আযানের প্রবর্তন | আমার কথা
×

 

 

আযানের প্রবর্তন

coSam ১৫৭


মদীনায় হিজরতের পরও নামাযের জন্য আহবানের কোন ব্যবস্থা ছিল না। মসজিদে নববী নির্মানের পর মুসলমানরা আন্দাজ অনুমানের উপর নির্ভর করে মসজিদে আসতেন। তখন বিভিন্ন গোত্র সম্প্রদায়ের লোক দলে দলে রাসূলের দরবারে হাযির হয়ে ইসলাম করছেন। অপর দিকে মক্কায় যেসব মুসলমান রয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে মদীনায় চলে আসছেন।

এভাবে মুসলমানদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং মুসলমানদের এক সাথে নামাযে উপস্থিতির ব্যবস্থা হওয়া দরকার। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদিন বিষয়টি সাহাবায়ে কিরামের মজলিসে উত্থাপন করে পরামর্শ আহ্বান করেন। পরামর্শ আহ্বানের প্রেক্ষিতে নানা জন নানা মত প্রকাশ করেন।

কেউ ঘন্টা বাজিয়ে কেউ শিঙ্গা ফাঁক দিয়ে কেউ আগুন জ্বালিয়ে কেউ উচ্চৈঃস্বরে আসসালাতু জামিয়াতুন বলে ডাক দেয়ার এবং কেউবা পতাকা উত্তোলন করার প্রস্তাব পেশ করেন। কিন্তু উল্লিখিত প্রস্তাবের কোনটিই শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয় নি। কেননা, ইবাদতের উদ্দেশ্যে অগ্নি প্রজ্বলিত করা অগ্নি উপাসকদের। ঘন্টা বাজান খ্রীষ্টানদের।

এভাবে সব কয়টি প্রস্তাবই অমুসলিমদের রীতি। অথচ মুসলমানদের কোন কাজই অমুসলিমদের সাথে সামঞ্জস্যশীল হতে পারে না। যাক, তখনকার মত অমীমাংসীত অবস্থায়ই মজলিসের সমাপ্তি ঘটে। রাতে একাধিক সাহাবী আযানের বাক্য সমূহ স্বপ্নে শুনতে পান। স্বপ্নে আযানের বাক্য সমূহ শ্রোতাদের একজন হলেন হযরত আবদুল্লাহ বিন যায়দ (রাঃ)। তিনি সকালে সর্বপ্রথম রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাযির হয়ে স্বপ্নের কথা বলেন।

হযরত ওমর (রাঃ) সহ আরও কয়েকজন সাহাবীও আবদুল্লাহ বিন যায়দের অনুরূপ স্বপ্নের কথা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে পেশ করেন। হযরত বেলাল (রাঃ) খুবই উচ্চ কন্ঠস্বরের অধিকারী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে ডেকে বলেন, তুমি উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে উচ্চ আওয়াজে আবদুল্লাহ বিন যায়দ কথিত বাক্যগুলো উচ্চারণ কর। আদেশানুসারে হযরত বেলাল (রাঃ) দিগন্ত কাঁপিয়ে আযানের বাক্যসমূহ উচ্চারণ করেন। সে থেকে আজ পর্যন্ত পাঁচ বার দুনিয়ার প্রত্যেক মুসলিম অধ্যুষিত প্রত্যেক জনপদে আযানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়।

পরবর্তী গল্প
আশুরার রোযা

পূর্ববর্তী গল্প
খাযরাজী প্রতিনিধি দলের কাছে ইসলামের দাওয়াত

ক্যাটেগরী