আবু সালামা দম্পতির প্রতি কুরাইশদের নির্মম জুলুম | আমার কথা
×

 

 

আবু সালামা দম্পতির প্রতি কুরাইশদের নির্মম জুলুম

coSam ৯৫


হযরত আবু সালামা (রাঃ) তাঁর স্ত্রী পুত্রসহ মদীনায় হিজরতের জন্য প্রস্তুত হন। আবু সালামা দম্পতি তাদের শিশু পুত্রসহ উষ্ট্রে আরোহণ করেছেন। এমন সময় আবু সালামার স্ত্রী উম্মে সালামার পক্ষের লোকেরা এসে তাঁদের যাত্রায় বাধা দিয়ে বলল, তোর যেখানে খুশি যা, কিন্তু আমাদের বংশের মেয়েকে নিয়ে যেতে পারবে না।

আবু সালামা বংশের লোকেরা উপস্থিত হয়ে বলল, হতভাগা! তোর কপাল তো পুড়েছে, কিন্তু তোর সাথে আমাদের বংশের একটা নিরপরাধ শিশুর কপালও আমরা কেন তোমার সাথে পুড়তে দিব। আমাদের বংশের ছেলে রেখে তুই যেখানে খুশী দূর হয়ে যা। এভাবেই পাষণ্ডরা হযরত আবু সালামা (রাঃ)-এর স্ত্রী ও পুত্রকে তাঁর নিকট থেকে তারা ছিনিয়ে রাখে।

শিশুর কাতর ক্রন্দন স্বামী-পুত্র বিচ্ছদের অবলা নারীর করুন আর্তনাদ কুরাইশ নরপশুদের অন্তরে কোন রেখাপাত করেনি। তারা স্বামীর নিকট হতে স্ত্রীকে এবং মাতার কোল হতে দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে আনন্দরোল তুলে স্ব স্ব গৃহআভিমুখে রওয়ানা দেয়। এমন একটা মর্মবিদারী অবস্থার শিকার হয়ে স্ত্রী পুত্রকে মক্কায় রেখেই হযরত আবু সালামা (রাঃ) মদীনাভিমুখে রওয়ানা করেন। হযরত উম্মে সালামার (রাঃ) তখনকার অবস্থার কথা এতই হৃদয়বিদারক যে, তা কোন লিখনীতে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তিনি বর্ণনা করেন, সে স্থানে আমাকে স্বামী ও দুগ্ধপোষ্য শিশুর বিচ্ছেদ চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, দীর্ঘ এক বছর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি সেখানে উপস্থিত হতাম আর স্বামী সন্তানের বিচ্ছদের কথা স্মরণ করে প্রাণভরে কাঁদতাম। প্রত্যহ আমার এহেন কান্নাকাটি দেখে এক চাচাত ভাইয়ের মনে দয়ার সঞ্চার হয়। তিনি আমার স্বজনদেরকে নানাভাবে বুঝিয়ে অনুরোধ উপরোধ করে আমাকে মদীনায় স্বামী সন্নিধানে প্রেরণে সম্মত করেন।

আবু সালামার স্বজনরাও শিশু পুত্রটিকে আমার সাথে যেতে দিতে সম্মত হয়। অবশেষে আল্লাহর নাম স্মরণ করে শিশু পুত্রকে উটে আরোহণ করে মদীনাভিমুখে যাত্রা করি। সুদীর্ঘ পথ তদুপরি অচেনা অজানা পাথেয় বলতে কিছুই নেই। তবুও ভরসা, যে মহান আল্লাহ নরাধম কুরাইশদের হাত থেকে আমাকে মুক্ত করে দিয়েছেন, তিনি অবশ্যই আমাকে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাবেন। পথে ওসমান বিন তালহা নামক এক সহৃদয় ব্যক্তির সাথে আমার দেখা হয়। তিনি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সাথে কে যাচ্ছে? আমি বললাম, এ শিশু পুত্র আর আল্লাহ। এ জবাবে ওসমান বিন তালহার হৃদয় মন কেঁপে উঠে। তিনি আমাকে সাথে করে মদিনায় পৌঁছে দেন।

 

পরবর্তী গল্প
মসজিদে নববী নির্মাণ

পূর্ববর্তী গল্প
হেশাম ও আইয়্যাশের উপর কুরাইশদের অত্যাচার

ক্যাটেগরী