অপরাধীদের প্রাণদণ্ড | আমার কথা
×

 

 

অপরাধীদের প্রাণদণ্ড

coSam ১২৫


রাসূল (সাঃ) ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতার বাইরে যারা পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে মৃতুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। এদের সংখ্যা সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। প্রখ্যাত হাদিসবেত্তা আল্লামা ইবনে কাইয়্যেমের মতে, মক্কা বিজয়ের দিন নয় জনের বিরুদ্ধে মৃতুদণ্ডাদেশ ঘোষিত হয়েছে। কারো কারো মতে মৃত্যু দণ্ডাদেশ প্রাপ্তদের সংখ্যা সতর। এদের মধ্যে ছয়জন স্ত্রীলোকও রয়েছেন।

অনেকে আবার উল্লিখিত সত্তর জনের মধ্যে যে ছয়জন নারীর কথা বলা হয়েছে, তা স্বীকার করেন না। তাদের মরে নারীর মৃতুদণ্ডাদেশ ঘোষণা এবং তা কার্যকর করা ইসলামের নীতির পরিপন্থী। ইবনে খাতলের গায়িকাদ্বয়ের এবং আরও অনেকের বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা করা হয়েছে তার কারণ বর্ণনায় বলা হয়েছে, তারা রাসূল (সাঃ)-এর কুৎসা রটনা করত এবং তাঁর সম্পর্কে অপমানজনক উক্তি করত এবং কুৎসা সম্বলিত গান গেয়ে বেড়াত এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয় এবং যথারীতি কার্যকর হয়।

এ মতের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন, তাদের যুক্তি হল ঐতিহাসিক ও হাদিসবেত্তারা একবাক্যে স্বীকার করেন, রাসূল (সাঃ) ব্যক্তিগত কারণে কারো বিরুদ্ধে কখনো কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তারা আরও বলেন, রাসূল (সাঃ)-এর কুৎসা রটনা, তাঁর সম্পর্কে অসম্মানজনক উক্তির জন্য যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যবস্থা গৃহীত হত তবে মক্কা বিজয়ের পর খুব কমসংখ্যক লোকেরাই বেঁচে থাকার কথা, হাতেগোনা দু'চার জন সর্বোপরি, যেনা, হত্যার বিনিময়ে অথবা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ ব্যতিত অন্য কোন অপরাধে কোন নারীর উপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে বলে ইসলামের ইতিহাসে পরিদৃষ্ট হয় না।

কাজেই এ অভিমত সত্য নয়। আর যারা এগার জনের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে পরে বেশ কয়েকজনই রাসূল (সাঃ)-এর নিকট হাজির হয়ে কৃপাদৃষ্টি লাভে সক্ষম হন। উদাহরণ তারা ইকরিমা বিন আবু জাহল, সাফওয়ান বিন উমাইয়া, হামযা (রাঃ)-এর হত্যাকারী ওয়াহশী এবং হজরত ওসমান বিন আফফান (রাঃ)-এর দুধ ভাই আবদুল্লাহ বিন সা'দ বিন আবী সারহ (রাঃ)-এর নামোল্লেখ করেন।

পরবর্তী গল্প
মেকইয়াসের অপরাধ

পূর্ববর্তী গল্প
মক্কা বিজয়

ক্যাটেগরী