আমীর ইবনে ফুহায়রা (রাঃ) | আমার কথা
×

 

 

আমীর ইবনে ফুহায়রা (রাঃ)

coSam ২৪


আমীর ইবনে ফুহায়রা হযরত আবু বকরের ক্রীতদাস ছিলেন। তাঁর জন্ম আযদ গোত্রে। তাঁর মূল মালিক ছিলেন তোফায়েল ইবনে সানজারা। হযরত আয়েশার মাতা উম্মে রুম্মান এর প্রথম বিবাহ হয় উক্ত তোফায়েলের সঙ্গে।

উম্মে রুম্মানের দ্বিতীয় স্বামী হলেন হযরত আবু বকর (রাঃ) আমীর ইবনে ফুহায়রার পূর্বতন দাস মালিক ছিলেন হযরত আয়েশার সৎ পিতা তোফায়েল। ইসলামের শুরুতেই আমীর আল ফুহায়রা ইসলাম গ্রহণ করেন।

এটা ছিল দারুন আরকাম গৃহে ইসলাম প্রচার কালের পূর্ববর্তী ঘটনা, ইসলাম পূর্বকালে আরবে দাস-দাসীগণ কোন কোন ক্ষেত্রে জীব-জন্তুর যতটুকু অধিকার থাকে ততটুকুও ভোগ করতে পারত।

একজনের মালিকানাধীন পশুকে অপরজন মারপিট করলে এ নিয়ে পশু মালিক ও আক্রোমণকারীদের মধ্যে ঝগড়া ফাসাদ সৃষ্টি হত। কিন্তু একজনের দাসকে আরেকজন স্বাধীন আরব কর্তৃক প্রহার করা নিয়ে দু'জন স্বাধীন আরবের ঝগড়া ফাসাদ সৃষ্টি হত। এরুপ অমানবিক নীতির ফলে একজন নওমুসলিম দাস ইসলাম গ্রহণ করলে ইসলাম বিরোধীগণ মনের স্বাদে তাঁকে মারধর করতে পারতেন।

নির্যাতনের জন্য তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারতেন।
আমীর ইবনে ফুহায়রা (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করার পর তাঁর ওপর তাঁর মালিকের বংশ এবং অন্যান্য ইসলাম বিরোধীদের নির্মম অত্যাচার শুরু হয়। তাঁর অসহায় অবস্থা দেখে হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁকে ক্রয় করেন এবং আজাদ করে দেন।
হিজরতের সময় (৬২২) খ্রী) আমীর ফুহায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং হযরত আবু বকর (রাঃ) ছাওর গুহায় আত্মগোপন করেন। সন্ধ্যার পর আমীর ইবনে ফুহায়রা (রাঃ) আবু বকরের বকরী এবং উষ্ট্রী নিয়ে ছাওর গুহায় উপস্থিত হতেন। তাঁদেরকে দুগ্ধ পারন করাতেন এবং রাতের মধ্যেই লোকালয়ে ফিরে আসতেন।

মহানবী যখন সঙ্গীসহ ছাওর গুহা থেকে মদীনায় রওয়ানা হন আমীর ইবনে ফুহায়রা (রাঃ) এবং অমুসলিম আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়কিত তাঁদের সফর সঙ্গী হয়েছিলেন নুয়াযম ইবন বুশয়র হতে ক্রীত দু'টি উষ্ট্রী নিয়ে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ব্যবহৃত উষ্ট্রীর নাম ছিল কাসঅয়া। মদীনার আবহাওয়ায় মক্কার বহু সংখ্যক মুহাজির ধরে আক্রান্ত হন। আমীর ইবনে ফুহায়রা ছিলেন তাঁদের অন্যতম। মদীনায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হারিছ ইবনে আউল আল আনসারীর সঙ্গে আমীর ইবনে ফুহায়রাকে ভ্রাতৃত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ করেন।

আমীর ইবনে ফুহায়রা (রাঃ) বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি মাত্র ৪০ বছর বয়সে বীরে মাওলা এর ঘটনায় চতুর্থ হিজরীতে শাহাদাত বরণ করেন। আবু বারা নামক এক নও মুসলিমের আবেদনক্রমে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নজদে ইসলাম প্রচারের জন্য ৭০ জন সুশিক্ষিত ক্বারি হাফেজ সাহাবীকে প্রেরণ করেন।

তাঁরা তাঁদের জ্ঞানের জন্য কুররা নামে পরিচিত ছিলেন। ক্বারী শব্দের বহুবচন কুররা। আমীর ইবনে ফুহায়রাও একজন ক্বারী এবং ইসলাম বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এই তাবলীগ দলটি মক্কা ও আশকানের মধ্যবর্তী বীর মাউনা নামক পৌঁছলে কাফের গণ বিশ্বাস ঘাতকতা পূর্বক সকলকে হত্যা করে। হযরত আমীর ফুহায়রাকে যখন বল্লম দ্বারা আঘাত করা হয় তিনি চিৎকার করে বলেন আল্লহার শপথ আমি কায়িয়াব (শাহাদাত) লাভ করলাম।

আমীর ফুহায়রার লাশ খুজে পাওয়া যায়নি, ঘাতকদের বর্ণনায় জানা জায় তাঁর লাশ ঊর্ধ্বাকাশে দিকে উঠে গিয়েছিল। এই পবিত্র আত্মা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন ফেরেস্তাগণ তাঁর লাশ ইল্লিনে নিয়ে গিয়েছিলেন।সুত্রাবলীঃ (১) সহীহ বুখারী, (২) ইবন হাজার আশকালানীঃ ফাতহুল বারী, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ৩৯০, (৩) বাদরুদ্দীন আইনীঃ উমদাতুলক্বারী, ১৭ পৃঃ ১৭৩- ৭৪ (৫) ইবন আব্দুল আল ইসতিয়াব, (৬) ইবনুল আসীরঃ উসদুল গাবা, তৃতীয় খণ্ডঃ ৯০-৯১।

সুত্রঃ ক্রীতদাস থেকে সাহাবী

পরবর্তী গল্প
সালমান ফারসীর (রাঃ) প্রাথমিক জীবন

পূর্ববর্তী গল্প
ইক্ষু ক্ষেত্রে দন্ড

ক্যাটেগরী