আনসার ও মুহাজিরদের অনৈক্য সৃষ্টির চক্রান্ত | আমার কথা
×

 

 

আনসার ও মুহাজিরদের অনৈক্য সৃষ্টির চক্রান্ত

coSam ১২৩


বনী মুস্তালিক অভিযান শেষে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কয়েকদিন মুরাইসী কূপের পাশে অবস্থান করেন। এ সময় একদিন পানি পান করাকে কেন্দ্র করে হযরত ওমর (রাঃ) এর গোলাম জাহজাহ (রাঃ) এবং আনসার দলের মিত্র সেনান (রাঃ) এর মধ্যে বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে জাহজাহ (রাঃ) সেনান (রাঃ) কে সজোরে আঘাত করেন।

এতে তাঁর দেহ হতে রক্তপাত হতে থাকে। সেনান (রাঃ) উচ্চ রবে আনসার দলকে এবং জাহজাহ (রাঃ) মুহাজির দলকে সাহায্য করার জন্য আহবান করেন। উভয়পক্ষে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরষ্পরের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হয়। মুনাফিক সব সময় মুসলমানদের মূলোৎপটনে চেষ্টার কোন ক্রুটি করেনি। যে কোন মুদ্ধাভিযানে পেছনে থাকতেই তাঁরা আগ্রহী ছিল।

অথচ বনী মোস্তালিক অভিযানকালে তাঁরা মুসলিম ও আনসার দলের দু ব্যক্তির ব্যক্তিগত ঝগড়াকে তাঁরা উভয় দলের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি ও ঐক্য বিনষ্ট করার সূর্বণসুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে উভয়ক্ষকে যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করার সাময়িক সাফল্যও লাভ করে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আনসার ও মুহাজিরদের বিরোধের সংবাদ পেয়ে তাঁদের মাঝে উপস্থিত হয়ে বলেন- তোমরা কি আবার জাহেলিয়াতের যুগে ফিরে যাবার ইচ্ছা কর। তিনি উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে স্ব স্ব অবস্থানে ফেরত পাঠান। এতে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়, কিন্তু মুনাফিকদের শয়তানী কর্মকাণ্ডে কোন প্রকার ভাটা পড়েনি।

মুসলমানদের মধ্যে আন্তকলহ সৃষ্টির পরিকল্পনা মাঠে মারা যেতে দেখে মুনাফিক দল আবদুল্লাহ বিন উবাই বেসালাম হয়ে বলেই বসল আমরা মদীনায় ফিরে গেলে ভদ্রলোকেরা ছোট লোকগুলোকে বিতাড়িত করবে। এহেন অশোভন উক্তি কোরআন করীমে সূরা মুনাফিকূনে আলোচিত হয়েছে।

পরবর্তী গল্প
তায়াম্মুমের আয়াত অবর্তীণ হওয়ার ঘটনা

পূর্ববর্তী গল্প
আবূ তালিবের উপত্যকায় মুসলমানরা অবরুদ্ধ

ক্যাটেগরী