আনসারদের উদারতা | আমার কথা
×

 

 

আনসারদের উদারতা

coSam ১০৮


মুহাজিরদের শূন্য হাতে মদীনায় আগমনের পর থেকে আনসারদের মেহমান হিসেবে জীবন যাপন করেছে। এ অবস্থায়ই রাসূলে পাক (সাঃ) আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দেন। সুতরাং এতদিন মুহাজিররা আনসারদের অথিতি হিসেবে দিন যাপন করলেও এখন আর তাঁরা অথিতি নন, পরস্পর সহোদর ভাই।

তাই আনসাররা বলনে- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের ভাইদেরকে বঞ্চিত করব কেন। আমাদের কৃষিক্ষেত, খেজুর বাগান, ঘরবাড়ী যা কিছু আছে তা সবই আধাআধি ভাগ বণিক সম্প্রদায়। সুতরাং তাঁরা কৃষি কাজ করবেন কিভাবে। তখন আনসাররা সিদ্ধান্ত নিলেন ভাই হিসেবে মুহাজিররা তো আমাদের বিষয় সম্পত্তির কৃষি কর্ম করে তাঁদেরকে অর্ধেক ফসল দিয়ে দিব। শুধু তাই নয়, আনসারদের যার একাধিক স্ত্রী ছিলেন, তিনি একজনকে ত্যাগ করে তাঁর মুহাজির ভাইকে দেয়ার প্রস্তাব দেন। এমনকি মুহাজির ভাইয়ের যে স্ত্রী পছন্দ হবে সে স্ত্রীকেই তাঁর জন্য তালাক দিবেন।

প্রথম দিকে মুহাজির মুসলমানদেরকে আনসারদের উত্তরাধিকার স্বত্ব পর্যন্ত দেয়া হয়েছিল। কোন আনসার মৃত্যু হলে দ্বীনী ভাই হিসেবে মুহাজির তাঁর উত্তরাধিকারী হতেন। পরবর্তীতে যখন মুহাজিররা আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে পায় তখন উত্তরাধিকারী বিধান রহিত হয়ে যায়।

আনসারদের সবাই যে অবস্থাপন্ন ছিলেন এমনও নয়, বরং তাঁদের মধ্যে এমনও অনেক গরীব ছিলেন, যিনি দিনকার আহার দিনে সংগ্রহ করতেন। কোরআনে আলোচিত একটি ঘটনা থেকে বিষয়টি জানা যায়।

একদিন এক অনাহারী ব্যক্তি ক্ষুধার তাড়নায় রাসূল (সাঃ)-এর কাছে এসে নিজের অবস্থা অবগত করান। রাসূল (সাঃ) প্রথমে নিজের ঘরে খোঁজ নিয়ে জানলেন একে দেয়ার তাঁর ঘরে কিছুই নেই। তাই তিনি সাহাবায়ে কিরামের মজলিসে বিষয়টি তুলে ধরেন। মজলিসে উপস্থিত সাহাবী হযরত আবু তালহা আনসারী (রাঃ) বলেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একে মেহমানদারী করব কিন্তু গৃহে ফিরে স্ত্রীর সাথে আলাপ করে পারলেন, শুধু তাঁদের সন্তানদের ক্ষুধা নিবারণের পরিমাণ খাবারই আছে।

তাঁরা নানা কৌশলে সন্তানদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন। এখন আরেক সমস্যা সামাজিক প্রথানুসারে মেহমানকে অবশ্যই মেহমানের সাথে খেতে বসতে হবে। কিন্তু দুজনের পরিমাণ খাদ্য তো নেই। স্ত্রী বলেন, ঠিক আছে, আমি রাতে ঠিক খাবার বাহানায় বাতি নিভিয়ে দিব আর আপনি মেহমানের সাথে বসে হাত নেড়ে খাওয়ার ভান করবেন। এভাবেই তাঁরা মেহমানদারী করলেন। তাঁদের প্রশংসায় ওহী নাযিল হল-

অর্থাৎ তাঁরা নিজেরা অভাবগ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও অন্যের অভাবকে নিজেদের অভাব অপেক্ষা অগ্রগণ্য মনে করে। সুতরাং কি অবস্থায় মহানুভব আনসাররা তাঁদের মুহাজির ভাইদের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, উল্লেখিত ঘটনা হতে তার সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। 

 

পরবর্তী গল্প
হজ্ব উপলক্ষে মক্কায় ইয়াসরিবের প্রতিনিধি দলের আগমন

পূর্ববর্তী গল্প
ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ আনসার ও মুহাজিররা

ক্যাটেগরী