আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – শেষ পর্ব

coSam ১২৪


আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

দৈবজ্ঞ রমনীর বিজ্ঞসুলভ পরামর্শ অনুযায়ী তাঁরা গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর উট ও আবদুল্লাহর মধ্যে লটারী দিতে শুরু করিলেন। পরিশেষে যখন দশবার দশ দশটি উট যোগ করে মোট একশ উট ও আবদুল্লাহর মধ্যে লটারী অনুষ্ঠিত হল আল্লাহর অপার মহিমা বুঝার সাধ্য কারোর নেই। এবার উটের নাম উঠল। খাজা আবদুল মুত্তালিব তখন একশ উট জবেহ করে মিসকীনের মধ্যে বিতরণ করে দেন এবং পুত্র আবদুল্লাহকে জবীহুল্লাহ বলা হয় এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজেই বলেছেন, আনা ইবনুজ জাবীহাইন।

অর্থাৎ আমি জবেহ হওয়া দুই ব্যক্তির পুত্র। একজন হযরত ইসলাঈল আঃ এবং অপরজন আবদুল্লাহ। ঐতিহাসিকদের কারো কারো মতে খাজা আবদুল মুত্তালিব একদিন কাবাগৃহের আঙ্গিনায় নিদ্রিত অবস্থায় এক খাব দর্শন করেন। কে যেন তাঁকে বলছেন, তুমি তৈয়্যেবা খনন কর। দ্বিতীয় রাতেও অনুরূপ বলেন, তুমি বাররা খনন কর। তৃতীয় রাতেও তদ্রুপ বলেন, তুমি মাছনুনা খনন কর। কিন্তু তিনি এই সব খাবের কোন অর্থই খুজে পেলেন না।

মূলতঃ এ তিনটি নামই ছিল জমজম কূপের। তৈয়্যেবা অর্থ পবিত্র। বাররা অর্থ নেক এবং মাসনুনা অর্থ সংরক্ষিত। চতুর্থ রাত্রে পুনরায় অনুরুপ স্বপ্ন দেখার পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তা কি? উত্তর হল, তা জমজম কূপ। যার পানি নিঃশেষ হয় না, যার গভীরতার শেষ নেই। আর যা কখনও শুকায় না। যা থেকে পানি পান করায়। জিজ্ঞেস করলেন, তার স্থান কোথায়। তখন তাঁকে তার নির্দিষ্ট স্থান সম্বন্ধে অবগত করা হল।

তিনি প্রত্যুষে স্বীয় পুত্র হারেসকে নিয়ে উক্ত কূপ খনন করতে চেষ্টা করলে কোরাইশরা বাধা দিল এবং বলল আমাদেরকেও এ কাজে শরীক করতে হবে। খাজা আবদুল মুত্তালিব সম্মত হলেন না। পরে তারা বলল, সিরিয়াতে একজন দৈবজ্ঞ মহিলা আছেন তার কাছে চলুন সে যা বলবে সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে। আবদুল মুত্তালিব তাদের সাথে রওয়ানা দিলেন। পথিমধ্যে আবদুল মুত্তালিব এর পাত্রের পানি শেষ হয়ে গেল তিনি কাফেলার অন্যান্য লোকদের কাছে পানি চাইলেন। কিন্তু তারা পানি পান দিতে অস্বীকৃতি জানাল। অগত্য আবদুল মুত্তালিব পানির তালাশে কাফেলা হতে আলাদা হয়ে গেলেন। কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর তাঁর উটের পায়ের নীচ হতে পানি বের হতে লাগল।

তিনি নিজে সেখানে থেকে পানি পান করলেন ও কাফেলার সকল ব্যক্তিকে ডেকে পানি দিলেন। এটা দেখে সকলে বলল, আর সে মহিলার কাছে গমনের কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের বিশ্বাস হয়েছে আপনিই একমাত্র জমজম কূপ খননের হকদার। কেননা যে খোদা আপনাকে মরু অঞ্চলে পানি দান করছেন তিনি আপনাকে জমজম কূপের পানিও পান করাবেন।

তখন তারা সকলে সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করে। তিনি পুত্র হারেসকে নিয়ে খনন কার্যে লিপ্ত হন। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকেন, হে রব! তুমি যদি এ কাজে আমাকে সফলতা দান কর আর আমাকে দশটি পুত্র সন্তান দান কর তবে আমি একটি পুত্র তোমার নামে কোরবানী করব।

আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

পরবর্তী গল্প
হযরত খাদীজার বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্বে আল আমিন

পূর্ববর্তী গল্প
আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – পর্ব ২

ক্যাটেগরী