অতি লোভ | আমার কথা
×

 

 

অতি লোভ

coSam ৯৬


এক যে ছিল লোভী শিয়াল। তার ছিল একটাই চিন্তা-ভাবনা -কখন কার মুরগীর বাচ্চা, বকরীর বাচ্চা চুরি করে এনে মজা করে খাবে।
একবার সে ভাবল -কোথায় যাবে, কেমন করে খাবার জোগাড় করবে, এই সব আর কি। এমন সময় তার সামনে দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল একটি চড়ুই পাখি। শিয়াল চড়ুইটিকে ধরে ফেললো।
এরপর পাখিটিকে বস্তায় ভরে নিলো সে। বস্তাটা পিটে চড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়লো।
পথ চলতে চলতে শিয়াল থমকে দাঁড়ালো এক বুড়ীর বাড়ীর সামনে। শিয়াল বুড়ীকে বললো, দাদী ! আমি তোমার এখানে আমার বস্তাটা রেখে যেতে চাই। একটু পরে এসে নিয়ে যাবো।
বুড়ী বললঃ যাওনা রেখে। কোন সমস্যা নেই।
শিয়াল বস্তাটা রেখে গেলে বস্তায় কি আছে দেখার জন্য বুড়ীর ভারী কৌতুহল হলো। সে চুপি চুপি বস্তার মুখটা খুললো। আর অমনি চড়ুই পাখি তার ভিতর থেকে ফুড়ত করে উড়ে গেল। বুড়ী শত চেষ্টা করেও চড়ুইটিকে ধরতে পারলো না।
কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো শিয়াল। বস্তাটা খুলে চড়ুইকে দেখতে না পেয়ে রেগে গেল সে। জিজ্ঞেস করলো বুড়ীকেঃ ওহে বুড়ী দাদী! আমার চড়ুই কই?
বুড়ীঃ ও বাপু ! বস্তায় কি আছে একটু দেখতে চেয়েছিলাম। মুখটা খুলতেই চড়ুই ফুড়ত করে উড়ে গেল।
শিয়ালঃ তাহলে এখন আমার ক্ষতিপূরণ দাও।
বুড়ীঃ তুমি কি চাও হে?
এমন সময় বুড়ীর একটি লাল মোরগ উঠানে ঘুর-ঘুর করছিল। শিয়াল খপ করে মুরগীটা ধরে বস্তায় ভরলো।
বুড়ীকে বললোঃ আমার চড়ুইর বদলে। তোমার মুরগীটা নিয়ে চললাম।
বুড়ী কাকুতি-মিনতি করে বললোঃ বাছা ! আমার হাউসের মুরগী নিয়ে যাস নে।
বুড়ীর কোন কথাই শুনলো না শিয়াল। মুরগীটা নিয়ে হনহন করে চলে গেল সে।
শিয়াল যেতে যেতে আরেক বুড়ীর বাড়ী গিয়ে উঠলো। দ্বিতীয় বুড়ীকে শিয়াল বললোঃ দাদী ! আমার এই বস্তাটা তোমার এখানে রেখে যেতে পারি কি? কিছুক্ষণ পর এসে নিয়ে যাবো।
দ্বিতীয় বুড়ীঃ  যাওনা রেখে। এত করে বলার দরকার কি !
শিয়ালঃ একটু সাবধানে রেখো। যেন ভিতরের জিনিস খোয়া না যায়।
দ্বিতীয় বুড়ীঃ তা আর বলতে হবে না।
চলে গেল শিয়াল। বুড়ী ভাবলো- নিশ্চয় বস্তার মধ্যে কোন দামী মাল আছে। খুলেই দেখা যাক না। যেই না বুড়ী খুললো বস্তার মুখ,? অমনি মুরগী এক লাফেই বেরিয়ে দিল দৌড়। কে পায় তার নাগাল? শত চেষ্টা করেও বুড়ী ধরতে পারেনি তাকে।
কিছুক্ষণ পরে শিয়াল ফিরে এসে বস্তা হাতে নিলো। বস্তা শূন্য দেখে তার মেজাজ গেল বিগড়ে। বললোঃ আমার মুরগী কোথায়?
দ্বিতীয় বুড়ীও বস্তায় কি আছে, একটু দেখার জন্য মুখটা খুলতেই কি যে হয়ে গেল দাদু!
আমি অতো শতো বুঝিনা। আমার ক্ষতি পূরণ চাই। এই বলে শিয়াল বুড়ীর একটা ছাগল ছানা ধরে বস্তায় ভরলো। তারপর তা উঠিয়ে হাঁটতে লাগলো। বুড়ীর কোন কাকুতি -মিনতিই সে কানে তুললো না।
এবার এসে হাজির হলো আরেক বুড়ীর বাড়ীর সামনে। শিয়াল বুড়ীকে বললো দাদী ! আমাকে একটু এক জায়গায় যেতে হবে। তাই এই বস্তাটা একটু রেখে যেতে চাই। বুড়ী বললোঃ নিশ্চয়ই রাখবে। এতে অসুবিধা কি?  
শিয়ালঃ ওহে দাদী ! ভিতরে দামী মাল। একটু দেখে রেখ। এ বলে শিয়াল বস্তা রেখে চলে গেল।
তৃতীয় বুড়ী বস্তায় কি আছে দেখার আগ্রহ চেপে রাখতে পারলো না। যেই না সে বস্তার মুখটা খুললো, অমনি ছাগল ছানাটা দৌড়ে পালালো। কোন ভাবেই বুড়ী ছাগল ছানাটাকে আটকাতে পারলো না।
একটু পরেই শিয়াল এসে হাজির। বস্তায় ছাগল ছানা দেখতে না পেয়ে শিয়াল তো রাগে অগ্নিশর্মা।
বুড়ীকে কিছু বলার অবকাশ না দিয়েই শিয়াল ক্ষতিপূরণ বাবদ বুড়ীর নাতীটাকে ধরে নিয়ে গেল। বুড়ী শত কান্নাকাটি করেও শিয়ালের কাছ থেকে তার নাতীকে উদ্ধার করতে পারলো না।
বস্তা কাঁধে শিয়াল হাঁটতে হাঁটতে উপস্থিত হলো আরেক বুড়ীর বাড়ী। এ সময় বুড়ী তার নাতীদের জন্য পিঠা বানাচ্ছিল। শিয়াল তার বাড়ীতে বস্তাটি রাখতে চাইলো। বুড়ি আনায়াসেই রাখার অনুমতি দিল। শিয়াল বস্তাটি রেখে কাজের ছুঁতোয় বাহিরে বেরিয়ে গেল।
এমন সময় বুড়ীর নাতীরা চেচিয়ে উঠে বললোঃ দাদী ! আমাদের খেতে দাও। বড্ডো ক্ষিদে পেয়েছে। পিঠার গন্ধ পেয়ে পূর্বে রবুড়ীর নাতীটাও বললোঃ দাদী! আমিও পিঠা খাবো। ক্ষিদে আমার পেট জ্বলে যাচ্ছে।
বস্তার ভিতর মানুষের কথা শুনে তাজ্জব বনে গেল বুড়ী। কোন রকম চিন্তা - ভাবনা না করেই বস্তার মুখটা খুলে দিল সে। আর ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো সেই বাচ্চা ছেলে।  
ছেলেটি অনুনয় করে বললোঃ দাদী ! আমাকে বাঁচান। শিয়াল চালাকী করে আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। সে আমাকে খেয়ে ফেলবে। বুড়ীর খুব দয়া হলো ছেলেটির জন্য। সে বুদ্ধি করে বস্তার মধ্যে তার একটি শিকারী কুকুর ঢুকিয়ে মুখ বেঁধে দিলো। আর পূর্বের বুড়ীর নাতীটাকে ঘরের এক কোণে লুকিয়ে রাখলো।
কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো শিয়াল। সে দেখলো- তার বস্তা ঠিকই আছে। ভারী লাগছে আগের মতো।
শিয়ালের আনন্দ আর ধরে না। হাটছে আর ভাবছে - এক্ষুনি মানুষের কচি গোশত খাওয়া যাবে। ক্ষিদেও লেগেছে বেশ।
গভীর জঙ্গলে এসে বস্তাটি খুললো শিয়াল। অমনি বাঘের মতো গর্জন করে বেরিয়ে এলো শিকারী কুকুর। শিয়ালের ঘাড় মটকে ধরলো সে।
শিয়াল অনেক অনুনয় বিনয় করলো, কিন্তু কুকুর শুনলো না। তাকে কামড়ে টুকরো টুকরো করে খেয়ে ফেললো। উচিত সাজা হলো লোভী শিয়ালের।

সূত্রঃ মুসলমানের হাসি

পরবর্তী গল্প
শিয়ালের স্বপ্ন

পূর্ববর্তী গল্প
উমার ভগ্মীর নির্দেশ আংশিক পালন করলেন

ক্যাটেগরী