আবু তালিবের কাছে কুরাইশদের প্রস্তাব | আমার কথা
×

 

 

আবু তালিবের কাছে কুরাইশদের প্রস্তাব

coSam ১০৫


উল্লেখিত ঘটনার পর তাদের শত্রুতা আরো তীব্র আকার ধারণ করল। এদিকে নবী কারীম (সাঃ) আল্লাহর উপর ভরসা রেখে প্রচারে পূর্বাপেক্ষা বেশি পরিমানে লিপ্ত হন। কাফেররা আবার আবূ তালিবের গৃহে উপস্থিত হয়ে প্রস্তাব করল, হে আবু তালিব! তোমার ভ্রাতুষ্পুত্র ক্ষমতার লোভে এরূপ করলে সকলে আমরা তাকে রাজমুকুট পরিয়ে দিব। সুন্দরী রমণীর লোভে করে থাকলে বল, আমরা তাকে আরবের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সবচেয়ে সুন্দরী যুবতীর সাথে বিয়ে করিয়ে দেব।

তুমি কি বাপ দাদার ধর্মে কলঙ্ক সৃষ্টি করতে চাও? আমরা বছরে তিনশত ষাট দিনের জন্য তিনশত ষাট জন মাবুদের ইবাদত করেও শান্তি পাচ্ছি না। তার কথায় একজন মাবুদ মানলে আমাদের উপায় কি হবে? তিনশত ষাট জনে যা সুষ্ঠভাবে আঞ্জাম দিতে পারে না একজন কি করে এটা আঞ্জাম দিবে।

হে আবু তালিব! হয় তুমি থামিয়ে দাও। নতুবা তুমি তার মধ্য হতে সরে দাঁড়াও, নচেৎ আমরা খোলা মাঠে এর ফয়সালা করব। এতদিন আমরা তোমার খাতিরে প্রকাশ্য যুদ্ধ হতে বিরত রয়েছি। আমরা আর সহ্য করব না। এটাই আমাদের চূড়ান্ত ফায়সালা এবং চরম ঘোষণা। আবু তালিব তাদের চরম বাণী শুনে অত্যন্ত মর্মাহত হল। আবু তালিব প্রাণ প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্রকে ডেকে বলেন, আমার উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দিও না, যে বোঝা আমি বহন করতে অক্ষম। আমি আর কুরাইশদেরকে দমন করে রাখতে পারছি না। তারা চরমপত্র দিয়েছে। তারা সুযোগ সুবিধা তাদের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে। কেবলমাত্র নতুন ধর্ম প্রচার হতে নিভৃত্ত থাক। অন্যথায় আর আমার পক্ষে তোমার সঙ্গে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

নবী কারীম (সাঃ) চাচার মুখের দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর দুনয়ন অশ্রুপূর্ণ হয়ে পড়ল। তিনি অশ্রুশিক্ত নয়নে, চাচার প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, হে চাচাজান। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন আমি পিতৃহারা হয়েছে। পিতার স্নেহ মমতা কেমন কিছুই বুঝতে পারিনি। অতি শৈশবে মাতার স্নেহ হতেও বঞ্চিত হলাম। দাদার স্নেহে দু'বছর কালাতিপাত করার পর আট বছর বয়স হতে আপনার পিতৃতুল্য স্নেহ মমতায় অতীতের সব দুঃখই ভুলে গেছি।

আজ আপনিও আমাকে ছেড়ে যেতে চাইলে যেতে পারেন। তবে আপনি দৃঢ়বিশ্বাস রাখেন, দুনিয়ার সব লোক যদি আমার কাছ হতে চলে যায়, তবুও আমি কর্তব্য-ভ্রষ্ট হব না। তারা আমার এক হাতে সূর্য এবং অপর কাছে চন্দ্র এনে দিলেও আমি কালিমার দাওয়াত ছাড়ব না। রাসূল (সাঃ) তাঁর নীতির প্রতি দৃঢ়তা প্রকাশ করলে চাচা আবু তালিব অভিভূত হয়ে পড়লেন। এতীম ভ্রাষ্পুত্রের ক্রন্দনে চাচার চোখের পানি বন্ধ রাখতে পারলেন না। তিনি বলেন, তুমি নিশ্চিত থাক, আমি জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তোমার সঙ্গে থাকব।

তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও। প্রয়োজনে আমিও তোমার জন্য উৎসর্গ হয়ে যাব। রাসূল (সাঃ)-কে ইসলাম প্রচারে বিরত করতে না পেরে কুরাইশরা তাঁকে প্রকাশ্য নির্যাতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করল। এমনকি তার প্রাণ নাশের প্রচেষ্টা চালাতে শুরু করল। তাঁর চলার পথে কাটা ফেলে রাখত। নামাজে দাড়ালে পশুর নাড়িভুঁড়ি নিক্ষেপ করত। একবার তিনি হেরেম শরীফে নামাজ পড়ছিলেন, যখন সিজদায় যান ওকবা একটি উটের নাড়িভুঁড়ি তাঁর ঘাড়ের উপর চাপিয়ে দিল। রাসূল (সাঃ) সিজদা থেকে মস্তক উত্তোলন করতে পারছেন না।

হযরত ফাতেমা তখন ছয় বছরের শিশু। সংবাদ পেয়ে দ্রুত ছুটে আসলেন এবং প্রাণের আব্বাজানের ঘাড় মোবারক হতে উক্ত নাড়িভুঁড়ি সরিয়ে দেন। আর একদিন ওকবা তাঁর গলায় চাদর পেঁচিয়ে এত জোরে টান দিল যে, তিনি উপুড় হতে পড়ে গেলেন। এভাবে তাদের জঘন্য প্রতিহিংসায় তাঁকে অশেষ যন্ত্রণা সহ্য করতে হত। 

পরবর্তী গল্প
ওলীদ দিন মুগিরা কে দ্বীন কবুলের আহবান

পূর্ববর্তী গল্প
প্রথম ওহী

ক্যাটেগরী