধিপতি হয়েছিল। সারা দুনিয়ায় তার ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। কিন্তু সেই বখতে নাচ্ছারও বহু চেষ্টা চালিয়ে আরবদের উপর তার প্রভুত্ব বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি।

এমনিভাবে গ্রীক ও রোমকরাও মিশর হতে আরবের সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত বহু বছর রাজত্ব করেছিল। কিন্তু আরবদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে নি। গ্রীকের প্রখ্যাত সম্রাট আলেকজান্ডার ও তার সেনাপতিরা আরবকে পদানত করার জন্য বহু চেষ্টা করেছিল। পারস্য সম্রাটরা বহুবার আক্রমণ করেও সফলতা অর্জন করতে পারে নি।

আরবদের বীরত্ব, শৌর্য, আতিথ্য, দানশীলতা, সততা ও স্বাধীনতার চেতনা, ইতিহাস বিখ্যাত। পৃথিবীতে তা নজীর বিহীন। তাদের আর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তারা রূঢ় বাস্তববাদী ছিল। তারা ছলনা প্রবঞ্চনা ও মুনাফেকী হতে বহু দূরে ছিল। তাদের চরিত্রের মূলই ছিল বাস্তব জীবনের কঠোরতা। কথার চেয়ে কাজই তারা অধিক ভালবাসত। তাদের স্মরণ শক্তিও এত প্রখর ছিল যে, প্রত্যেকেই তাদের স্ব স্ব নছব নামা মুখস্ত বলতে পারত।

এমনকি তাদের পালিত ঘোড়ার নছবও তাদের মুখস্ত ছিল। তাদের মধ্যে সাম্যতার প্রভাব ছিল খুব বেশি। সকলকেই সমান মনে করত। একের উপর অন্যের প্রাধান্য সহ্য করত না। একে অপরের সাথে বেপরওয়া আলাপ চারিতা চালাত। ইসলামের আবির্ভাবের সাথে সাথে তাদের এসব সৎগুনাবলী বহুগুণে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠল এবং তৌহিদের আলোর পরশে ও সকল গুণ দীপ্ত হয়ে অল্প দিনের মধ্যেই তারা সংশোধিত হতে সক্ষম হয়েছিল।

শুধু তাই নয় তারা নিজেদরকে সমগ্র দুনিয়ার সংস্কারক হিসেবে পেশ করল। জ্ঞানের শীর্ষস্থানের সাথে সাথে চরিত্রের আদর্শস্থান দখল করে নিল। যার ফলশ্রুতিতে ইসলাম গ্রহণের পর অতি অল্প দিনের মধ্যেই তারা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশের উপর স্বীয় আধিপত্য ও আদর্শ বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। ইসলামের বিজয় ডংকা সমগ্র দুনিয়ায় বেজে উঠল।

এ মহা বিজয়ের পিছনে ছিল ছাইয়্যেদুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন খাতেমুন্নাবিয়্যিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বক্ষ নিঃসৃত আসমানী তা’লীম, তাঁর মহান চরিত্র। যার উজ্জলতম দীপ্তিতে সারা বিশ্ব আলোকিত হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।