আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – পর্ব ২

coSam ১১৩


আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এইভাবে জমজম কূপের পুনরুদ্ধারের সৌভাগ্য তিনি অর্জন করলেন। জমজম কূপ পুনরুদ্ধারের আনন্দে আবদুল মুত্তালিবের জয়ধ্বনি ধ্বনিত হতে লাগল। এ ঘটনায় আবদুল মুত্তালিবের সম্মান বহুগুণে বৃদ্ধি পেল। কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র জগতের মানব জাতির উপর অক্ষয় গৌরবের অধিকারী হয়ে গেলেন। অনন্তর আল্লাহ তাআলা খাজা আবদুল মুত্তালিবকে একে একে দশটি পুত্র সন্তান দান করলেন। যাদের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ ছিলেন আবদুল্লাহ।

এমন সময় স্বপ্ন দেখেন কে যেন তাঁকে বলছে, হে আবদুল মুত্তালিব! পবিত্র কাবাগৃহের মালিকের জন্য তোমার মান্নাত পূর্ণ কর। খাজা আবদুল মুত্তালিব জমজম কূপ উদ্ধার কালে যে মান্নাত করেছিলেন সে পুরানো মান্নতের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। স্বপ্ন দেখার পর তাঁর চেতনা হল। তিনি প্রথম একটি দুম্বা জবেহ করে কুরবানী দিলেন এবং মিছকীনকে খাওয়ালেন। কিন্তু পর রজনীতে আবার স্বপ্নে দেখলেন, এটা হতে ভাল ও উত্তম প্রাণী কুরবানী কর।

এ দিনে প্রত্যুষে তিনি একটু গরু কোরবানী করে দিলেন। কিন্তু পরবর্তী নিশীতে আবার পূর্বানুরূপ স্বপ্ন দেখেন এবং একটি উট কোরবানী করেন। কিন্তু এতেও হল না। চতুর্থ রজনীতেও অনুরূপ স্বপ্ন দেখেন। তখন তিনি নিদ্রাবস্থায় এ ব্যক্তির নিকট আবেদন করেন আপনি বলে দিন, আমি কোন জিনিস কোরবানী দিলে কাবা ঘরের মালিক সন্তুষ্ট হবেন। ঐ ব্যক্তি বলল, তোমার পুত্রকে কুরবানী কর যাদের তুমি মান্নত করেছিলেন।

এ স্বপ্নের পর আবদুল মুত্তালিব খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন প্রাতেই তিনি স্বীয় পুত্রদেরকে ডেকে স্বপ্নের বৃত্তান্ত তাদের সামনে পেশ করলেন। পুত্ররা সকলেই সন্তুষ্টচিত্তে আদি পিতা ইসমাইলের ন্যায় পিতার ছুরিতে জবেহ হওয়ার জন্য অপ্রত্যাশিত আগ্রহ ও সম্মতি প্রকাশ করল। পিতার প্রতি পুত্রদের অবাধ ভক্তি দেখে খাজা আবদুল মুত্তালিব খুবই আনন্দ লাভ করলেন। তিনি লটারী দিলেন। এতে খাজা আবদুল্লাহর নাম আসল।

হযরত আবদুল্লাহ পিতার শানদার ছুরির নীচে হযরত ইসমাইল (আঃ) এর স্বীয় গ্রীবা পেতে দিলেন। আবদুল মুত্তালিবও আল্লাহর এশকের শরাব পান করে বেখাদ হয়ে গেলেন এবং পুত্রকে কোরবানী দেয়ার প্রস্তুতি নিলেন। কিন্তু আবদুল্লাহর কোমল চেহারা সমগ্র আরববাসীকে পূর্ব হইতে মুগ্ধ করে রেখেছিল। সকলের অন্তরে তাঁর স্নেহ, মমতা আর মহব্বতের অগ্নি প্রজ্জ্বলিত ছিল। সমগ্র আরবে হাহাকার রব পড়ে গেল। চতুর্দিক হতে দলে দলে লোক এসে খাজা আবদুল মুত্তালিবকে বাধার পর বাধা দিয়ে যেতে লাগল। বিশেষ করে আবদুল্লাহর মার্তৃকুল বনী মাখজুম কিছুতেই ছুরি চালাতে দিলেন না। আবদুল মুত্তালিব এখন নিরুপায় হয়ে গেলেন। তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তা হলে আমার মান্নত আদায় করার উপায় কি? তারা বলল, আমাদের এলাকায় একজন দৈবজ্ঞ মহিলা আছেন, চলুন আমরা সকলে তার নিকট যাই।

ঐ মহিলা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের মধ্যে যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে তা হলে হত্যার বিনিময়ে কি দিয়ে আদায় করে থাকেন। আবদুল মুত্তালিব বলিলেন, আমরা এক হত্যার বদলে দশটি উট দিয়ে থাকি। স্ত্রীলোকটি বললেন, তা হলে আপনি দশটি উট ও আবদুল্লাহর মধ্যে লটারী করুন উটের নাম উঠলে দশটি উট কুরবানী করে দিবেন। আর আবদুল্লাহর নাম উঠলে আরও দশটি উট যোগ করে লটারী দিবেন। যে পর্যন্ত উটের নাম লটারীতে না উঠবে সেই পর্যন্ত দশটি করে উট বৃদ্ধি করতে থাকবেন।

আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

 

পরবর্তী গল্প
আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – পর্ব ১

ক্যাটেগরী